২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 26 জুলাই 2015 01:45

ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়ার এক গুচ্ছ কবিতা

লিখেছেনঃ ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া

ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়ার এক গুচ্ছ কবিতা

অশোকের শিলালিপি

খোলা বুকে যুগান্তরের জমাট পাথর ক্ষয়ে ক্ষয়ে অবশিষ্ট কথা জমা রাখে প্রজন্ম প্রহরে। পথ ভুলে যে পথিক দাঁড়াবে এখানে, হারাবে সে অলস বেদনা; কুড়াবে ঝরা শিউলি মালা গাঁথবে জন্ম-জন্মান্তরের উপাত্ত উপাদান। গিরিপথ ধরে আঁকা রেখা দিগন্তের বুক বরাবর কাহিনি বহন করে অশোকের মনোবাসনা। শ্যাওলা জন্মানো শরীরে পূর্ণিমা রাতের গান, তারাম-লের জোনাকি উঠোনে হাজারি গল্পের আসর চলতেই থাকে শ্রাবস্তীর নগরে-নগরে। আমরা যারা অনাগরিক মানে, না-গৃহী না-সন্ন্যাসী, যারা এ কুলেও নেই ওই কুলেও নেই, যারা কালে কালে কালমিতি মানি না কিংবা বুঝি না তারা হাজির হয়েছি সবুজের মাঠ পেরিয়ে গায়ে নুন ঘাম নিয়ে মুক্তির আশায় না বন্দীর বাঁধনে, জানি না
রুক্ষ পাথরে দুঃখ নিবৃত্তির পান্ডুলিপি জনে জনে যে বার্তা বলে, তা কেউ বুঝে, কেউ বুঝে না। কালক্রমে কিছু শব্দ মুছেও যায়, যেমন মন থেকে উবে যায় কাছে-দূরের বহু ঘটনার পাঠ। জলপ্লাবনে নড়ি না, অগ্নিদাহে জ্বলি না, উৎকীর্ণ শব্দরাশি বুকে চেপে বলে যায় জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক...


চন্দ্রবিন্দু

হিসাবে মিলাই; আকাঙ্খাও প্রাপ্তি। গাণিতিক মনে জাগতিক বেদনা জেগে ওঠে, চোখে ভাসে উপদ্রুত দিনরাত। আমার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরি, যদি কেন্দ্রচ্যুত হই, যদি শূন্যচারী হই, যদি আমিহীন মহাকর্ষ টান থাকে তবে সম্ভাব্যতা নিয়ে নীরব আয়োজন। আমি নেই, সঘন কুয়াশা হাঁটে সারিবদ্ধ অক্ষপথে, যাবতীয় ঢেউ তোলে গৃহস্থ উঠোন ও সাপ্তাহিক হাটে, দেখা হবে বলে গেল সবে, কথা ছিল যৌথ জীবনের দায় নিয়ে দিশেহারা হবে না শৈত্যপ্রবাহে, কত কথা রেখে গেল পথে-ঘাটে-বিলে-ঝিলে-বালুচর-উপত্যকা ও দেশান্তরি পাখির পালকে তার মানে মরমি পিপাসায় মায়ার তরঙ্গ ঢেউ জড়াবে আর ছড়াবে কিন্তু ছেড়ে যাবে না...
মৃত্যুর কথা মনে এলে সংকুচিত হতে হতে চন্দ্রবিন্দু হয়ে যাই। আর জানি চন্দ্রবিন্দু নিজে কিছু প্রকাশ করতে পারে না শুধু চন্দ্রের মতো জোছনায় অবগাহন ছাড়া...
নির্বাণের পথে নেমে মরুতৃষ্ণা নিয়ে নিয়তির পরিণতি খুঁজি মায়াসভ্যতার এই কম্পমান শেষ দিনে...

জন্মের প্রথম প্রহর

বহু চোখ ঘিরে রাখে
উঠে আসে বারংবার বংশের হিসাব, ঘিরে থাকে
চারিদিকে কলরব
কর্নিয়ায় শুধু খোঁজে সমরূপী অবয়ব
ফিরে আসে ছেলেবেলা
একা হাঁটি পুরো ঘর, ভরা ঘর, হাসি আর খেলা
ভরা বুকে বোবা টান
অগোছালো নিশিদিন, নবপ্রাণ
তবুও মাঝে ভ্রণঝড়
জরায়ুর চোরাজ্বরে উড়ো খড়
মায়াপাঠ আছে জানা
জতুগৃহে হার নেই, জিত নেই
ভিড় করে যুগপৎ হাসি আর কান্না...

অরণ্যকোড

ফেরার তাড়না ছিল তাই কুশল সংবাদ জানা হলো না। কিংবা দেখা হলো না পাহাড়ী পথে কারা কারা সহসাথী ছিল। অরণ্যের অধিকার নিয়ে যারা গর্বে কিচিরমিচির করতো দিনরাত তারা শীত নাকি যন্ত্রের কামড়ে কিছুটা হতাশায় নিমজ্জিত তারা কে কি অবস্থায় আছে তারও খবর নেয়া হলো না আমার। তাহলে কি সন্ত নই আমি দুনিয়ার সমস্ত খবর আমার চোখের সামনে অথচ দর্শনে অপারগ পঞ্চভূতের খবর নিতে যারা আগুয়ান ছিল তাদের পরবর্তী দলে আমি অদৃশ্য ইশারায় নিযুক্ত প্রহরী নিয়ম শিখিনি কিংবা জানিনা বলে বায়ু সমতলে থেকে অজ্ঞাত অতলে বাস। অনেক অনেক দিন আগে যারা বৃক্ষমূলে নাম লিখে স্মরণযোগ্য হতে চেয়েছিল, এইসব বৃক্ষলিপি নিয়ত ঘোষণা করে ঠিকানাহীন পরিচয়; ফলে দলে দলে লিখে যায় প্রিয় নাম, পরোক্ষ আশা নিয়ে যায় আবার আসার বাসনায় তাড়া থাকলেই বৃক্ষ গোপন মন্ত্র জানাতে সাড়া দেয় না; যারা দিব্য সাধনায় প্রমত্ত আর সঁপে দেয় জীবন অরণ্যে তাদেরকে শুধু কোডনাম্বার জানায় তথ্য ও সত্য ভান্ডারের গোপন চাবির।

ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া পেশায় একজন ডাক্তার হলেও ওনার মাঝে লুকিয়ে আছে বহু প্রতিভা। পেশার পাশাপাশি তিনি একজন কবি, লেখক, আবৃতিকার ও আরও অনেক কিছু। সর্বোপরি একজন সত্যিকারের সাদা মনের মানুষ।

Additional Info

  • Image: Image