২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ২ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Partly Cloudy

17°C

Chittagong

Partly Cloudy

Humidity: 94%

Wind: 17.70 km/h

  • 17 Dec 2017

    Partly Cloudy 26°C 15°C

  • 18 Dec 2017

    Sunny 26°C 15°C

  • সেই খানেরই গলদ, যেখানে সততা নেই। টাকা পয়সার দিকে নজর দিলে কাজের নেশা নষ্ঠ হয়ে যায়। টাকা পয়সা বড় কথা নয়, কাজ চাই।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

  • আমাদের সমাজে যে এখনো কোন বড় কোন প্রতিভার জন্ম সম্ভব হচ্ছে না, তার কারণ পরশ্রীকাতরতা। আমরা গুণের কদর করি খুব কম। কিন্তু মন্দটাকে সগর্বে প্রচার করে বেড়াতে পারি।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • যুদ্ধ সভ্যতাকে ধ্বংস করে এবং শান্তি বিশ্বকে সুন্দর করে । যুদ্ধ মানুষকে অমানুষ করিয়ে দেয়, যুদ্ধ ছিনিয়ে নেয় প্রেম-ভালবাসা এবং যুদ্ধের আগুনে আত্নহুতি দিতে হয় বহু প্রাণের । যুদ্ধকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা উচিৎ।

    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের

  • আপনি যেমন মহৎ চিন্তা করেন কাজেও সেইরুপ হউন, আপনার কথাকে কাজের সাথে এবং কাজকে কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন।
    মহাসংঘনায়ক শ্রীসদ্ধর্মভাণক বিশুদ্ধানন্দ

উর্দু কবিতা ও কাহিনিতে গৌতম বুদ্ধ

শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৪ ২৩:২৬ কিরণশঙ্কর মৈত্র

উর্দু কবিতা ও কাহিনিতে গৌতম বুদ্ধ

উর্দু সাহিত্যে গৌতমবুদ্ধ এবং বৌদ্ধধর্মের প্রতি সচেতন আগ্রহ পরিলক্ষিত হয় বিশ শতকে। প্রাচীর বহু ধর্মগ্রন্থ অনূদিত হয় প্রতীচীর সাহিত্যাঙ্গনে, আগ্রহ জন্মে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি। এই শতকের প্রথমে খনন করা হয় বহু বৌদ্ধ ভূমিখণ্ড, ফলে সেই সব জায়গায় দেখা দেয় ট্যুরিস্ট আকর্ষণ। এসবের প্রভাব পড়ে উর্দু সাহিত্যে। উর্দু সাহিত্যের কবি মোহাম্মদ ইকবাল (১৮৭৭-১৯৩৮) কবিতা লেখেন শ্রীরাম, স্বামী রামতিরথ এবং গুরু নানকের ওপরে। পরবর্তীকালে তাঁর কবিতায় দেখা যায় গৌতম বুদ্ধের প্রশংসা-বাণী:‘কোয়াম নে পইয়াম-এ গৌতম কি জারা পরওয়া না কি কদ্র পেহচানি না আপনে গোহর-এ ইয়াক দানা কি আহ্। বদ-কিসমৎ রহে আওয়াজ-এ হক সে বে-খবর ঘাফিল আপনে ফল কি শীরিনী সে হোতা হ্যায় শযর অশ্কর উসনে কিয়া যো জিন্দাগি কা রাজ থা হিন্দ্ কো লীকিন আপনে খিয়ালি ফলসাফে পর নাজ থা’।
মর্মার্থ

লোকেরা অল্পই মন দিয়েছে বুদ্ধের বাণীতে
উপলব্ধি করে মূল্য দিয়েছে অনবদ্য মুক্তোগুলিতে,
মন্দভাগ্য মানুষেরা ছিল সত্যের বাণীতে বধির
প্র্র্র্র্র্রায়ইতো বৃক্ষ পায় না আপন ফলের সুবাস,
আত্মার গভীর রহস্যের করেছেন তিনি সমাধান
তা সত্ত্বেও তাঁর দেশ মত্ত ছিল নিজেদের কল্পিত ভাবনায়।

ইকবাল উল্লেখ করেছেন বঞ্চিত-উৎপীড়িত মানুষদের জন্যে বুদ্ধের উদ্বেগের কথা এবং তাঁরই জন্মভূমিতে তাঁর মানবিক বাণীর প্রতি মনোযোগ না-দেবার কথা:  ব্রাহ্মণেরা পান করে এখনও আত্ম-গরিমার পানীয়  তবুও বুদ্ধের আলোকচ্ছটায় বিভাসিত বিদেশের ভূমি।  ভারতের অবিচ্ছিন্ন সামাজিক অসমতার স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতায় ইকবালের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অপ্রতিম শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে সামঞ্জস্যহীন মেরুপ্রবণতার প্রসঙ্গেÑইকবালের আত্মা এবং গৌতম বুদ্ধের অনাত্তা (ঘড়-ংড়ঁষ) ধারণা-মতবাদের প্রেক্ষিতে।
তথাগত বুদ্ধের প্রতি পণ্ডিত ব্রিজনারায়ণ চকবস্তুর (১৮৮২-১৯২৬) পরিমিত কিন্তু মহৎ শ্রদ্ধা-উক্তিও চোখে পড়ে। তাঁর বিখ্যাত খাক-এ হিন্দ (ভারতের ভূখণ্ড) কবিতায় বোধিসত্ত্বকে আলোকোজ্জ্বল আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি প্রাচীনকালে উপাসনা গৃহে এনেছিলেন পবিত্রতা।

রঘুপতি সহায় ফিরাক গোরখপুরী (১৮৯৬-১৯৮২) উর্দুভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, ছিলেন ইংরেজির বিখ্যাত অধ্যাপক। তাঁর আদমনামা কবিতায় তিনি শাক্যমুনির সংসার পরিত্যাগ এবং জগতের অনিত্যতা সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন-
দুনিয়ার রয়েছে কাঙাল এবং ধনবান
শিকারি মৃত্যু থাবা দেয় সবার উপরে সমানভাবে
দুনিয়ার রীতি এমনই, তাতে কী-
হর্ম্যনিবাসী ত্যাগ করে নিশীথে কপিলাবস্তু।
ফিরাকের আরেক কবিতা ‘হিন্দোলায় (ঝুলনা) গৌতমবুদ্ধের অনেক উল্লেখ, ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন-
ভারতের সঙ্গীত, কাহিনী, ঋতু উৎসব
দীর্ঘ যুগ পূর্বে ছিল সিদ্ধার্থের ঝুলন
এবং মহান অশোক দেখেছেন এখানে
দিনের আলোক।
আলি সরদার জাফরির (১৯১৩-২০০০) কথাও এখানে বলা যায়।
ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে অন্যত্র রক্তপাত দেখে তিনি স্মরণ করেছেন তথাগতের করুণা ও শান্তির বাণীর কথা তাঁর দুয়া (প্রার্থনা) কবিতায়-
এখন কী নেই কোন গৌতম?
ছিল যার স্নেহময় দয়াশীলতা
ছড়াত পাখা হৃদয়ের ক্ষতবেদনায়
হাসিতে জোছনা অপার মায়া-মমতায়-
কবিতাটিতে সুস্মিত অমিতাভ তথাগতের শারীরিক প্রতিমূর্তিতে যেন ফুটে  ওঠে তাঁর শান্তির বাণী বাক্সময় হয়ে।
খলিলুর রহমান আজমি (১৯২৭-৭৪) উর্দু কবিতায় নব  আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। নিজ জীবনের গতিপথে তিনি বুদ্ধের আত্মানুসন্ধানের বিষণœ পরিণাম প্রত্যক্ষ করেছেন-

আমি গৌতম নই
তা হলেও করেছি গৃহত্যাগ
এবং আমি মনে করি
নির্গত হয়েছি আত্ম-আবিষ্কারে।
কোন বৃক্ষের ছায়াতপে
আশা করি উপবেশনের কোনদিন কিছু আত্মজ্ঞান লাভের,
কিন্তু যে-রক্তমাংসের শরীর নিয়ে করেছি গৃহত্যাগ
জ্বলছে ধিকিধিকি করে অপ্রশমিত।
আজমির কাছে বুদ্ধ ছিলেন একটি     ‘ভিসন’  কাঙ্খিত পরিপূর্ণতার প্রতীক যা অপ্রাপ্য, কিন্তু
আধুনিক পাকিস্তানের আরেক শায়ের আনওয়ার সাদীদ (১৯২৮-) বুদ্ধের সঙ্গে কামনা করেন  আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি অবলোকিতেশ-দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, যদিও বৈসাদৃশ্য সম্বন্ধে সচেতন, দুঃখ-প্রপীড়িত হতাশাচ্ছন্ন মানুষকে সহানুভূতি ও সান্ত্বনা প্রদান করেন। নির্বাণ কবিতায় তিনি বলেন-
আমি গৌতম নই
তাহলেও আমি জানি আমার প্রসারিত শাখার শীতলতা
গৌতমের অন্তরতম অন্তঃস্থলে পৌঁছে
পান করে নিই এক ঢোকে
জলন্ত রক্ত মাংসের সব গলিত লাভা।

আরেক উর্দু কবি কৃষ্ণমোহন বুদ্ধের অহিংসার বাণী বিস্মৃত হয়ে তাঁর অনুসারীদের অধুনা কপট আচরণে দুঃখ বোধ করেছেন। গৌতম কে প্যায়রো (গৌতমের অনুগামীরা) কবিতায় তিনি মাংস-ভোজী আমিষ-আহারীদের প্রতি তীব্র শ্লেষ করেছেন-
বুদ্ধের অনুগামীরা আগের মত বাসে না ভাল
মানুষ অথবা পশু,
এখন তারা বদলে দিয়েছে তাঁর উপদেশাবলি,
প্রকাশ্যে তারা মানে তাঁকে বিশ্বাসী উপদেষ্টা
কিন্তু মান্য করে না তার উপদেশাবলি।

কবি বুদ্ধ-ট্রাডিশনকে লঙ্ঘন করা দেখে বিষণœবোধ করেন। একে তিনি মনে করেন বুদ্ধের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
গৌতম নেই বেঁচে এখন, নেই তাঁর আলোকপ্রভা কত শতাব্দী আগে প্রয়াণ হয়েছে তাঁর কিন্তু আজকের দুনিয়ায় আবার মৃত্যু
তাঁর এখন পরিত্যক্ত তিনি মানুষের হৃদয় থেকে।
য়ুসুফ জাফর পাকিস্তানের নয়া ধারার সুপরিচিত কবি, মানবজাতির  আধ্যাত্মিক ইতিহাসে প্রেম ও করুণার প্রতিমূর্তি গৌতম বুদ্ধকে অভিবাদন জানিয়েছেন ‘হাফ্ত খাওয়ান’ (একটি সময়ের কাহিনী) কবিতায়। প্রতীক হিসেবে গৌতম দু’বার এসেছেন কবিতায়:
‘নীরবতার মূর্তির মত আমি কাটাই অসংখ্য বছর’ এবং
‘আমার অন্তর থেকে বিদায় নিয়েছে বাসনা
যেমন পাখিরা চলে যায় নিষ্পত্র বৃক্ষ থেকে’।
কবিতার শেষে সময় (কাল) দাবি করে সাক্ষ্য রাখার এবং সিদ্ধার্থের দৃষ্টির মাধ্যমে ‘রিয়ালিটিকে প্রত্যক্ষ করার:
আমি ছিলাম গৌতম। আমার দৃষ্টিতে
প্রতিমূর্তি গঠিত কামনা ও বাসনার মৃত্তিকায়
এখন সৃষ্টির লাবণ্য, স্বর্গীয় হৃদয়ের আলোকে,
যারা ছিল আমার জীবনের পিছনে এখন আমার আত্মার অংশ,
আমি সমর্পণ করেছি তাদের আমার দৃষ্টির ব্যাপ্তি
আমার অসীম ভালবাসা তাদের জড়িয়ে রাখে
আমার অনুভূতির আলোক আমার
হৃদয়ে জাগরুক
মহান ভূভাগের আমি অনুসন্ধানী
আমি খুঁজে পেয়েছি লক্ষ্যের সুত্র
আমার চোখ লক্ষ্যেরই আলোক।
স্বয়ং বোধিসত্ত্বের সঙ্গে সময়ের (কালের) স্বয়ং সনাক্তিকরণ যথার্থই এক অসাধারণ শ্রদ্ধাঞ্জলি। দুই
¯তূপ এবং গুহাগুলি হল বৌদ্ধ সংস্কৃতির অবিচ্ছিন্ন অংশÑতীর্থযাত্রী ও কলাবিশারদদের কাছে অনবচ্ছিন্ন আকর্ষণ-কেন্দ্র। উর্দু কবি ও পণ্ডিত জগন্নাথ আজাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সাঁচি ¯তূপ। তাঁর ভোপাল কবিতায় এই ¯তূপটির উল্লেখ। কবির কাছে সাঁচি প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিক উওরাধিকারের, স্মারক-স্থল এবং ভাণ্ডার:
তোমার বক্ষে সুপ্ত ভারত ইতিহাস
ক্রোড়ে বিশ্রামরত সাঁচি,
হ্যাঁ, ইতিহাসের স্বর্ণোজ্জ্বল পৃষ্ঠা সাঁচি,
অতীতের কথা জানায় আমাদের
তার বুকে তেরোশো বছরের গাথা
অতীত-বিশ শতকের কথা বলে এখানের
প্রতি অণু-পরমাণু।
মুনিব-উর রহমানের ‘অজন্তা’ কবিতায় শুধু গুহার শিল্পকলা ও ভক্তিভাবেরই সমন্বয় ঘটেনি, চিত্রকলায় যে-রহস্যময় গভীরতা রয়েছে, তারও প্রকাশ। তিনি সেই অনামা শিল্পীদের বিষয়েও গভীর অনুধ্যান করেছেন যাদের পরিশ্রম ও শিল্প-নৈপুণ্য এগুলির আকার দিয়েছে। শিল্পীরা অনামা কিন্তু দর্শকরা শিল্পের অনুপম সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে যান: অনেকেই দর্শন করবেন এখানে
কিন্তু পাবেন না তারা, সন্ধান করুন তাদের
এই প্রস্তরের অন্তরে, হয়তো রয়েছেন প্রচ্ছন্ন।
এটাই শর্ত এই অনিন্দ্য চারুকলার
যিনিই করবেন সন্ধান এর রহস্যে হবেন বিলীন!
হায়দ্রাবাদের সিকান্দর আলি ওয়াজেদ (-১৯৮৩)-ও একটি দীর্ঘ কবিতা লিখেছেন অজন্তা গুহার উপরে। তিনি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন সেই সব অজানা সাধক-শিল্পীর উদ্দেশ্যে যারা  আত্মবিলুপ্ত হয়েছেন বুদ্ধের অনুসারী হয়ে। অজন্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন-এখানকার  প্রতি ধূলিকণায় স্বর্গীয় মহিমা। কবি মনে করেন-এখানে মৃত্যুর উপরে জীবনের জয়গান, এই চিত্রকলাগুলি প্রকাশ করে চারুকলার দেবমহিমা, সভ্যতার শীর্ষমান, বৌদ্ধধর্মের অন্তর্নিহিত গরিমা:  প্রিজম-নিলয় পুত পাণ্ডিত্যের, মানবের মাস্টারপিস প্রকৃতি নোয়ায় মাথা এখানে শিল্প-কলা কৌশলের কাছে
এখানে অনিন্দ্য কৃস্টাল-বিচ্ছুরিত কৃষ্টি গরিমা
জীবনের সৌন্দর্যে প্রবাহিত গৌতম-ব্যাখ্যায়
নব আশা বিদিত করে মৃগয়ু হৃদয়ে
শান্তির সন্ধানে কৃষ্টি-ক্যারাভান থেমেছে এখানে।

শিল্পী-কারিগরের অত্মোৎসর্গের প্রতীক অজন্তা আশার বাণী, শান্তির আলোকোজ্জ্বল নিদর্শন। কবির ভাষায় এক ভাগবত মিশনের জন্যে আনন্দিত পরিত্যাগ। তাঁর অন্য বৌদ্ধ কবিতা এলোরায় শিল্পীদের থেকে সরে ফোকাস পড়েছে খোদিত কারুকলার উপরে। ষষ্ঠ স্তবকবিশিষ্ট এই কবিতার সূচনা উৎফুল্লময়তায়:
মননের অমৃত এই প্রস্তরের বুদ্বুদ থেকে
শিলার হৃদয়ে গোপন স্পৃহা-আকাঙ্খা
জীবন ব্যাপ্ত করে তার অকুঞ্চিত আনন।

এই গুহাগুলি মানবজাতির কাছে শান্তির শপথ, তারা চায় অনুভূতিময় চোখ এবং মনোযোগী শ্রবণ। যে-আলোক একদা এখানে প্রজ্জ্বলিত হয়েছে, তা এখনও উজ্জ্বল, যদিও অবহেলার কালো মেঘ এখন ছায়া ফেলে:
এই গিরিরাজির পাশে রয়েছে আত্মার শান্তি
তাদের জাগ্রত স্বপ্ন অপেক্ষা করে উৎসুক আঁখি, প্রতি সকাল সন্ধ্যায় এখানে চালনা
করে হৃদয়
কাল (সময়) চিন্তা করে এখানে, অপেক্ষা করে প্রিয়জনের
জ্ঞান হাতড়ায় সূত্রের জন্য, পায় না তা
ধূলিকণা ভাসে চারিদিকে, ক্যারাভান এড়িয়ে যায় দৃষ্টি।
আরো একটি গুহাবিষয়ক কবিতার কথা উল্লেখ করা যায়। অজন্তা থেকে ২০০ কিমি দূরে রয়েছে বাঘ গুহা। আরেক উর্দু কবি আমীক হানাফি এর উপরে লিখেছেন কাব্য ফিচার, ‘পাথরোঁ কি তমান্না’। এর মধ্যে রয়েছে বাচকের ভাষ্য, শ্রমের ভালবাসাজনিত কলাকৃতির অভিপ্রায় এবং প্রকৃতি। মাঝে মাঝে রয়েছে কোরাস, যেমন-
এখন আমাদের নেওয়া যাক আশ্রয়: আমি আশ্রয় নেব বুদ্ধের
চাই আশ্রয় আমি ধর্ম্মের
চাই আশ্রয় সংঘের;
সমস্ত অরণ্য হোক প্রতিধ্বনিত
পাতার পরে পাতা গভীর প্রার্থনায়
দ্যাখো, মধ্যচক্র হচ্ছে আবর্তিত
করুণা-আলোক নৃত্য-চঞ্চল
শৈল-অন্তর মোমের মত গলিত।
তিন
উর্দু কথাসাহিত্যে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপ্ত কুরাতুলয়্যান হায়দার (১৯২৭-২০০৭) এক মহীরূহ লেখক। উর্দু সাহিত্যে মহান অবদানের জন্যে তিনি  চিরস্মরণীয়া। অনেকে ‘আগ-কি দরিয়া’কে (১৯৫৯-৬০) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে মনে করেন।
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত প্রসৃত পটভূমিকায় রচিত এই কাহিনী-সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েই এর রূপ-রস আস্বাদন সম্ভব। বৈদিক কালের সভ্যতা-সূর্যোদয় থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত স্বাধীন ভারতের সামগ্রিক রূপ এই উপন্যাসে বিধৃত। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র চিরন্তন কাল (ঞরসব)। কাহিনীর শুরু বুদ্ধের আমল থেকে, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে যখন বৌদ্ধ ধর্মান্দোলন দেশের প্রাচীন বিচারধারায় এক নতুন দিক-দর্শন এনেছিল। উল্লেখ্য চারটি কাল বিভাগের প্রথম পর্যায়ের প্রধান চরিত্রের নাম গৌতম-নীলাম্বর।

সমগ্র গ্রন্থের প্রথম দিকের সতেরটি অধ্যায় (সমগ্র  উপন্যাসের এক ষষ্ঠাংশ) নিবিড় হয়ে আছে বুদ্ধের প্রতিধ্বনি এবং পরোক্ষ উল্লেখে। বৈদিক এবং বৌদ্ধযুগের প্রতিনিধিত্ব করেছে শ্রাবস্তীর শিল্পী-স্কলার গৌতম-নীলাম্বর এবং তরুণ ব্রাহ্মণ হরিশঙ্কর। তারা দু’জনেই যুগ-যুগ ধরে আনুক্রমিক পুনর্জন্মে ভিন্ন ভূমিকা ও পোশাকে আবর্তিত। তক্ষশীলায় শিক্ষা সমাপ্ত করে হরিশঙ্কর ভ্রমণ করেছে দ্বারকা, মথুরা এবং হস্তিনাপুর এবং যদিও শাক্যমুনির সাদৃশ্যে সে পীতবস্ত্র ভিক্ষু আবরণ গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে কোন গোঁড়ামি নেই। তার অনুসন্ধিৎসা এখনও অব্যাহত, কাশী যাবার পথে তার সাক্ষাৎ হয় গৌতম-নীলাম্বরের। মাত্র একশো বছর আগে গৌতম বুদ্ধ এখানে বসবাস এবং জায়গাটির গরিমা বৃদ্ধি করেছেন। তখন ভিক্ষু কাল্ট খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং বৌদ্ধধর্ম হয়েছিল সাম্প্রতিকতম ইন্টেলেকচুয়াল ট্রেন্ড।

শঙ্কর-নীলাম্বর সাক্ষাৎকালে, দুই বন্ধুর বাদানুবাদে ব্রাহ্মণ-বৌদ্ধ ভাবধারার কথা বোঝা যায়। হরিশঙ্কর ব্যাখ্যা করে অনিত্যতার, চিরন্তন দুঃখ-ক্লেশের মতবাদ। সে ব্যাখ্যা করে কারণ ফলাফল সূত্রের এবং বর্জন করে কাল্পনিক চিন্তার। এই অবিচ্ছিন্ন ক্লেশ-অনিত্যতার কথা রয়েেেছ আবার ষষ্ঠ অধ্যায়ে। নবম অধ্যায়ে আনন্দ এবং শাক্যমুনির অরহথুদ (?)-মতবাদ উপন্যাসে একটি স্পষ্ট বৌদ্ধিক রঙ দেয়। দশম অধ্যায়ে অগ্নি-উপদেশের সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি, চিত্ত-নাম্মী এক ভূতপূর্ব বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর গান সুমন গেয়ে শোনায় চম্পককে। তরুণী সুমন জীবিত বুদ্ধকে দেখেছে। সে নারী সম্বন্ধে গৌতমের মন্তব্য চম্পকের কাছে বলে এবং প্রভুর নিষেধ সত্ত্বেও ব্যক্ত করে নারী-সৌন্দর্য-মুগ্ধ আনন্দের বৃত্তান্ত। উপন্যাসটির পরবর্তী কাহিনীধারায় আরেক চম্পা বিংশ শতাব্দীর নীলাম্বরের সঙ্গে বাক্যালাপে গৌতম সিদ্ধার্থের এবং সারনাথের কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধিৎসা এবং অর্জিত গুণবত্তার প্রতিক হিসেবে। একই অধ্যায়ে লন্ডনের এক অ্যাপার্টমেন্টে হরিশঙ্করের সঙ্গে বাক্যালাপে চিরন্তন পরিবর্তনের প্রক্রিয়াস্বরূপ নিজের শৈশবাবস্থা এবং শাক্যমুনির কথা উল্লেখ করে। এই সমস্ত থেকে বুদ্ধের জীবন এবং দর্শনের  উপরে  কুরাতুয়্যান হায়দারের গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।

তাঁর অন্যান্য রচনায় বৌদ্ধধর্মের ক্ষণিক উল্লেখ পাওয়া যায়, যেমন আত্মজীবনীমূলক দু’খণ্ডের উপন্যাস ‘কর-এ জাহাঁ দরাজ  হ্যায়’ (১৯৭১-৭৯) এবং ‘চান্দনি বেগম’ (১৯৯০)-এ বৌদ্ধধর্মের পরোক্ষ  উল্লেখ রয়েছে। একাদশ অধ্যায়ে আমরা দেখা পাই একজন বৌদ্ধ রমণী ও কয়েকজন পশ্চিমা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীর যারা আমদানি-করা তাঁবুতে বাস করছেন লুম্বিনির কাছে। ঐ একই অধ্যায়ে কয়েকজন  পাকিস্তানি টুরিস্ট গয়ার বোধিবৃক্ষ দর্শন করে তার শাখায় ইচ্ছাপূরণ সুতো বাঁধা দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, কয়েকজন জাপানি  ও থাইল্যান্ডের তীর্থযাত্রী সেখানে প্রার্থনা করছেন। বৃক্ষতলে উপবিষ্ট পাকিস্তানিদের উপরে ঝরে পড়ছে গাছের পাতা, সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় শান্তির অনুভব, মহামন্ত্র ‘ওঁ মণিপদ্ম হুম’-এর সুস্বর স্তব আচ্ছাদিত করছে এক অতীন্দ্রিয় ইন্দ্রজালে। হায়দারের আরেক নভেলেট ‘সীতা হরণ’-এ অসংখ্য বৌদ্ধ প্রতিধ্বনি ও উল্লেখ, সংবেদন রয়েছে অনুরাধাপুরের বৌদ্ধবিহার ও স্তূপের, গ্রন্থের দ্বাদশ ও ষোড়শ অধ্যায়ে সুস্পষ্টভাবে এসেছে বুদ্ধ ও আনন্দের মূর্তির কথা। কুরাতুলয়্যান হায়দারের বৌদ্ধধর্ম-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের এগুলি কিছু দৃষ্টান্ত, তিনি এর মধ্যে দিয়ে যথার্থই উর্দু সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছেন।

বৌদ্ধ ভিক্ষু, উপদেশ, জাতক প্রভৃতির স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় আরেক উর্দু কথাসাহিত্যিক ইন্তিজার হুসেইনের রচনায়। তার সুররিয়ালিস্ট গল্প ‘শহর-এ আফসোস’ (দুঃখের শহর)-এ তিনটি শব তাদের মৃত্যুর সম্বন্ধে দেওয়া বিবরণ বদলাবদলি করে। তাদের একজন  বুদ্ধ এবং তাঁর দর্শনের উল্লেখ করে মন্তব্য করে: গয়ায় আমার জন্ম হয়েছিল। গয়ার এই ভিক্ষু উপলব্ধি করেছিল দুনিয়া দুঃখে পরিপূর্ণ নির্বাণের কোন পথ নেই। বিবরণকারী বলে-এমন কি চিন্তন এবং সত্য মোহময় ধারণা। হুসেইনের আরেকটি গল্প ‘পত্তে’ (পাতাগুলি)। লেখক চিত্রিত করেছেন কামনা এবং বাসনার সঙ্গে মানুষের বিবাদের কথা যা শেষ পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়। কিন্তু পতিত হবার মাঝখানে শরৎকালীন পাতাগুলি, একজন হয়তো দেখতে পায় নবাঙ্কুর, জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণার মধ্যে। লেখকের ‘কচ্চেওয়ে’ (কচ্ছপ) গল্পটি জাতকনির্ভর। বেনারসের অধিপতি রাজা ব্রহ্মদত্তের সময়ে বিদ্যাসাগর বর্ণনা করে বুদ্ধের পূর্ববর্তী জন্মের কথা তোতা পাখি, ময়না, বানর রূপে। বোধিসত্ত্ব নৃপতির কৌতূহল প্রশমিত করেন একটি কাহিনী বলে যেখানে কিছু সারস পাখি কয়েকটি কচ্ছপকে উদ্ধার করতে চেয়েছিল একটি কাঠির সাহায্যে শুষ্ক পুকুর থেকে। কচ্ছপদের সারস পাখিরা বলেছিল-তাদের মুখে-ধরা দণ্ডটি শক্ত করে ধরে থাকতে। কিন্তু নিচের শোরগোল শুনে কচ্ছপরা মুখের দণ্ডটি আলগা করে দিলে নীচের  শক্ত ভূমিতে পড়ে প্রাণ হারায়। কাহিনীগুলিতে বুদ্ধদেবকে  নানা নামে অভিহিত করা হয়েছে-তথাগত, বুদ্ধদেব এবং অমিতাভ এবং উল্লেখ করা হয়েছে গৌতমকে পায়েসান্ন দেবার কথা দীর্ঘ কঠোর সংযমী ক্লেশপূর্ণ তপস্যার পরে। হুসেইনের ‘ওয়াপস’ (গৃহে প্রত্যাগমনে) গল্পে তথাগতের পূর্বজন্মের কথা বর্ণিত যখন শ্মশান-ক্ষেত্রে সারমেয়রূপে তাকে শাস্তিÍ পেতে হয়েছিল প্রাসাদের গৃহমৃগের অপরাধের জন্যে। কিন্তু অচিরেই ভুল সংশোধিত হয়। তারপর বহু শতাব্দী ধরে বেনারসে শান্তি এবং ন্যায়পরায়ণতা বিরাজ করেছে।

আরেক উর্দু লেখক শ্রবণকুমার বর্মা ‘তহরীক’ পত্রিকার রজতজয়ন্তী সংখ্যায় (১৯৭৮) একটি গল্প লিখেছেন ‘দুসরা বুদ্ধ’ (অন্য বুদ্ধ) নামে। এর মধ্যে বুদ্ধ মিথ ব্যবহার করা হয়েছে বসন্ত নামে এক স্কুল শিক্ষকের দুর্দশা এবং মানসিক চাপ চিত্রিত করতে। এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র জীবিকা উপার্জনকারী সে। ঘরে তার অসুস্থ পিতা এবং অবিবাহিত ভগ্নী যার বিবাহের পণের টাকা তার কাছে নেই। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে তাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, এমন কি তার  হৃদয় হীন মালিকের কাছ থেকে প্রাপ্য বেতনের একাংশও সে পায় না। তার বেকার ছোটভাইকে অভিযুক্ত করা হয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের কারবারে। সমস্যাতাড়িত হয়ে সে পরিবারও  বাসগৃহ থেকে পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। সে তখন রেলওয়ে স্টেশনে টিকেট কিনবার জন্যে দাঁড়ায়, এক ভিখারিণী তার শুষ্ক স্তন পানরত শিশুকে নিয়ে তার কাছে ভিক্ষা চায়। কয়েকজন অভব্য পথচারী যখন সব স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে, তার চোখে ভেসে ওঠে তার স্ত্রী ও সন্তানের ছবি, একই অবস্থায় তাদের ক্লিষ্ট অবস্থা কল্পনা করে সে এক নতুন উপলব্ধি এবং সংকল্প নিয়ে ঘরে ফেরে, ভোরের    তারার মধ্যে সে খুঁজে পায় উজ্জ্বল আলোক-যেন নতুন জ্ঞানের দীপ্তি সঙ্কেতময়। প্রথম বুদ্ধ তাঁর জীবনের সুখ-ভোগ ত্যাগ করে আত্মত্যাগের মাধ্যমে জ্ঞানালোক লাভ করেছিলেন, কিন্তু বসন্ত হল অন্য যে বিপরীত দিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এটি হল নির্বাণের আরেকটি দিক।

নির্বাণ-মোটিভ রূপায়িত মেহদি টোংকির ‘এক আউর নির্বাণ যাত্রা’ (আরেক নির্বাণ-যাত্রা) গল্পে। গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল তহরীক পত্রিকার ঐ একই সংখ্যায়। গল্পটিতে রূপায়িত এক ব্রিলিয়ান্ট কিন্তু অসামাজিক স্কলারের মনস্তাত্তিক জটিলতা। অত্যন্ত কঠোর পরিবেশে বড় হয়ে ওঠার ফলে বীরেন্দ্র হয়ে ওঠে নারী বিদ্বেষী এবং যৌন-শীতল। সে হতবুদ্ধি হয়ে ভাবে বিয়ের আগে সেক্স কেন নিষিদ্ধ (ট্যাবু) যেখানে বিবাহ বদ্ধন হলে সেই রঙ্গ-তামশা হৈ-হুল্লোড় আর উৎসব -অনুষ্ঠানের সামাজিক আয়োজন। পরিবারের লোকেরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করলে সে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যায় যার উপদেশ বীরেন্দ্রর মনের বাধা খানিকটা অপসারিত হয়। ইতোমধ্যে একজন আত্মীয়া তাকে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত করে এবং সে নারী শরীরে খুব আনন্দ পায়। ইচ্ছা ও কামনা তাকে আচ্ছন্ন  করে। সে কামনার জাল থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। পরিণয়ের পূর্বেই রাতে সে চুপিসারে বাড়ি  থেকে বের হয়ে আসে। গৌতম বুদ্ধের মত ত্যাগ-পরিহারের মধ্যে সে শান্তি খোঁজে।

মেহ্দি টোংকির আরেকটি গল্প ‘জানদার কি পেহচান’ (জীবিতের চিহ্ন)-এ বুদ্ধের বাণী উদ্ধৃত করেছেন। গল্পটি মুম্বাইয়ের সাহিত্যপত্র ‘শা-ইর’-এর ১৯৮৪ জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। একটি ওয়ান-রুম অ্যাপার্টমেন্টে কীভাবে টেনশন ও চাপের ফলে দুটি জীবন শুষ্ক হয়ে যায়, সেই বিষয়টি গল্পের উপজীব্য কাহিনীটিতে রয়েছে মানসিক দুঃখ কষ্ট এবং অনাসক্তি বিষয়ে গৌতম বুদ্ধের উদ্ধৃতি। নঙ্গম আরভির ‘ম্যয় আর শাক্যমুণি’ (আমি আর শাক্যমুণি) গল্পটি গড়ে উঠেছে বুদ্ধের তিনটি দর্শন-বৃদ্ধাবস্থা অসুস্থতা ও মৃত্যু নিয়ে। বিবরণকারী করাচি শহরে দেশান্তরিত এক দরিদ্র ব্যক্তি যে দুঃসহ জীবনযাপন করছে। এই ভারতীয় বৃদ্ধ রিফিউজি এক পুরনো জিনিস সংগ্রহকারী (ঔঁহশ ঈড়ষষবপঃড়ৎ)-র ডাক শুনে বাইরে এসে তার কাছে শোনে তার বুদ্ধের রথ চালকের কথাÑযে  তাকে বলেছিল বৃদ্ধাবস্থা ও মানুষের দুর্দশার কথা। তার একপেশে ভালবাসার পাত্রী অসুস্থ প্রতিবেশী রিফিউজি তরুণীর মানসিক অবস্থা দেখে সে মর্মাহত। ভাইয়ের মৃত্যুর সঙ্গে মেয়েটির আত্মহত্যা সমান্তরালে নিয়ে সে বুদ্ধের মৃতদেহ দেখার কথা ভাবে। বেদনার্ত মোহমুক্ত বিবরণকারী এই কথা বলে নির্বাণের আকাঙ্খা করে আমি মানুষ আমি ব্রহ্ম-আমি কপিলাবস্তুর কারবারি। আমি আদিম চিরন্তন মানুষ  ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। আমার সামনে শূন্যতা আমাকে গোগ্রাসে একটু একটু  করে গিলছে… আমি এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে চাই… শান্তি শান্তি।

উর্দুর প্রাচীন ভারতীয় উত্তরাধিকারের দুটি প্রাচীন স্মারক পাওয়া গেছে বুদ্ধের প্রসঙ্গে, একটি প্রণয় সংক্রান্ত শব্দের বুৎপত্তি অনুসন্ধানে, অন্যটি পারসিক সাহিত্যে সুফী চিন্তাধারার প্রভাবে অসুখী বিশ্বদৃষ্টি দর্শনে। উর্দু লেখকদের বোধিসত্ত্বের প্রতি প্রত্যক্ষ, সচেতন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আগ্রহ বিশ শতকেরই সংযোজন। উর্দু কবিতা ও কথাসাহিত্যে প্রচুর উল্লেখ দেখা যায় বুুদ্ধদেব, বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং তাদের ভক্তিপূর্ণ শিল্পকর্ম সম্বন্ধে। এই লেখকেরা বৌদ্ধ মনন, মিথ ও জাতক-কাহিনীর মধ্যে আধুনিক মানুষের জটিল মানসিক সমস্যা এবং হতবুদ্ধিকর পরিস্থিতির ব্যাখ্যা খুঁজেছেন।

লেখক : ভারতের প্রাবন্ধিক
সূত্র : ভারত বিচিত্রা, এপ্রিল-২০১২

Nirvana Peace Foundation

নির্বাণা কার্যক্রম
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সম্পন্নশিশু কিশোরদের… ( বিস্তারিত )
Image
নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন নির্বাণা পিস ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা… ( বিস্তারিত )
Image
পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান পূর্ব আধারমানিক মানিক বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের আর্থিক অনুদানের… ( বিস্তারিত )
আরও
সংবাদ সমীক্ষা
Image
সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২ জানুয়ারি সাহিত্যিক সাংবাদিক বিমলেন্দু বড়ুয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী ২২… ( বিস্তারিত )
আরও