২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১২ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 30 আগষ্ট 2015 16:48

মানুষ, মনুষ্যত্ব ও মানবতা

লিখেছেনঃ সৈকত মিত্র বড়ুয়া

মানুষ, মনুষ্যত্ব ও মানবতা ...

“মানুষ একমাত্র তাদেরই বলা যায়,যাদের মানবতা এবং মনুষ্যত্ব জ্ঞান বলে কিছু রয়েছে”

সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে একটা গুজব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মিয়ানমারে তথা বার্মাতে হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা মারলো বৌদ্ধরা ! আপনারা হয়তো জানেন কিনা জানি না, মিয়ানমারে জাতি গত কতগুলা অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। তারা বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত। আমি বৌদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহন করেছি বলেই আমি বৌদ্ধ। তেমনি জাতিগত ভাবে যে যার পরিবারে জন্মগ্রহন করেছেন তিনিই সেই ধর্ম পালন করতেছেন। আমার এখনো সৌভাগ্য হয়নি মিয়ানমার ভ্রমন করার। তাই মিয়ানমারে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নাই। আমার মত আরো অনেকে মিয়ানমারে যায় নি। কারন দেশটা আমার না। বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশ মাত্র। আমরা যদিও সেখানে যায় তাহলে ভ্রমনের পাশাপাশি তীর্থ দর্শনে যায়। আমরা সকলেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক।

আমাদের তথাগত মানব পুত্র মহামণি গৌতম বুদ্ধ ২৫৫৮ (দুই হাজার পাঁচশত আটান্ন) বছর আগে বলে গিয়েছেন, জগতে শত্রুতার দ্বারা কখনও শত্রুতার উপশম হয় না, মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম হয়। কারন শত্রুতার দ্বারা নতুন করে আরেকটা শত্রুতার জন্ম দিবে। পিকে ছবিটা হয়তো কম বেশি সবাই দেখেছেন। এখানে ধর্মকে একটা ফ্যাশন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি উপর ওয়ালা চাই তো সিল মেরে কে কোন ধর্মের সেটা বিচার বিবেচনা করে পৃথিবীতে পাঠাইতেন। আপনি অমুক ধর্মের আর আমি বৌদ্ধ কিন্তু আমরা সবাই মানুষ। আপনার রক্ত সাদা কিংবা নীল নয় লাল। ঠিক আমারো লাল। আপনার যা আছে তা আমারো আছে। শুধু মাত্র চিন্তা-চেতনার ভিন্নতা। যদি ধর্ম নামক ফ্যাশনটাকে বাদ দিই, তাহলে তো আমরা সাধারণ মানুষই। আর যদি বুদ্ধ ধর্ম নিয়ে কথা বলতে চাই তো ভারতের মত দেশে বলিউডের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে দেওয়ার মত ছবি পিকে। লক্ষ করা যায় যে ঐ ছবিতে সব ধর্মের কুসংস্কার তুলে ধরা হলেও বুদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে কোন কথা কিংবা বুদ্ধ ধর্মকে উপস্থাপন করা হয় নি। কারন বৌদ্ধ ধর্মে কুসংস্কার বিশ্বাস করে না। এবং সেটার বাস্তকিক প্রমাণ পিকের মত ছবিতে।

আসলে মূলত পৃথিবীতে বুদ্ধ ধর্ম হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে জ্ঞানীদের জন্য । যাদের পূর্ণ জ্ঞান আছে তারাই বুঝতে পারবে বুদ্ধের অমৃত বাণী। পৃথিবী কিংবা পৃথিবীর বাইরে এমন কোন ব্যক্তি কিংবা মহাপুরুষ নাই যে বুদ্ধের বাণী গুলাকে মিথ্যা প্রমাণ করবে। অনেকে বলে পিকে ছবিতে বুদ্ধ মূর্তির দুধ দিয়ে স্নানের দৃশ্য রয়েছে। সবাই প্রায় সময় একটা জাইগাতে ভুল টা করে থাকে। আসলে ওটা বুদ্ধ মূর্তি নয়। আমিও প্রথমে মনে করেছিলাম। যাদের এই বিষয়ে সন্দেহয় আছে তারা গানের অংশটাতে ঐ দৃশ্যটা ভাল করে দেখার আহ্বান রইল। কারন ওখানে সামনে একটা লিঙ্গ সহ মূর্তিটাতে দেখা যাবে। ওটাও হিন্দুদের কোন অবতার হবে। বৌদ্ধ ধর্মে বুদ্ধ মূর্তিতে এমন কোন অসভ্যতা নাই। তবে অ-বৌদ্ধরা সেটা অনেক সময় বুদ্ধ মূর্তিও মনে করতে পারে। কিন্তু সেটা বাস্তবিক বুদ্ধ মূর্তি দেখলেই পরিস্কার হওয়া যায়। পৃথিবীতে সবাই যার যার ধর্মকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। নাস্তিক-আস্তিক সবাই রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তবে কোন ধর্মকে ব্যঙ্গ কিংবা অ-সম্মান করে নয়। কোন ধর্মেই বলে নাই যে, অপরের ধর্মকে ছোট করে নিজের ধর্মকে বড় করতে। সকল ধর্মেই কিন্তু মানবতার কথা বলে। যদি সব ধর্ম একসাথে বিবেচনা করেন তাহলে একটি মাত্র ধর্মের উদয় হবে এবং সেটিই হল মানব ধর্ম। মানব কুলে জন্মেছি বলেই আমরা মানব। মানব জাতি পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ জাতি। সবার মাঝে মানব ধর্ম থাকা আবশ্যক। এখানে বলে রাখা ভাল মানব ধর্ম বলতে বুঝানো হয়েছে মানবতাকে। তবে এটা শুধু মাত্র মানবের বেলায় নয়, পশুপাখির বেলায়ও চর্চা করতে হয়। মানব জীবন বড়ই দূর্লভ। বিশেষ করে মনুষ্য কুলে জন্মগ্রহন করা। দান বলেন ধর্ম বলেন যা কিছু সব এইখানে এই পৃথিবীতে।

একসময় আমার সাথে একজন পাকিস্তানির আলাপ হয়েছিল। তো আমি তার দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞসা করাতে বেচারা খুব দুঃখের সাথে বলতে লাগল, "আমরা যারা পাকিস্তানে বসবাস করি, তারা বাসা হতে রাস্তা ঘাটে বার হয়ে, রাতে যে বাসায় আবার সুস্থ দেহ নিয়ে ফিরে আসব তার কোন গ্যারান্টিই থাকে না। কারন কোথায় কখন যে বোমা কিংবা জঙ্গিদের হাতে মরতে হয় কারোই জানা নাই"। শুনেই খুব খারাপ লাগল। কোন দেশই খারাপ না। খারাপ হল ধর্মান্ধ নরপশুগুলা। যারা দিনে দুপুড়ে মানুষ হত্যা করে তাদের কি মানুষ বলে ডাকবেন ? বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা বিবেচনা করেন। দিনে দুপুড়ে চাপাতির কুপে মানুষ হত্যা করা হয়। পেট্রোল বোমা দিয়ে শত শত মানুষ পুড়িয়ে দেয়। তাহলে এগুলা কি পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান বানাবার পূর্ব পরিকল্পনা নয় কি ? আমরা আধুনিক যুগে বাস করেও যদি মধ্যে যুগের মত বর্বরতা, এবং মিথ্যাদৃষ্টিতে পরে থাকি তাহলে দেশ এবং দেশের মানুষ উন্নত হবে কোথা হতে। একটা দেশ উন্নত হতে হলে দরকার দেশের মানুষের শিক্ষা । আর মানুষ যদি শিক্ষিত না হয়, তাহলে দেশ উন্নত হবে কোথা হতে । উন্নত তো বাদ দিলাম দিনকে দিন ধংস হচ্ছে। আপনারাও তা বাইরে বের হন। একসময় যখন পাকিস্তানের মত অবস্থার সৃষ্টি হবে তখন যাবে কোথায় অাপনাদের ধর্মের নামে ফতেয়া ? এখনো তো অনেক প্রতিদিন পাকিস্তানি ঐ মানুষটার মত করে ফেসবুকে স্ট্যাটস দেয়। যে বার হচ্ছি বাসা হতে, কিন্তু ফিরে আসতে পারব কিনা জানি না। ভাই সকল দোয়া করবেন, যাতে সুস্থ সুন্দর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারি। তাই সেই সব ভাই সকলদের বলছি যাদের বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে মাথা ব্যাথা রয়েছৈ, আপনারা সকলে অন্তত একবার হলেও বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশ গুলাতে ভ্রমন করে আসবেন। ভ্রমন করার করার আমন্ত্রন রইল। সেখানে যাবেন, এবং গিয়ে সেখানকার সংখ্যালঘুদের কাছে জিজ্ঞাসা করবেন তাদের দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা কতটা উন্নত। তাদের সুযোগ সুবিধা কি রকম। তারা সেখানে কিভাবে বসবাস করে ?

তখন নিজেরাই বাস্তবতা বুঝে নিতে পারবেন। আমাদের দেশ এবং তাদের দেশের তফাৎ কতটুকু। তখন বুঝতে পারবেন কোন দেশে বসবাস করছি আমরা ? সমাজ ব্যবস্থা কতটা নোংরা হলে আজকের এই বাংলাদেশ। তারউপরে আধুনিক যুগেও এসেও বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ যদি এই সব বিষয় সম্পূর্ণ ভুল ভাবে সবার মাঝে উপস্থাপন করেন তাহলে নতুন প্রজন্মরা, তারা কি শিক্ষা নিবে ? দেশতো আর দেশ থাকে না রে ভাই। জঙ্গিদেশে রূপান্তরিত হবে। তখন আপনি আমি কেউ নিরাপধ নই। যেমনটা অ-নিরাপধ বর্তমানে পাকিস্তান, ইরাক, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষরা।

একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। কিছুদিন আগে যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়ার একটি শরনার্থী শিবিরে তোলা একটি শিশুর ছবি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে অনলাইনে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে শিশুটি দুহাত উপরে তুলে ভীতিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যা দেখে মনে হয় সে দাঁড়িয়ে আছে গান পয়েন্টে বা অস্ত্রের মুখে। হৃদয় তোলপাড় করা এ ছবিটি আসলে ইন্টারনেটেরই হৃদয় বিদীর্ণ করার মতো একটি ছবি যেটি দেখলে যে কারোরই প্রচণ্ড কষ্ট হবে ছোট এ শিশুটির জন্য। ছবিটি যিনি তুলেছিলেন সেই ফটো সাংবাদিক ওসমান সাগিরলির বর্ণনায়, “আমি একটি টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করেছিলাম কিন্তু সে এটিকে একটি অস্ত্র ভেবেছিলো। আমি বুঝতে পেরেছিলাম শিশুটি ভয় পেয়েছে। ছবিটি নিয়ে আমি দেখলাম কারণ সে তার ঠোট কামড়ে হাত উপরে তুলেছিলো। সাধারণত শিশুরা ক্যামেরা দেখলে মুখ লুকোয় বা হাসি দিয়ে দৌড় দেয়”। তাহলে একদিন আমাদের শিশুরাও এমন অবস্থায় আসবে না সেটার গ্যারান্টি কিভাবে দিবেন। কারন দেশ তো দিনকে দিন অধপতনে যাচ্ছে। যদি সত্যিই শান্তির দেশ হতে তাহলে প্রতিদিন সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ছায় করে দেওয়া হত না। আমাকেউ এতকিছু বলতে হতে না। দেশটা তো আমাদের। কিন্তু সেটা থাকতে কতদিন। যদি না দেশকে রক্ষা করতে না পারি। মানুষ শুধু মাত্র নিজের জন্য নয়, মানুষ হতে হবে সকলের জন্য। যারা অগনিত মানুষের জন্য, সমাজের জন্য এবং সমগ্র জাতির জন্য যদি কিছু না কিছু করে থাকেন, তাহলে তাদের মৃত্যু কখনো দুঃখময় হয় না বরং গৌরব এসং সুখকর হয়। তাঁরা মারা গেলেও তাদের কর্মকান্ডের মাঝে আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকেন সারাটা জীবন। খারাপ কাজের ফলটাও খারাপ হবে। মনে রাখবেন বিষধর ভয়ঙ্কর সাপের চাইতে অধিক বেশি ভয়ঙ্কর মিথ্যাদৃষ্টি। বিষধর সাপের দংশনের কবলে পড়বেন একবার, হয়তো মারা যাবেন। কিন্তু এই মিথ্যাদৃষ্টি আপনাকে দংশন করবে সারাজীবন, “যাদের মানবতা বলতে কিছুই নাই, তারা আর যাই হোক না কেন মানুষ নয়। কারন মানুষ একমাত্র তাদেরই বলা যায়,যাদের মানবতা এবং মনুষ্যত্ব জ্ঞান বলে কিছু রয়েছে ” আসলে মূলত পৃথিবীতে বুদ্ধ ধর্ম হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে জ্ঞানীদের জন্য । যাদের পূর্ণ জ্ঞান আছে তারাই বুঝতে পারবে বুদ্ধের অমৃত বাণী। 

পৃথিবী কিংবা পৃথিবীর বাইরে এমন কোন ব্যক্তি কিংবা মহাপুরুষ নাই যে বুদ্ধের বাণী গুলাকে মিথ্যা প্রমাণ করবে। কারন সম্যক সম্বুদ্ধরা হলেন তৃলোক পূজিত। তাঁরা বর্তমান, ভবিষ্যৎ এবং অনাগামি সব কিছুই মুহুর্তে বলে দিতে পারেন। বুদ্ধ ছিলেন মানব পুত্র, পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নাই যে , সেগুলা প্রচার এবং প্রসার করতে গিয়ে মারামারি কিংবা যুদ্ধ হয় নাই। ইতিহাস বলে এই পৃথিবীতে একমাত্র বুদ্ধ ধর্মেই বুদ্ধ তাঁর মৈত্রী প্রেমে সবাইকে আবদ্ধ করে জয় করেছিলেন রাজ সিংহাসন ত্যাগ করে তাও আবার বিনা যুদ্ধে। বুদ্ধ নিজে আঘাত সহ্য করেছেন কিন্তু কখনো অপরকে আঘাত করেন নাই। বুদ্ধের কাছে মৈত্রী প্রেম ছিল সবার জন্য এক সমান। সে প্রাণী হোক কিংবা মানুষ। তাইতো বুদ্ধ বলেছেন, “জগতে শত্রুতার দ্বারা কখনও শত্রুতার উপশম হয় না, মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম হয়” শান্তি শুধু মাত্র তো আর মুখে বললে হবে না, শান্তি আসতে হবে মনের ভিতর হতে। কেউ যদি ডাক-ঢোল পিটিয়ে পিটিয়ে বলে এখানে শান্তি পাবেন। তখন নিজে গিয়ে দেখবেন আসলে শান্তি কত প্রকার ও কি কি ।

আমি মনে করি তাদের শান্তির অর্থটার মানেই জানা নাই। বুদ্ধ আরো বলেছেন, “শান্তি ভেতর হতেই আসে, এটিকে বাইরে অন্বেষণ করো না” পরিশেষে বলব, অশান্ত বিশ্ব শান্ত হোক। মানবতার জয় হোক। দেশটা আমাদের সকলের। তাই চিন্তা-চেতনা এবং মাথা ব্যাথাও আমাদের সকলের। আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ সবাইকে কষ্ট করে এতক্ষন মনযোগ সহকারে আমার ক্ষুদ্রতম সম্যক জ্ঞানে সহজ করে স্বল্প ভাষায় সাম্প্রতিক বিষয়ে লিখাটি পড়ার জন্য। বাংলা আমার মা, আমি বাংলা মায়ের সন্তান। শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ হোক আমাদের সোনার বাংলাদেশ এই কামনায়। বাংলাদেশে ধর্মান্ধতা নিপাক যাক। সাথে দুর্নীতি এবং মাদকের বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে মূখরিত হোক নতুন প্রজন্ম। শপথ ভেঙ্গে ফেলা আমাদের ঐতিহ্য। তবুও চেষ্টা করা যায় যদি একটু বদলানো যায়। কারন দিন বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে সমাজ, বদলাচ্ছে দেশ,বদলাচ্ছে সমগ্র বিশ্ব, কিন্তু বদলাচ্ছি না আমরা। যদি সবাই বদলাতে পারে তাহলে আমরা বদলাবো না কেন...? আমরা কেন পিছিয়ে থাকবে উন্নত বিশ্ব হতে ? সবাই যদি বদলাতে পারে তাহলে আমরা বদলাতে পারি না কেন !!! তাই এখনি সময়। হাতে হাত রেখে। বদলে যাও, বদলে দাও।

 

Additional Info

  • Image: Image