২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ইংরেজী

বৌদ্ধধর্ম ও বিজ্ঞান

চর্যাপদ : বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন

চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদর্শন। নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতম রচনা এটি। খৃষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীতের শাখাটির সূত্রপাতও এই চর্যাপদ থেকেই হয়। অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার সাথে অনেক মিল থাকায়, অসমীয়া এবং উড়িয়া ভাষারও আদি নিদর্শন হিসেবে দাবী করেন অনেক ভাষা…

বৌদ্ধধর্ম দুঃখবাদের ধর্ম নাকি দুঃখ নিবৃত্ত করার চরম পন্থা ?

আমরা অনেকেই বলে থাকি বৌদ্ধধর্ম দুঃখবাদের ধর্ম । এ নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্কেও জড়িয়ে পড়ি । আসুন জেনে নিই তথাগত বুদ্ধ দুঃখবাদের স্বপক্ষে-বিপক্ষ এবং এর নিরোধ নিয়ে কি মহা-ঔষধ আবিষ্কার করেছেন । জীবনের বেলাভুমিতে নিরন্তর আছড়ে পড়ছে একটার পর একটা দুঃখের উর্মি । এক দুঃসহ বিয়োগকাতরতা ও দুঃখানুভুতির মর্মদাহে মানবজীবন প্রতিনিয়ত প্রজ্জ্বলিত । জীবনের সাথে দুঃখের এই নিবিড়তর সম্পর্কই গৌতম বুদ্ধকে তাঁর প্রাথমিক জীবনে ভাবিয়ে তুলেছিল। দুঃখের এ সর্বগ্রাসী প্রভাবের…

বৌদ্ধ ধর্ম ও বিজ্ঞান

বৌদ্ধ ধর্ম হল বাস্তবভিত্তিক সৎ জীবন যাপনের ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্ম বিজ্ঞানভিত্তিক সত্য ধর্ম।এ ধর্মে এমন কোনো গোপনীয়তা বা গোপন নীতি বা রহস্য নেই,যাএর অনুসারীদের কে অন্ধভাবে মেনে নিতে হবে। বুদ্ধ সব কিছু যাচাই করে গ্রহনকরার উপদেশ দিয়েছেন। সুতরাং বৌদ্ধ ধর্ম হল সৎ জীবনাচরণ-বিধি,যা এরঅনুশীলনকারীদের কে দুঃখ-কষ্ট তথা জীবন যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথে পরিচালিতকরে। অতএব, লোকসমাজে Religion বলতে সাধারণত যা বুঝায়,বৌদ্ধ ধর্ম সেই অর্থে Religion নয়। Religion এর আভিধানিক অর্থ “Human…

দশবিধ প্রশ্নোত্তর

দেবপুত্র কর্তৃক রাজা ব্রহ্মদত্তকে দশটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। যে প্রশ্নগুলোর উত্তরে বৌদ্ধধর্মীয় দশটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্নিহিত রয়েছে। দেখা যাক্ প্রশ্নগুলো কেমন- এক ব্যতীত দুই নেই, দুই ব্যতীত তিন নেই, তিন ব্যতীত চার নেই, চার ব্যতীত পাঁচ নেই, পাঁচ ব্যতীত ছয় নেই, ছয় ব্যতীত সাত নেই, সাত ব্যতীত আট নেই, আট ব্যতীত নয় নেই, নয় ব্যতীত দশ নেই এবং দশ ব্যতীত কিছুই নেই; এর মর্মার্থ কী? উত্তর : “এক ব্যতীত…

অষ্ট পরিক্খার দানের পূণ্যফল বর্ণনা

বুদ্ধ শাসনে প্রব্রজিতগণের অপরিহার্য্য, ব্যবহার্য পোষাক পরিচ্ছদই হচ্ছে অষ্ট পরিক্খার। অষ্ট পরিক্খা যথা- ১) সঙ্ঘাটি ২) উত্তরাসঙ্গ ৩) অন্তর্বাস ৪) কটিবন্ধনী ৫) পিণ্ডপাত্র ৬) ক্ষুর ৭) সুঁই-সুতা এবং ৮) জল ছাঁকনী। এ আটটি উপকরণের সমন্বয়ে গঠিত অষ্ট পরিক্খার যেকোন দায়ক-দায়িকা শ্রদ্ধা-প্রসন্ন চিত্তে বুদ্ধ শাসনে প্রব্রজিতগণকে দান করতঃ জন্ম-জন্মান্তরে ভোগশালী, ধনশালী, প্রজ্ঞাবান, প্রত্যুৎপন্নমতি, শাস্ত্র বিশারদ ইত্যাদি সহ সুন্দর-লাবণ্যময় রূপ সম্পদ লাভ করে থাকেন। এক কথায় বলতে গেলে অষ্ট পরিক্খার দানের ফলে…

বৌদ্ধ ধর্মে সৃষ্টিকর্তার ব্যাখা কিরুপ?

প্রথমে বুঝতে হবে ঈশ্বর কি। কারন অন্য ধর্ম গুলোতে ঈশ্বরকে ব্যাক্তি (Person) হিসেবে নেওয়া হয় আর ঈশ্বর এর অর্থ ওদের কাছে ; Generator (সৃষ্টিকারী), Operator (পরিচালনাকারী) and Destructor (ধ্বংসকারী) সংক্ষেপে GOD। যা একটা being বা person। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মে Generator operator and Destructor হচ্ছে পাঁচটা Universal Rules বা Cosmic order যার দ্বারা এই universe পরিচালিত হয় আর এ ক্ষেত্রে এটি কোন ব্যাক্তি বা সত্ত্বা নয়। আর বুদ্ধ Hindu and other…

বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ও পরিণতি

‘বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি, ধম্মং সরণং গচ্ছামি, সংঘং সরণং গচ্ছামি’ - এই মন্ত্রই বৌদ্ধধর্মের মূলমন্ত্র। কোটি কোটি মানুষ এই মন্ত্রোচ্চারণ করে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। ভগবান বুদ্ধ নির্দেশিত শীলাচারণ, মঙ্গলপ্রার্থনা তথা তাঁর সমগ্র জীবনই এই ধর্মে দীক্ষিত হলে যে প্রভাবিত করে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আপন মুক্তি বুদ্ধের প্রার্থনা ছিল না -বৃহত্তর জগতের স্বার্থে আপামর জনসাধারণের মুক্তির উপায় খুঁজতে এই করুণাঘন মহামানবের আবির্ভাব। তাঁর ব্যক্তিগত সংযম, সৌন্দর্র্য। গাম্ভীর্যপূর্ণ সুভাষণ অচিরেই জয় করে…

সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায়

সম্ভাবনাময় যুব সমাজ : অবক্ষয় এবং উত্তরণের উপায় জীবনকে জীবন্ত করে রাখতে, সমাজ-সংসারকে সতেজ করে তুলতে যৌবনের অবদান অনস্বীকার্য। এই মানব জীবনে যৌবনই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সময়। বিশ্বকবি তারুণ্যকে প্রকাশ করেছেন যৌবনের দূত হিসেবে। উজ্জ্বল-উচ্ছাস, দূরন্ত, চাঞ্চল্য, অনন্তউদ্দাম, অস্থির উদ্মদনা সাফল্যের সিগ্ধতা, ব্যর্থতার গ্লানি, প্রেম-বিরহ, পূর্বরাগ-অনুরাগ, আনন্দ-বেদনা, সৃষ্টিশীল কাজ, বিজ্ঞান ও প্রকৃতির উতকর্ষতার মাঝে জীবনকে মেলে ধরার পূর্ণ আলোক জ্যোতিময় প্রকাশ করার মহেন্দ্রক্ষণ হলো যৌবন। এক প্রিয় কবি বলেছেন-যৌবন যতোই আকর্ষনীয়…