২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 26 আগষ্ট 2015 02:22

রুমি চৌধুরীর কবিতায় কথকথা

লিখেছেনঃ রুমি চৌধুরী

রুমি চৌধুরীর কবিতায় কথকথা

জীবন কি ?

জীবন সেতো উজান স্রোতে বয়ে চলা নদী,
সাগর পানে আনমনে সে ছুটে নিরবধি।
জীবন সেতো সুনীল আকাশ , একচিলতে আলো,
এই বুঝি তার কষ্ট ভীষণ, এই বুঝি তার ভালো।
জীবন সেতো পিছলে পড়া পদ্ম পাতার পানি,
নিরাশার অবাধ জলে আশার হাতছানি।
জীবন সেতো নীল জোছনা, আকাশ ভরা তারা,
আবার কখনো অমাবস্যায় হয় দিশেহারা।
জীবন সেতো কষ্টে থেকেও মুখে হাসির দোলা,
শত দুঃখেও কুশল জবাব 'ভালো আছি' বলা।
জীবন সেতো লক্ষ কোটি তারার সম্মেলন,
তবুও একটা চাঁদের আলোর স্রোতে ভাসাই প্রাণমন।
জীবন সেতো চলার পথে হঠাৎ পাওয়া দেখা,
মনের মাঝে ইচ্ছেমত তারই ছবি আঁকা।
জীবন সেতো চাওয়া পাওয়ার হিসেবে গরমিল,
ডেবিট ক্রেডিট যতই মিলাও হয়না অন্ত্যমিল।

চন্দ্রগ্রহন

ভরা পূর্ণিমা রাতে আলোকিত পৃথিবী
নীল জোছনার নীলাম্বরীতে মধুর চারপাশ,
জোনাকীর মিটিমিটি আলোর অপ্সরা রূপে
বিভোর করছে মন হাসনাহেনার সুবাস।
এ রাতের এত রূপ এ অপরূপ শোভা
সুন্দরতম হোক যত উপকরন,
অসম্পূর্ণ মনে হয় তোমায় ছাড়া
মনের আকাশে লাগে চন্দ্রগ্রহণ।
শেষ হয়না মোর এ পথ চাওয়া
অন্তহীন পথচলা হয়না সারা,
নিঃস্বঙ্গ জীবনের ভয়াল থাবায়
সঙ্গী শুধু হয় ঐ ধ্রুবতারা।
নিশ্চুপ নিরালার বোবা কান্নায়
নির্ঘুম কাটে রাত কত যাতনায়,
চাইনা কিছু আর ঐ বিধাতার কাছে
সর্বস্ব পেয়ে যাব পাইলে তোমায়।

অসহ্য সুন্দর

তোমার সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো
আমার জীবনের সেরা মূহুর্ত।
জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোর সব
তোমার সাথেই জড়িয়ে আছে।
ভালোলাগার রঙিন ঘুড়িগুলো

উড়িয়ে দিই স্মৃতির আঙিনায়।
কল্পনার ফানুসগুলো বাস্তবের
ফ্রেমে বন্দী হয়
যতক্ষণ তোমার সাথে থাকি।
ঘুমন্ত স্বপ্নগুলো অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলে দিই
সুন্দর বাস্তবতায় যখন তোমাকে দেখি।
কৃষ্ণপক্ষের আঁধার ভেঙে
শুক্লাপঞ্চমীর চাঁদ উঠে
মনের আকাশ জুড়ে
যখন তুমি সামনে এসে দাঁড়াও
মেঘভাঙা রোদের মত
সোনাঝরা আলোসম
একফালি সুখ নিয়ে দু'হাত বাড়াও।
তোমার চোখের তারায় অরন্য খুঁজি যবে
দৃষ্টি মেলে দেখি তোমার অসহ্য সুন্দর।

ভালোবাসার মূল্য চাই

এই যে আমি তোর হাসিটা সকাল সাঝে খুঁজি,
এই যে তোর চাঁদ মুখটা দেখতে চাই রোজই,
তুই কি তাতে বিরক্ত হোস বুঝি?
এই যে তোর গায়ের গন্ধে মাতাল হয়ে যাই,
এই যে তোর চুলের ভাঁজে আঙুল বোলাতে চাই,
কতটা ভালোবাসি তোরে কি করে বোঝাই?
এই যে তোরে রাখতে চাই বুকের পাঁজরে,
এই যে তোরে জড়াতে চাই গভীর আদরে,
পাষাণ মনটা কি তোর কিছুই বোঝেনা রে?
এই যে তোর চোখের ভাষা পড়ে নিতে চাই,
মনের গোপন কুঠুরীতে একটুকু ঠাঁই চাই,
তোর কাছে এর কোন মূল্য নাই?

নারী

নারী
তুমি কি কেবলি নারী ?
তুমি কি মানুষ নও ?
তুমি কি মানুষ হতে পারো না ?
তুমি কি শুধুই যন্ত্রমানবী ?
তোমার কি মন আছে ?
তোমার মনের অচিন দেশের খবর
কেউ কি কখনো রাখে ?
তুমি তো শুধুই শরীরসর্বস্ব একটা প্রাণী।
তাই তোমার শরীরের এত কদর।
তাইতো তুমি মূল্যবান একটা পন্য।
তোমার এই শরীর নিয়ে
দেশে বিদেশে কত আলোচনা - সমালোচনার ঝড়
তুমি কি রাখ সে খবর ?
হাজারটা ' না ' থেকেই তো তোমার জন্ম
উঠতে , বসতে , চলতে , ফিরতে
শুধু না না না।
ওখানে যেওনা , এটা করোনা
এসব গৎবাঁধা বুলি শুনতে শুনতেই তো
তুমি বড় হলে।
তুমি কি জান কোথায় তোমার অস্তিত্ব?
তা কি শুধুই ঐ নিবিড় গৃহকোণে ?
রাস্তায় , ফুটপাতে , মার্কেটে কিংবা গাড়িতে
কোথায় তোমার নির্বিঘ্নতা ?
সেই কাকডাকা ভোর থেকে মাঝরাত অবধি
চলে তোমার কর্মচঞ্চলতা
তুমি কি পেয়েছ এ কাজের কোন স্বীকৃতি?
পেয়েছ কি কখনো পুরুষের সম অধিকার ?
করেছ কি কখনো এর কোন প্রতিবাদ?
না না না , কখ্খনো না।
প্রতিবাদ ? সে তোমার কর্ম নয়
তুমি যদি মুখ তুলে কথা বল
তো মহাভারতের শুদ্ধতাই নষ্ট হবে।
কারণ এ জগত সংসারের কেউই তোমার নয়
তোমার স্বগোত্রীয় নারীরাই যে সর্বাগ্রে
তোমার দিকে তুলবে আঙুল।
তাই ধৈর্য্য এবং সহ্য
এই শব্দ দু'টোকে ভালোভাবে চিনে রাখ
কারণ এই শব্দ দু'টোই তোমার রক্ষাকবচ
এরাই যে তোমায় আমৃত্যু সঙ্গ দেবে।।

Additional Info

  • Image: Image