২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৬ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
শনিবার, 28 মার্চ 2015 19:58

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বুদ্ধের নীতিকথা

লিখেছেনঃ এস. জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বুদ্ধের নীতিকথা

৪৬০ কোটি বছর আগে জন্ম নেয়া বর্তমান পৃথিবীটা অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ভরপুর। সাগর, গিরি, অরণ্য, বৈচিত্র্যময় ভূ-ভাগ এসব মিলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সুশৃঙ্খলতার বদৌলতে অপরাপর গ্রহ হতে পৃথিবী নামক এ গ্রহটি মানুষ তথা জীব বসবাসের জন্য একমাত্র উপযোগী গ্রহ বলে বিজ্ঞানের সিদ্ধান্ত। (বৌদ্ধ ধর্ম মতে কিন্তু একত্রিশ প্রকার লোকভূমি বিদ্যমান। যেমন মনুষ্য ভূমি, তির্যক বা পশু পাখি ভূমি, নরক, অসুর ও প্রেতভূমি, স্বর্গলোক ছয়টি, ষোল প্রকার রূপ ব্রহ্মভূমি ও চার প্রকার অরুপ ব্রহ্মভূমি)।

বৌদ্ধ সাহিত্যে বুদ্ধত্ব লাভের ক্ষেত্রে পৃথিবী নামক এই মনুষ্যভূমির গুরুত্ব আরো বেশী প্রকট, কেননা, একমাত্র মনুষ্যভূমি পৃথিবীই দশ প্রকার পারমী যথা- দান, শীল, ক্ষান্তি, বীর্য, নৈষ্ক্রম্য, প্রজ্ঞা, মৈত্রী, উপেক্ষা, সত্য ও অধিষ্ঠান পারমী পরিপূরণের সর্বোন্নত স্থান এবং প্রতিটি সম্যক সম্বুদ্ধগণ মনুষ্যভূমি পৃথিবী ব্যতীত অপরাপর ৩০টি লোকভূমিতে উৎপন্ন হন না। সুতরাং সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবী নামক গ্রহটি ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্বপ্রাপ্ত।

পৃথিবীতে বাসরত মানুষ এই অপরূপ সুন্দর ও সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীটাকে দিন দিন অবাসযোগ্য করার জন্য নিজেদের জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে বিভিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে কর্ম সম্পাদন করছে। মানুষের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দ্বারা পৃথিবীটা যে দিন দিন বিভিন্ন দিক্ হতে দূষিত, কলুষিত ও অবাসযোগ্য হচ্ছে এগুলোর মধ্যে অন্যতর হল প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি নির্যাতন।

বৃক্ষের রোপণ কম, মাত্রাতিরিক্ত বৃক্ষনিধন, গ্রীন হাউস গ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার করার দরুণ পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। যেখানে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের ২০-২২% বনভূমি থাকা দরকার সেখানে বর্তমান পৃথিবীতে রয়েছে মাত্র ১৭%। পৃথিবীর গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল +১৫০ সে. কিন্তু নির্বিচারে অরণ্য বিধ্বংস এবং কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ক্লোরোফ্লেরো কার্বন প্রভৃতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার যুদ্ধ-বিগ্রহ পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা, কলকারখানার বিভিন্ন ধোঁয়া, বর্জ্য ইত্যাদি কারণেও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান হতে জানা যায় বর্তমান বিশ্বে পরমাণু বোমার সংখ্যা ২২, ৩৮৫টি, মানুষ পিছু বিস্ফোরক সংখ্যা ১৫ হতে ১৬ টন। এবং এও জানা যায় যে হাজার বছরের ইতিহাসে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ ২৮০ পার্টি পার মিলিয়ন এ স্থির ছিল। এই সময় গড় তাপমাত্রা ও ১৩.৮০ সে. এর কাছে স্থিতিশীল ছিল। ২০০৭ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮০ পার্টি-পার মিলিয়ন এবং গড় তাপমাত্রা হয়েছে ১৪.৪০ সে.। আবার কার্বন-ডাই-অক্সাইড একবার বায়ুমণ্ডলে গেলে তা ৫০ থেকে ২০০ বছর পর্যন্ত সেখানে গ্রীণ হাউস গ্যাস হিসেবে জমা থাকে এবং সে হিসেবে বর্তমানে যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড জমা হচ্ছে তা অর্ধ হতে দেড় শতাব্দীরও অধিককাল ধরে বায়ু মণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে থাকবে। ফলতঃ প্রাণী ও জীব জগতের জন্য অতিশয় ক্ষতিকারক সূর্যের অতি বেগুণীরশ্মিকে বাধা প্রদানকারী পৃথিবীকে ঘিরে থাকা ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মারাত্মক ভাবে। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে বায়ুুমণ্ডলের ওজোনস্তর হালকা হয়ে যাবার দরুণ এ এলাকার খাদ্য শৃংখল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্থ হবার কারণে অতি বেগুণীরশ্মি প্রভাবে মানুষের চোখে ছানি পড়া, হেপাটাটিস বি, সেরিব্রাল মেনিনজাইটিস, ক্যান্সার, পোলিও কলেরা প্রভৃতি সংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভিদের পাতা, ফল এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। আবার গ্রীণ হাউস প্রতিক্রিয়ার দরুণ হিমবাহ, অ্যান্টার্কটিকা,আর্কটিক ও হিমালয়ের বরফগুলো গলে গিয়ে সমুদ্র পৃষ্ঠে পানির উচ্চতা বাড়িয়েই চলছে। এবং সূর্য কিরণের প্রতিফলন কমে গিয়ে সমুদ্রে তাপমাত্রা আরো ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘধঃরড়হধষ অপধফবসু ঝপরবহপব এর গবেষকদের মতে ২০৮৭ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০-১০০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা (বাংলাদেশ), ভারতের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা সমুদ্র গর্ভে বিলীন হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির দরুণ ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়ে চলেছে। এবং তৎসংগে বাড়ছে প্রকৃতির হেয়ালিপনা। যেমন, বর্ষাকালে বৃষ্টি না হয়ে অন্য মৌসুমে বৃষ্টি হওয়া, শীতকালে কখনো তীব্র শীত আবার কখনো কম শীত অনুভূতি, মাত্রাতিরিক্ত তুষারপাত, গ্রীষ্মকালে অস্বাভাবিক গরম, অসময়ে বন্যা ইত্যাদি।

পরিবেশের এই ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের হাত হতে এই ধরিত্রীকে রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে। যেমন আন্তঃ সরকার ক্লাইমেট চেঞ্জ, আই.পি.সি.সি. গঠন (সংগঠনটি ১৯৮৮ সালে নোবেল বিজয়ী), ব্রাজিলে রাজধানী রি ও ডি জেনিরোতে ১৯৯২ সালে বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন, ১৯৯৭ সালে জাপানের কিয়োটোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন, ২০০৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি জলবায়ু সম্মেলন, ২০০৯ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলন। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে মালদ্বীপ সরকার কর্তৃক ২০ অক্টোবর ২০০৯ তে সাগরের তলদেশে এবং নেপাল সরকার কর্তৃক ৪ ডিসেম্বর ২০০৯তে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ান্ত কেবিনেট মিটিং করা হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও এর হার কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। এছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়নের জন্য ও বিভিন্ন বন ধ্বংস এবং আবাদী জমি নষ্ট করা হচ্ছে তার প্রতি উদ্বেগ জানিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লিখেছিলেন,

হে নব সভ্যতা, হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী
দাও ফিরিয়ে সে তপোবন ছায়ারাশি।

গৌতম বুদ্ধের বিভিন্ন উপদেশ, তাঁর জীবনাচরণ এবং আবাসস্থান ইত্যাদির প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে বর্তমানে যে উদ্বেগ বিদ্যমান তা কমিয়ে পৃথিবীতে কিভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বিদ্যমান রাখা যায় এবং কিভাবে প্রকৃতি পরিবেশ প্রেম আয়ত্ত করা যায় সেই শিক্ষা। বুদ্ধের জন্ম হতে তাঁর বিচরণ, বুদ্ধত্ব লাভ, নির্বাণ অবধি তিনি প্রকৃতির প্রতি একাকার হয়ে ছিলেন। বুদ্ধের জন্মের আগে বুদ্ধ মাতা শাক্যরাণী মহামায়া দেবী সিদ্ধার্থের জন্মের আভাস হিসেবে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাও ছিল প্রকৃতি অন্তর্গত।

রাণী দেখেছিলেন ধৃতরাষ্ট্র, বিরুঢক, বিরুপাক্ষ ও কুবের এই চারি লোকপাল দেবরাজ রাণীকে তাঁর পালঙ্কসহ হিমালয়ের শীর্ষস্থানে নিয়ে গিয়ে অনোবতপ্ত হৃদের (মানস সরোবর) জল দিয়ে স্নান করিয়েছেন। তৎপর তাঁকে বৃক্ষতলে রেখেছেন এবং পর্বত হতে শ্বেত বর্ণের হাতি এসে প্রস্ফুটিত শ্বেত বর্ণের পদ্মফুল শুড়েঁ নিয়ে রাণীর দক্ষিণ পার্শ্ব ভেদ করে প্রবিষ্ট হয়েছে। এতে দেখা যায় আজন্ম হতে বুদ্ধ প্রকৃতি অনুরাগী ছিলেন। এছাড়া মহৌষধ জাতকসহ বুদ্ধের বিভিন্ন পূর্ব জন্ম বৃত্তান্তে বুদ্ধ বৃক্ষ, লতা, পাতা, অরণ্যানী তথা সামগ্রিক প্রকৃতির সাথে নিবিড় বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন। বুদ্ধের জন্ম হয়েছে বর্তমান নেপালের অন্তর্গত কপিলবস্তুর লুম্বিনী নামক উদ্যানে শালবৃক্ষের মূলে। বৈশাখী পূর্ণিমায় সিদ্ধার্থ যে চারটি নিমিত্ত (বৃদ্ধ, রোগক্লিষ্ট, মৃত মানুষ ও সন্ন্যাসী) দেখে গৃহত্যাগের সংকল্প নিয়েছিলেন তাও উদ্যান ভ্রমণে বেরিয়ে। সিদ্ধার্থ গৌতম গৃহত্যাগ পূর্বক যখন কঠোর সাধনার নিমগ্ন হয়েছিলেন তখন তিনি শুধুমাত্র প্রকৃতিদত্ত দানের উপরই নির্ভরশীল হয়ে সাধনা করেছিলেন এবং বেঁচেছিলেন। মজ্জিম নিকায়ের মহাসিংহনাদ সূত্র হতে জানা যায়, সিদ্ধার্থ এই সময় বুনো ধান, তৃণ ধান, শাক, আলু ইত্যাদির খোসা, গরুর গোবর, শৈবাল ইত্যাদি আহার করে জীবন ধারণ করেছিলেন এবং শন, পাট, গাছের বাকল ইত্যাদি দ্বারা লজ্জা নিবারণ করেছিলেন। তিনি এ সময় লোকালয়ে আসেননি, বন হতে গভীর বনেই তিনি সাধনা করেছিলেন। সিদ্ধার্থের কঠোরতা ত্যাগ করে মধ্যপন্থা অনুশীলনের যে ভাবনা তাঁর অন্তরে উঠে এসেছিল তাতেও ছিল প্রকৃতি ঘনিষ্ঠতা। এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করতে গিয়ে পূর্বোক্ত মধ্যম নিকায়ের বোধিরাজকুমার সূত্রে বুদ্ধ বোধিরাজ কুমারদের বলেছিলেন, আমি(বুদ্ধ) কুশলের সন্ধান করতে গিয়ে উরুবেলার সেনানী গ্রামে রমণীয় ভূ-ভাগ দেখে, প্রসাদ উদ্দীপক বনভূমি দেখে, স্বচ্ছ জলযুক্ত নৈরঞ্জনা নদী দেখে সেই স্থানকেই সাধনার উপযুক্ত মনে করেছিলাম। সিদ্ধার্থের অন্তরে সেই নৈরঞ্জনা নদী তীরে ধ্যানে বসে তিনটি উপমা উদিত হয়েছিল, (১) জলে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় কাঠে আগুন জ্বলে না (২) জলে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় না হলেও জলে হতে দূরে থাকা ভেজা কাঠেও আগুন জ্বলে না (৩) শুধুমাত্র শুকনো কাঠেই আগুন জ্বলে অর্থাৎ ভোগ বিলাসে মত্ত থেকে ও সন্ন্যাসী হলেও অন্তর হতে শুকনো কাষ্টের জল শূন্যতার মতো লোভ দ্বেষ মোহ বিদূরণ করা না হলে তাতে দুঃখমুক্তি আসে না। ভোগ বিলাস বাদ দিয়ে, অন্তর হতে লোভ-মোহকে আমূলভাবে দূর করতে পারলেই নির্বাণ বা দুঃখ মুক্তি। এই কাঠের উপমাতেও বুদ্ধের প্রকৃতি সংলগ্নতা বিদ্যমান।

আবার বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বরাত্রিতে পূর্ব নিমিত্ত হিসেবে যে পাঁচটি স্বপ্ন সিদ্ধার্থ গৌতম দেখেছিলেন তন্মধ্যে প্রথমটি ও দ্বিতীয়টি ছিল প্রকৃতি সংলগ্ন। প্রথম স্বপ্নে হিমালয় পর্বতকে বালিশ এবং হাত পা সমুদ্রে অবস্থিত, যা আসমুদ্রহিমাচল তাঁর মহিমা বিস্তারের পূর্বলক্ষণ এবং দ্বিতীয় স্বপ্নে একটি অষ্টশাখা বিশিষ্ট বৃক্ষের স্বপ্ন যাতে অষ্টমার্গের রূপ বিবৃত আছে।

৫৮৯ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দের যেই বৈশাখী পূর্ণিমা রাতে সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্ব লাভের স্থান ছিল অশ্বত্থ বৃক্ষ বর্তমানে যেটি বোধিবৃক্ষ নামে খ্যাত। তিনি যেই আসনে বসে ধ্যান রমিত হয়েছিলেন সেই আসনটিও ছিল তৃণাসন। প্রকৃতির প্রতি অপরিসীম আন্তরিক সিদ্ধার্থ বুদ্ধত্ব লাভের পরপরই যেই বৃক্ষতলে তিনি বোধিজ্ঞান অধিগত করেছিলেন সেটিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সপ্তাহ অবধি অপলক নয়নে বৃক্ষটির দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলেন। অতঃপর বুদ্ধত্ব্ লাভের পঞ্চম সপ্তাহ ন্যাগ্রোধ বৃক্ষ তলে, ষষ্ঠ সপ্তাহ মুচলিন্দ হৃদে, সপ্তম সপ্তাহ রাজায়তন বৃক্ষতলে কাটিয়েছিলেন।

বুদ্ধ যেখানে সর্বপ্রথম ভিক্ষুসংঘ গঠন করেন এবং দেশনা করেন সেই ঋষিপতন মৃগদাবও ছিল অরণ্যাঞ্চল। শ্রেষ্ঠী অনাথপিন্ডিক, রাজা বিম্বিসার, অজাতশত্র“, স্থবির রেবত, সুভদ্র, উপালি, অনুরুদ্ধ, মহাকাশ্যপ, কৌণ্ডণ্য, বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম, যশ ও তাঁর বন্ধুবর্গ সমেত প্রায় সকল গৃহী ও সন্ন্যাসী শিষ্যদেরকে বুদ্ধ  প্রকৃতির কোলে বৃক্ষমূলে বা অরণ্যে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর বর্ষাবাস সমূহের মধ্যে ১ম বর্ষাবাস সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাব বনে, ২য়-৪র্থ  বর্ষাবাস রাজগৃহের বেণুবনে, ৫ম বর্ষাবাস বৈশালীর মহাবনে, ৬ষ্ঠ বর্ষাবাস বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের মুকুল পর্বতে, ১০ম বর্ষাবাস পারল্যেয় বনে, ১৩তম বর্ষাবাস বিহার রাজ্যের চালিয় পর্বতে, ১৪তম বর্ষাবাস শ্রাবস্তীর জেতবনে, ১৫তম বর্ষাবাস কপিলবস্তুর ন্যাগ্রোধারাম নামক রমণীয় উদ্যানে, ১৮-১৯তম বর্ষাবাস পূর্বোক্ত চালিয় পর্বতে, ২১তম-৪৪তম বর্ষাবাসের মধ্যে ১৮টি বর্ষাবাসই তিনি অনাথপিন্ডিক দত্ত শ্রাবস্তীর জেতবনেই কাটিয়েছেন। এখানেও দেখা যাচ্ছে গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবনের ৪৫টি বর্ষাবাসের মধ্যে ৩০টিই প্রকৃতির নিবিড়তম সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন।

বুদ্ধ তাঁর মঙ্গলসূত্র সমেত বহু সূত্র বা উপদেশ প্রদান করেছিলেন বনের বিহারগুলো ও অরণ্যানীতে। বুদ্ধের বিখ্যাত করণীয় মৈত্রী সূত্রে কাছের, দূরের, গর্ভস্থ সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী এবং মা যেমন তাঁর সন্তানকে স্বীয় জীবনপাতেও রক্ষা করেন তেমনি রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। যদ্বারা প্রাণীর প্রতি মৈত্রী শুধু নয় জীব বৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদও বিদ্যমান যাতে প্রাকৃতিক সংকট উত্তরিত হবার নির্যাস রয়েছে। পঞ্চশীল, দশশীল, অষ্টশীল, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী শীলের মধ্যেও প্রাণী নিধন কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছে। ভিক্ষুদের ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের যে বিধান বুদ্ধ কর্তৃক নির্দেশিত হয়েছে তারও অন্যতম কারণ হল সবুজ তৃণ, জমির ফসল, ছোট গাছপালা ও ক্ষুদ্র জীবন যাতে নষ্ট না হয়। ব্রহ্মজাল সূত্রেও বৃক্ষবীজ নষ্ট না করতে বলা হয়েছে। নন্দিবিলাস জাতকসহ বিভিন্ন জাতকে গৃহপালিত ও বন্য প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি, অঙ্গুত্তর নিকায়ে অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ, দীর্ঘ নিকায়ের চক্কবত্তী সিংহনাদ সূত্রে পশুপাখির আবাস স্থান নিরাপদ রাখতে, প্রাণীদের রক্ষা করতে বলা হয়েছে। ভিক্ষুদের পারাজিকা অর্থাৎ ভিক্ষু ধর্ম হতে চ্যুতিমূলক অপরাধকে বুদ্ধ বৃক্ষের ছিন্ন ডগা প্রভৃতির সাথে তুলনা করেছেন। বুদ্ধের বোধিসত্ত্ব জীবনকথা জাতক কাহিনীর বিবরণ বাদ দিলেও ইহ জীবনে বুদ্ধত্ব লাভের পূর্বাবস্থায় বিবরণে দেখা যায় মগধের রাজা বিম্বিসারের পুত্র কামনায় যজ্ঞের জন্য আনীত ছাগ শিশুর জন্য তিনি নিজের জীবন দিতেও উদ্যত হয়েছিলেন। এতেও তাঁর জীব বৈচিত্র্য তথা পরিবেশ প্রেম সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায়।

অদত্তদ্রব্য গ্রহণ হতে বিরতি জনিত শীলও শিক্ষা দেয় যে, বর্তমান মানুষের দ্বারা পরিবেশ বিনষ্ট করা মানে হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের কাছ হতে প্রকৃতি পরিবেশ ছিনতাই করা। এবং বর্তমানে অবাধ নগরায়নের নামে বহুতল ভবন বৃদ্ধির দরুণও শিশুদের পরিবেশ চুরি হচ্ছে। ব্যভিচার ও মিথ্যাবাক্য বিরতি শীলে নিজের মাঝে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে পরিবেশের প্রতি সহানুভূতিশীল হবার উপদেশ নিহিত আছে। নেশাপান বিরতি শীলে সবার আগে নিজেকে ভালবেসে নেশাসেবন বিরতির কথা বলা আছে এবঙ নিজেকে ভালবাসার অন্যতম উদ্যোগ হল জীব বৈচিত্র্য তথা পরিবেশ ধ্বংস না করা।
রতন সূত্রে ধর্মরতেœর মহিমা বুঝাতে উল্লেখ হয়েছে, গ্রীষ্মের প্রথম চৈত্র মাসে বনের লতা গুল্মাদিতে বনজ কুসুম প্রস্ফুটিত হলে বন যেমন সুশোভিত হয় তেমনি শীল সমাধি প্রজ্ঞারুপ কুসুমের দ্বারা বুদ্ধগণ জগৎ কল্যাণ মানসে ধর্মরতœ প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে বিভিন্ন সূত্রে বুদ্ধ বৃক্ষ, ফুল,লতা, গুল্মের উপমা প্রদানে উপদেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে অরণ্য সবুজ প্রকৃতির প্রশংসা করেছেন। সূত্রপিটকের খুদ্দক নিকায়ের দ্বিতীয় গ্রন্থ ধর্মপদে তো প্রকৃতি অন্তর্গত পুষ্পবর্গ নামে ১৬টি গাথা সম্বলিত ১টি বর্গও বিদ্যমান যাতে বৃক্ষ, ফুল, লতা-পাতা, বন ইত্যাদি উপমা হিসেবে এসেছে।
বুদ্ধের যে মহানির্বাণ তাও সংগঠিত হয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশীনগরের মল্লদের যুগ্ম শালতরুর মাঝখানে শায়িত অবস্থায় এবং পুরো স্থানটি ছিল শালবন। মোদ্দা কথায়, বুদ্ধের সমগ্র জীবনটাই ছিল প্রকৃতিময়, নিসর্গঋদ্ধ।

বুদ্ধ প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মে প্রকৃতি এবং মানুষকে আলাদা হিসেবে না দেখে একটিকে অপরটির পরিপোষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রখ্যাত থাই বৌদ্ধ ভিক্ষু বুদ্ধাদাসা(Bhikkhu Buddhadasa) মহোদয়ের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন,  The entire cosmos is a cooperative. The sun, the moon and the stars live together as a cooperative. The same is true for humans and animals, trees and the earth. When we realise the world is a mutual, interdependent, cooperative enterprise then we can build a noble environment. অর্থাৎ সমগ্র মহাবিশ্বই পরস্পর সহযোগী। সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্রগুলো সহযোগী হয়ে টিকে আছে। মানুষ এবং গাছপালা, জীব-জন্তু এবং পৃথিবীর ক্ষেত্রেও কথাটি সমভাবে সত্য। যখন আমরা বুঝব বিশ্বটা পারস্পরিক, একে অপরের উপর নির্ভরশীল ও সহযোগী উদ্যোগ তখনই আমরা সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলতে পারব।

বুদ্ধ বিনয়পিটের পাচিত্তিয় গ্রন্থের উদ্ভিদ বর্গের প্রথমেই ভিক্ষুদের অনুজ্ঞা দেন, মূলবীজ অর্থাৎ হরিদ্রা, আদা বচা (এক প্রকার ফুল), অতিবিসা (এক জাতীয় গাছ বা লতার ঔষধ বিশেষ), কুটকরোহিনী (মাদিবা মাদিবা জাতীয় ঔষধ বিশেষ), উসীর (সুগন্ধ জাতীয় জালি জালি শিকড়), ভদ্রমুক্তক (এক প্রকার সুগন্ধ ঘাস); স্কন্ধ বীজ অর্থাৎ অশ্বত্থ, নিগ্রোধ, পিলক্ষো (ডুমুর জাতীয় বৃক্ষ), উদুম্বর, বনজ বৃক্ষরাজি, ফলুবীজ অর্থাৎ আখ, বাঁশ, নল, অগ্রবীজ অর্থাৎ অজ্জুক (শ্বেত তুলসী বা বাবুই তুলসী বিশেষ), হ্রীবের (এক প্রকার সুগন্ধি বৃক্ষ) এক কথায় যে গাছের আগা কেটে রোপণ করলে অংকুরিত এমন বৃক্ষ বিশেষ এবং বীজবীজ অর্থাৎ ধান, গম, মুগ ইত্যাদি তথা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ বিনষ্ট না করতে। ঐ উদ্ভিদ বর্গের শেষে বলা হয়েছে প্রাণীযুক্ত জল বৃক্ষ-লতা পাতাতে সেচন না করতে। এবং এখানে একসাথে প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি বুদ্ধের সচেতনতা লক্ষ্যণীয়।

বুদ্ধের জীব প্রেম এবং প্রকৃতি প্রেমের প্রতি আকর্ষিত হয়ে সম্রাট অশোক বিভিন্ন অরণ্য সংরক্ষণ, পশু ও মানব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বুদ্ধ বিনয় পিটকের মহাবর্গে ভিক্ষুদের বিভিন্ন রোগে বনজ তথা প্রাকৃতিক ঔষধের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং  এগুলো রক্ষণের নিদের্শও পক্ষান্তরে প্রদানিত হয়েছে। বুদ্ধ উদ্দীষ্ট যে তের প্রকার ধুতাঙ্গব্রত ভিক্ষুদের জন্য বিদ্যমান তন্মধ্যে আট নং ধুতাঙ্গ হল আরণ্যিক, অর্থাৎ ভিক্ষুকে অরণ্যে বাস করে এই ব্রত পালন করতে হবে। এবং নয় নং ধুতাঙ্গ হল বৃক্ষমূলিক অর্থাৎ বৃক্ষমূলে বাস করে এই ব্রত রক্ষা করতে হবে।
ভিক্ষুত্বে দীক্ষা দেবার সময়ও ভিক্ষুদেরকে বৃক্ষমূলকেই সর্বাগ্র বিবেচ্য আবাস হিসেবে বেছে নিতে বলা হয়েছে উপসম্পদা বিধিতে। এই বৃক্ষমূলের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বুদ্ধঘোষ প্রণীত শ্রমণ পুন্নানন্দ স্বামী অনুদিত বিশুদ্ধিমার্গে বলা হয়েছে,
                             বন্নিতো বুদ্ধসেট্ঠেন নিস্সয়োতি চ ভাসিতো
                              নিবাসো পরিবিত্তস্স রুক্খমূলসমে কুতো?
অর্থাৎ বুদ্ধশ্রেষ্ঠ কর্তৃক বর্ণিত নিশ্রয়(আশ্রয়স্থান)বলে কথিত বৃক্ষমূলের সমান একাকী বিহারীর নিবাস আর কোথায়?
শ্রীলংকার এক রাজা যখন রাজকীয় একটি উদ্যানে বৃক্ষ ধ্বংস করছিল তখন সম্রাট অশোকপুত্র স্থবির মহিন্দ তাঁকে বলেছিলেন, রাজন্, যদিও আপনি এই রাজ্যের শাসক, তবুও আপনি মালিক নন, আপনি এই বনের তত্ত্বাবধায়ক, এই বলে রাজাকে বৃক্ষনিধন না করতে সতর্ক করেন।
বুদ্ধের জীবনযাপন ও তাঁর ধর্মোপদেশে সততই প্রকৃতি পরিবেশের প্রতি মমতার কথা বলা হয়েছে। বুদ্ধের আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গের সম্যক জীবিকার ক্ষেত্রেও বলা হয়েছে মাংস, অস্ত্র, নেশা, বিষ, প্রাণী বাণিজ্য না করতে, যেগুলো বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক ভাবে চলছে এবং তাতে পরিবেশের ক্ষতি সমূহ ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় বুদ্ধের জীবনাচরণ ও দেশন বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, যুদ্ধাবস্থা, জীব বৈচিত্র্য ইত্যাদির সংকট সমাধানে বুদ্ধের জীবনাচরণ ও তাঁর ধর্মোপদেশের শিক্ষা বা প্রভাব যতবেশী ভাবে মানুষ উপলব্দি করে তা অনুশীলন করতে পারবে ততবেশী প্রকৃতি পরিবেশ ভারসাম্যতা অর্জন করে পৃথিবী অধিকতর বাসযোগ্য হবে, বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম হবে নিরাপদ পরিবেশের বাসিন্দা। বিশ্ব বৌদ্ধ জগতের প্রখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মহামান্য Dalai Lama বলেন , ‘If we develop good and considerate qualities within our own minds, our activities will naturally cease to threaten the continued survival of life on Earth. By protecting the natural environment and working to halt the degradation of our planet we will also show respect for earths human descendants - our future generations’

অর্থাৎ, যদি আমাদের নিজ মনের মধ্যে সৎ ও মহৎ গুণাবলী বৃদ্ধি করি। তবে স্বাভাবিকভাবে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে টিকে থাকার ভয় দূর হয়ে যাবে এবং এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কার্যাবলীর অমর্যাদা প্রতিরোধের মাধ্যমে আমরা এই বিশ্বের মানব জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান দেখাব।

পাঠ নির্দেশ :
১) ধম্মচক্কং, সম্পাদক, সংঘরাজ অধ্যাপক ড. ভিক্ষু সত্যপাল (আবদুল ওয়াহাব- বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ ধর্মের মানবতা ও পরিবশে বাস্তবতা) নয়াদিল্লী, ২০১২।
২) পূর্বোক্ত (ড. কনক কুমার বড়–য়া- প্রকৃতি, পরিবেশ, বৌদ্ধ ধর্ম ও আধুনিক বিজ্ঞান চিন্তা)
৩) নালন্দা, সম্পাদক, ভিক্ষু সুমনপাল (শিমুল বড়–য়া- সবুজ বৌদ্ধ ধর্ম ঃ বৈশ্বিক পরিবেশগত এবং বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্য রক্ষার প্রেক্ষিতে) কলকাতা, ২০১৪।
৪) পূর্বোক্ত (বসুধা বোস- পরিবেশ চেতনায় ফলিত বৌদ্ধ ধর্ম ও তার প্রাসঙ্গিকতা)।
৫) পূর্বোক্ত (Ahinsuk Barua- Contribuion of Buddhism Towards conservation of Ecological Balance)
৬) সৌম্য, সম্পাদক, টিটু বড়ুয়া (ড. কনক কুমার বড়ুয়া- জীবপ্রেম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গৌতম বুদ্ধের বিজ্ঞান ভিত্তিক ধ্যান ধারণা) চট্টগ্রাম-২০১২।
৭) প্রাণের ইতিবৃত্ত- অমল দাশগুপ্ত, ঢাকা-২০১৪।
৮) পাচিত্তিয়- অনুবাদক, করুণাবংশ ভিক্ষু, রাঙ্গামাটি-২০০৭।
৯) বিশুদ্ধিমার্গ,অনুবাদক- শ্রমণ পুন্নানন্দ, সম্পাদক, প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, The Corporate Body of the Buddha Educational Foundation Taiwan, R.O.C পুনঃমুদ্রিত।
১০) সদ্ধর্ম রত্নাকর - ধর্মতিলক থের, সম্পাদক প্রজ্ঞাবংশ ভিক্ষু পূর্বোক্ত কর্তৃক পুনঃ মুদ্রিত।
১১)ধর্মপদ- গিরিশচন্দ্র বড়ুয়া, বাংলা একাডেমী, ১৯৯৬।
১২) পূর্ণিমা সন্দর্শন- এস. জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, চট্টগ্রাম ২০১২।
১৩)সিংগালোবাদ সূত্রে গৃহী বিনয়- এস. জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, চট্টগ্রাম ২০১৪।

লেখক পরিচিতি : এস. জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, বি.এস.এস (অনার্স), এম.এস.এস; সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক; পূর্ণাচার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার দেবপাহাড়, চট্টগ্রাম। E-mail: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

Additional Info

  • Image: Image