২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 24 মে 2015 20:52

ধ্যানীদের পরিচর্যার সুফল

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

ধ্যানীদের পরিচর্যার সুফল

আমরা তো সংসারী মানুষ। কাজকর্ম করেই আমাদের খেতে হয়। প্রতিদিন যার যার কাজে সকালে যেতে হয়। আবার ফিরে আসি কাজ শেষে। তাই বাড়ীর কাছে বিহারে ধ্যান কোর্স শুরু হলেও আমরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ধ্যান কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারি না। আবার অনেকেই ছোট বাচ্চা আছে বা ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার জন্য অংশগ্রহণ করতে পারেন না। আবার অনেকেই ৪০-৫০ বয়স হয়েছে, রোগের কারণে বা বিবিধ কারণে ধ্যানে বসার সুযোগ হয় না। তাই আপনাদের সকলের জন্যই বলছি, ধ্যানে বসতে পারেন নাই তো কি হয়েছে? এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র দুঃখ করবেন না। কিভাবে আগামীতে ধ্যানে বসার পারমী পূর্ণ করবেন সেই চিন্তা করুন। যেহেতু মানব জীবন বড়ই দুর্লভ। যারা ধ্যান কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের পরিচর্যা করুন। সেটা দান দিয়ে হোক কিংবা পরিচর্যা করে হোক। যেমন আপনি একদিন গিয়ে যারা ধ্যানে বসেছে, তাদের সকলের কাপড় ধুয়ে দিন। আরেকদিন গিয়ে সকালে কিংবা দুপুরে সবাইকে খাবার পরিবেশনে অংশগ্রহণ করুন। একদিন সকলের জন্য একটুখানি তরকারি (সেটা যে কোন কিছু ভর্তা হতে পারে) নিয়ে দান করুন। এজন্য বেশী টাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই পুণ্য আপনার জন্য ভবিষ্যতের পারমী পূরণে সহায়ক হবেই হবে।

কিছু কিছু পুণ্যকাজ আছে, যেগুলির ফল কখনো বৃথা যায় না। শুধু একটি দিক খেয়াল রাখবেন, পুণ্যকর্মের নিকট সঠিকভাবে প্রার্থনা করবেন এইভাবে, এইজন্মে যদি ধ্যান কোর্সে অংশগ্রহণ করতে না পারি, বা সুযোগ না হয়, ভবিষ্যতে যেন সেই দুর্লভ সুযোগ আমার লাভ হয়। নতুবা প্রার্থনা করবেন এই দানময় পুণ্যের প্রভাবে আগামী কোর্সে যেন বসতে পারি। কায়-মনো-বাক্যে এই প্রার্থনা করে দেখুন, আমার কথার সাথে মিলে কিনা নিজেরাই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। যেমন আমাদের পূর্ববর্তী পোষ্টে দেখুন ৯ বছরের ছেলে—যার এখন খেলায় বন্ধু বান্ধব নিয়ে মেতে থাকার কথা, সে কিনা প্রব্রজ্যা গ্রহণের জন্য তিনদিন না খেয়ে ছিল? কেন ছিল জানেন? তার রয়েছে অতীত জন্মের অষ্টপরিষ্কার দানের ফল এবং আরো আছে জন্ম জন্মান্তরের ধ্যান পারমীর বীজ। যা সে উপেক্ষা করতে পারছে না। অতীতের পুণ্য পারমী তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যেভাবে পরীক্ষার পড়া সব যদি শিখা থাকে, তাহলে সে পাশ করবেই। তাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। তদ্রুপ এই ছোট্ট অবুঝ শিশূটি একদিন মহাসত্ত্ব হবে নিঃসন্দেহে। সেটা এই জন্মেও হতে পারে কিংবা ভবিষ্যত কোন এ জন্মে। 

এবার বলি, ধ্যানীদের পরিচর্যা করলে এত পুণ্য কেন হবে? কারণ তারা যেদিন থেকে ধ্যানে বসেছে, সেদিন থেকে তারা আর্য ক্ষেত্রে বিচরণ করছে। তারা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আর্য্যশীল (অষ্টশীল) প্রতিপালন করছে। সেখানে এক ঘন্টা বসে ধ্যান আবার এক ঘন্টা চংক্রমণ। এভাবেই ধ্যানীদের সময় অতিবাহিত হচ্ছে। চিত্তের একাগ্রতা যাদের আছে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। চিত্তের একাগ্রতা না থাকলেও তাদের শীলটা যথাযথভাবে পরিপূর্ণ হচ্ছে। পাপকর্ম করার কোন সুযোগ নাই এখানে। দিবারাত্র তাদের পুণ্য যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনুরূপ যারা তাদের সেবা যত্ন করছেন, তাদের অশেষ অশেষ পুণে্যর ভাগীদার হচ্ছেন। তাই এরকম ধ্যান কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের পরিচর্যায় অনেক অনেক পুণ্য। সকলেই একটু চিন্তা করে দেখুন আর চেষ্টা করুন এভাবে নিজেদের পুণ্যের ভান্ডার পরিপূর্ণ করতে। কারণ যাবার কালে নহে পিতা, নহে মাতা, নহে ভ্রাতা, নহে ভগ্নী---আপনজন কেহ যাবে না। যাবে শুধুমাত্র এই সঞ্চিত পুণ্যরাশি। পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক, দুঃখ থেকে মুক্ত হোক।

Additional Info

  • Image: Image