২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 06 জুলাই 2015 03:00

রুমি চৌধুরীর কবিতার পঙতিমালা

লিখেছেনঃ রুমি চৌধুরী

রুমি চৌধুরীর কবিতার পঙতিমালা

ভালোবাসার সংজ্ঞা

ভালোবাসা মানে উজার করে
মনের কথা বলা,
ভালোবাসা মানে হাতে হাত ধরে
নিরন্তর পথ চলা।

ভালোবাসা মানে একটু ছোঁয়ায়
অনাবিল সুখ পাওয়া,
অনুভবের জোয়ার ভাটায়
শুধুই ভেসে যাওয়া।

ভালোবাসা মানে ঘোর অমানিশায়ও
জোছনা ভেজা রাত,
শত বিপদেও বাড়িয়ে দেওয়া
নিভরতার হাত।

ভালোবাসা মানে একটু বিরহে
চোখেরই জল ফেলা,
ভালোবাসা মানে চরম দুঃখেও
সুখের ডানা মেলা।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@


অনন্ত অপেক্ষা

অপেক্ষার প্রহরগুলো কেন এত দীর্ঘ?
কেন এত জ্বালা দেয় প্রতিটা মুহূর্ত?
প্রতিটা শ্বাস প্রশ্বাস কত লম্বা মনে হয়।
মনে হয় যেন অনন্তকাল আমি বসে আছি
সেই মহাকালের অপেক্ষায়।
মহাশূন্যের সব শূন্যতা যেন
গ্রাস করে আছে আমাকে।

এই একাকীত্বের কি কোন শেষ নেই?
এই নিশ্বঙ্গতার কি কোন ইতি নেই?

একরাশ কথার ফুলঝুড়ি নিয়ে
যদি তুমি আসতে,
ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে
যদি পাশে বসতে,
তবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য আমি
অপেক্ষা করতে রাজী আছি
যুগ যুগ ধরে,
তা সে অনাদিকালই হোক,
বা অনন্তকালই হোক।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@

নারীর ঠিকানা

তোমরা কি কেউ বলতে পারো
কোথায় আমার ঠিকানা?
কোথায় বাড়ী, কোথায় ঘর
আজও আমার অজানা।

যখন আমি ছোট ছিলাম
ছিলাম বাপের বাড়ী,
বড় হলাম, বিয়ে হলো
গেলাম শ্বশুড় বাড়ী।

এরপরেতো স্বামীর ঘরে
পেলাম আমি ঠাঁই,
বুড়োকালে ছেলের বাড়ী
এখন কোথায় যাই?

সারাজীবন খুঁজে ফিরি
নিজের একটা ঠিকানা,
মরার পরে চিতার আগুন
সেইতো আমার সীমানা।।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@

এমন বরষা দিনে

এমন বরষা দিনে, কেন যে মন টানে
মন চলে যায় সুদুরে।
এমন বাদল দিনে, কি জানি কেন যে
প্রাণের সুরভি ঝরে।

বৃষ্টি ধোয়া হাওয়া এসে, ছুঁয়ে যায় ভালোবেসে
প্রাণ করে যায় উদাসী চঞ্চলা।
মন ময়ুরী পেখম মেলে, কিছু কথা যায় বলে
রঙিন আবেশে হই উতলা।

হঠাত্ আলোর ঝলকানি, মনে পড়ে তার মুখখানি
কল্পনাতে কাছে তারে পাই।
শ্রাবনের এই ঝরনাধারা, কেন করে দিশেহারা
অকারণে পথ চেয়ে রই।

অথৈ জলের এই প্লাবনে, খুশির জোয়ার বইছে মনে
ভিজে হয়েছি একাকার।
মন নদীর ওই উজান ভাটায়, প্রেমের তরী ছুটে চলে যায়
বৃষ্টির সাথেই আমার গোপন অভিসার।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@


অন্তরালের ব্যথা

তোমরা সবাই দেখ শুধু আমার মুখের হাসি
সেই হাসিটির অন্তরালে
কতখানি আগুন জ্বলে
কেউ দেখনা কত রাত্রি নয়ন জলে ভাসি।

দুঃস্বপ্নের পায়রাগুলো মনে বাসা বাঁধে
কষ্টগুলো দ্বিগুন ব্যথায় নীরব সুরে কাঁদে।
প্রতিনিয়ত হৃদয়ে বাজে নীরব রক্তক্ষরণ
যন্ত্রণা আর ব্যথাগুলো ছেয়ে থাকে মন।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেঁচে থাকা দায়
অনন্ত পথ পাড়ি দিতে মন নাহি চায়।
হতভাগ্য জীবনতরী উজান খুঁজে চলে
অতৃপ্তির পাহাড়গুলো আশার কথা বলে।

একফালি সুখের আশায় মন আজ উদাসী
অধরা ঐ সুখপাখিটাও বাজায় দুঃখের বাঁশি।

@@@@@@@@@@@@@@@@@@


সুখ মানে কি?

সুখ মানে কি?
সুখ মানে কি শুধুই ভালো থাকা?
নাকি এর চেয়েও বেশি কিছু?

সুখ মানে কি প্রাসাদের মত বাড়ী?
নাকি এসি লাগানো গাড়ী?

নাকি দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে পরে
বেঁচে থাকার নামই সুখ?
সুখ মানে কি প্রিয়ার হাতটি ধরে
মুখোমুখি বসে থাকা?

নাকি কোন প্রবাসীর বউয়ের
জানালার গ্রীল ধরে তৃষিত চেয়ে থাকা?
সুখ মানে কি তরুণ দম্পতির
অবাধ খুনসুটি আর ভালোবাসাবাসি?

নাকি মায়ের কোলের অবুঝ শিশুটির
ঐ সরল মুখের হাসি?
সুখ মানে কি স্বামী-সন্তানের নিরাপদে থাকা, নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা?
নাকি উদ্দাম তারুণ্যের ভয়হীন যাত্রা

আর যৌবনের জয়ধারা?

আসলে সুখের সংজ্ঞাটা বড়ই কঠিন,
বড়ই আপেক্ষিক,
অল্প সুখে সুখী যারা
তারাই হয়তো ঠিক।

রুমি চৌধুরী: কবিতার ছন্দোময় শিল্পরুপ খুজে পাওয়া যায় তার লেখায়। প্রতিশ্রুতিশীল উদীয়মান লেখক ।

Additional Info

  • Image: Image