২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৬ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 23 সেপ্টেম্বর 2015 17:20

এক গুচ্ছ কবিতা : রুমি চৌধুরী

লিখেছেনঃ রুমি চৌধুরী

এক গুচ্ছ কবিতা : রুমি চৌধুরী

নির্জনতার সুখ

নির্জনতা আমার বড্ড ভালো লাগে
কারণ এই নির্জনতায় এলেই
তোমায় আরো বেশী কাছে পাই।
তোমার হাতের স্পর্শ পাই
গায়ের গন্ধ পাই
আর তোমার চুলের ওই মিষ্টি সুঘ্রাণে
আমি বড় বেশী বিভোর হয়ে যাই।
নির্জনতা আমাকে বড্ড কাছে টানে
সবুজ প্রকৃতি আমাকে আকুল করে।
মাতাল হাওয়ায় কৃষ্ণচূড়ার বনে
আটকে থাকে চোখ।
কাশফুলেরা হাতছানি দিয়ে ডাকে
কোন এক শিউলি ফোঁটা ভোরে।
নির্জনতায় আমি পথ হারাই
অনেকটা ইচ্ছে করেই হারাই।
কারণ কল্পলোকের অসীম সুখের মত
নির্জনতার সুখটাও যে
আমি গভীরভাবে পেতে চাই।
হঠাৎ সব নির্জনতার দেয়াল ভেঙে
একদল ঘাসফুল আমাকে পিছন থেকে ডাকে।
আচ্ছন্নের মত ফিরে তাকাতেই দেখি
সর্ষে ফুলের মত হলুদ আভা নিয়ে
দাঁড়িয়েছ তুমি, একগুচ্ছ রজনীগন্ধা হাতে
আমি হাঁটুগেড়ে বসি ঘাসফুলদের ঝাঁকে
চুপি চুপি বলি- অনেক ভালোবাসি
তোমাদের, আর ঐ স্বপ্নকুমারকে।।

ছায়াসঙ্গী

আমি আছি তোমার পাশে সকল কিছুর মাঝে,
ছায়ার মত সঙ্গী হয়ে আছি সকাল সাঝে।
শিশির ভেজা শিউলি তলার কোমল দূর্বা ঘাসে,
ঘুম ভাঙানো অলস ভোরেও আছি তোমার পাশে।
ধোঁয়া উঠা গরম কফির শেষ চুমুকেও আছি,
মেরুন রঙা শার্টের ভাজেও থাকি কাছাকাছি।
ব্যস্ত দুপুরে কাজের ফাঁকে স্বস্তি খোঁজ যখন,
শীতল পরশে পরম আবেশে ভেজাই তোমার মন।
শান্ত বিকেলে লেকের পাড়ে আড্ডামুখর ক্ষণে,
পারফিউমের কড়া গন্ধেও আছি তোমার সনে।
রিডিং রুমে বইয়ের মাঝে যাও যদি হারিয়ে,
সঙ্গ দিই জীবনানন্দের বনলতা হয়ে।
ব্যালকনিতে টবে রাখা বনসাঁইদের ঝাঁকে,
আছি আমি চাঁদনী রাতে উদাস তোমার চোখে।
লুকিয়ে আছি মিষ্টি মুখের দুষ্ট হাসির আড়ালে,
ভোরের স্বপ্নে হাত বুলাই এলোমেলো চুলে।
তোমার সকল সুরের মায়ায়, সকল গানের ছন্দে,
জড়িয়ে আছি ভালোবাসায় নব হাসি আনন্দে।


স্বপ্ন না সত্যি

একটা সময় ছিল যখন
তোমায় শুধু দূর থেকেই দেখতাম।
দূর থেকে দেখেই মনের সাধ মেটাতাম
ভালো লাগার কাশফুলগুলো
পূবালী হাওয়ায় দোল খেত।
আর আমার মনকে ভিজিয়ে দিত
অপূর্ব শিশিরের সিক্ততায়
যখন তোমার দেখা পেতাম।
তোমার কাছাকাছি যাওয়ার দুঃসাহস
কোনদিনও হয়নি আমার
কারণ আমার কাছে তুমি ছিলে
একটা নক্ষত্রের মতো
যাকে শুধু দূর থেকেই অবলোকন করা যায়।
তাই শত যোজন দূরত্বে থেকেই
তোমার কথা ভাবতাম।
অথচ স্বপ্নগুলো এতই অবাধ্য ছিল........
শুধুই তোমায় কাছে পেতে চাইত
তোমাকে ওই আকাশ থেকে নামিয়ে
ঠিক আমার পাশে এনে বসাত।
গল্প আর খুনসুটিতে মেতে উঠত
ভালোলাগা- ভালোবাসার কথা বলত।
তবে স্বপ্নের ওই অবাধ্যতাকে
আমি খুব যত্নেই প্রশ্রয় দিতাম।
কারণ বাস্তবে না হোক
স্বপ্নেতো তোমায় কাছে পেতাম।
হঠাৎ একদিন - কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণে
স্বপ্ন আর কল্পনাকে বহু দূরে ফেলে রেখে
আমি বাস্তবেই তোমায় পেয়ে গেলাম।
আরে ! একি স্বপ্ন না সত্যি !
নাকি আমার অবুঝ মনের
অলীক অধরা কল্পনা ?
দূর আকাশের ধ্রুবতারাটা আজ
আমারই কাছে ধরা দিয়েছে !
আমি বুঝতে পারিনা
এখনও সত্যিই বুঝতে পারিনা।

মন ভালো নেই

আজ মন ভালো নেই
ভালো লাগেনা কিছুতেই
কালো মেঘে ছেয়ে আছে আকাশটা।
বৃষ্টি ভেজা কাক
বিষন্ন হয়ে থাক
উদাসীন বইছে বাতাসটা।
আমার এ মনের কোণে ধরেছে যে জং
ব্যথায় বর্ণহীন ফ্যাকাশে,
পলাশের ডালে তাই নেই কোন রঙ
বিবর্ণ হয়ে গেল নিমেষে।
নীড় হারা পাখি আজ
নীড় খুঁজে না পায়,
পথ হারা পথিকের বোবা কান্নায়।
বন্ধুর আড্ডায় মন বসেনা
পানসে মনে হয় বইয়ের পাতা,
স্রোতের বিপরীতে চলছি আমি
শূন্য পড়ে রয় কবিতার খাতা।
অন্ত্যমিল নেই গানের ছন্দে
পাইনা আগের সেই আবেশটা।
জীবনের সব ফুল
অবেলায় ঝরে গিয়ে
হারালো তার সুবাসটা।।


দুই কালপ্রিট

ইদানিং স্বপ্নগুলো বড্ড বেশী বেহিসেবী হয়ে গেছে।
কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যতই সীমানা টানি
ততই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ক্রমান্বয়ে তারা রঙ পাল্টাচ্ছে, রূপ পাল্টাচ্ছে।
কখনোবা শরতের সাদা মেঘের
ভেলায় ভেসে বেড়াচ্ছে।
আবার কখনো পূবালী হাওয়ার তোড়ে
দূর অজানায় মিশে যাচ্ছে।
কখনোবা রঙধনুর সাতরঙে রঙিন হচ্ছে।
আবার কখনো চাঁদের বুড়ির সাথে
মিতালি পাতিয়ে চড়কায় সুতো কাটছে।
তারা মানছেনা বাস্তবতার দোহাই
মানছেনা নিয়মের শৃঙ্খল।
এখন আবার তারা আমার
কল্পনাগুলোকেও চুরি করে নিয়েছে।
স্বপ্ন আর কল্পনা
মিলেমিশে একাকার হয়ে
আমার বাস্তবতাকে ভেঙে চুরে
চুরমার করে দিচ্ছে।
অসহায় এই আমি......
বাস্তবতা থেকে ছিটকে গিয়ে
কখনোবা স্বপ্ননদীতে সাতার কাটছি
আবার কখনো কল্পনার মায়াজালে জড়িয়ে
অচিন দেশের রাজকন্যা হচ্ছি।
আমি না পারছি স্বপ্নকে দূরে সরাতে
না পারছি কল্পনাকে এড়িয়ে যেতে।
অদ্ভুদ দোটানায় যখন আমি বিলীন হচ্ছি
ঠিক তখনি বাস্তবতা তার রক্তচক্ষু নিয়ে
সামনে এসে দাঁড়ায়।
আর ঐ দুই কালপ্রিট
আমাকে একা অপরাধী সাজিয়ে
মনের আনন্দে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

Additional Info

  • Image: Image