২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ইংরেজী
Clear

22°C

Chittagong

Clear

Humidity: 68%

Wind: 17.70 km/h

  • 23 Nov 2017

    Partly Cloudy 27°C 16°C

  • 24 Nov 2017

    Mostly Sunny 27°C 18°C

সোমবার, 04 নভেম্বর 2013 04:10

বুদ্ধ মূর্তির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

লিখেছেনঃ সাধনাজ্যোতি ভিক্ষু ( বি.এ (অনার্স), এম. এ (চবি), এম, এড (ডিআবি).

পৃথিবীতে যখনই মানবতা বিপন্ন হয়, মনুয্যত্ব ভূলে গিয়ে মানুষ অধর্ম পথেপরিচালিত হয় তখন জগৎবাসীকে সৎ শিক্ষা দান এবং সৎপথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যআনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৬২৫ অব্দে গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হন। সূর্ষ সদৃশতেজোদীপ্ত মহামানব বুদ্ধে আবির্ভাব বিশ্ববাসীর জন্যে ছিল এক মহা দুর্লভঘটনা। বর্ণে বর্ণে জাতিতে জাতিতে ভেদবুদ্ধির নিষ্ঠুর মূঢ়তা তখন রক্তেপঙ্কিল করে তুলেছিল এ ধরাতল। শ্রেণী ভেদ ও বর্ণ বিদ্বেষের ছিল নির্মমকঠোরতা। পুরোহিত প্রধান আনুষ্ঠানিক ক্রিয়া কান্ড ও যাগযজ্ঞে ধর্মের নামে বধকরা হত অসংখ্য নিরীহ প্রাণী। এক দিকে খেতে খাওয়া মানুষের অসহায়ত্বঅন্যদিকে সমাজের উচ্চ শ্রেনীর দুর্দান্ত প্রতাপ। তদানীন্তরু সময়ে প্রচলিতধর্মমত সমুহ ছিল বাষট্টি প্রকার মিথ্যাদৃষ্টিজালে বিভক্ত এমনকি ক্ষীয়মান ওতমসাচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্তায় প্রজ্ঞায় প্রদীপ হাতে জন্ম নিলেন জন্মজন্মান্তরেপারমী সম্পন্ন জ্যোর্তিময় মহাকারুনিক ভগবান বুদ্ধে অন্তরে তাঁর মৈত্রী, করুনা, প্রেম ও অহিংসারবাণী। মানব জাতিকে শুনালেন অমৃতের বাণী । বজ্রকন্ঠেঘোষণা করলেন প্রাণ সর্বজীবের নিকট সবচেয়ে প্রিয়বস্তু তাই এই প্রাণী হননথেকে বিরত হও। মানুষ জন্মে বড় নয় কর্মে বড়, অতএব সকল পাপকর্ম বর্জনকর, কুশলকর্ম সম্পাদন কর এবং নিজ চিত্তকে পরিশুদ্ধ কর তবেই আসবে মুক্তি।মানুষ নিজেই নিজের মুক্তিদাতা। অন্তরে অন্তরে জ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্জ্বলিতকর দেখবে তখন আত্ম-পর সব সমান। এই ঐতিহাসিক যুগের সময়ে ভগবান বুদ্ধই মহাপুরুষযার কল্পিত প্রতিচ্ছবি আমরা চিত্রে ও প্রস্তরে বহুল পরিমানে ধরে রাখতেপেরেছি আর কোন মহাপুরুষের চিত্র বা মূর্তি এত বহুল পরিমাণে দৃষ্ট হয় না।মূর্তিপূজা বুদ্ধ প্রকান্তরে নিষেধ করলেও শিল্পিদের জিজ্ঞাসু মন বার বারবুদ্ধে রুপ নির্মাণের বসে থাকেনি। বুদ্ধে বিভিন্ন পতীক চিত্র ব্যবহার করতেকরতে এক পর্যায়ে শিল্পীরা মূর্তি নির্মাণ করে বুদ্ধকেুু পূজার আসনে বসিয়েদিয়েছেন। নিম্নে বুদ্ধ মূর্তির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা গেল...।

বুদ্ধ মূর্তির উদ্ভব        

ভগবান বুদ্ধের পরিনিবার্ণকাল হতে কুষানসাম্রাজ্যের পত্তন কাল পর্যন্ত সময়ে (খৃঃ পূঃ ৬ষ্ঠ শতক হতে খৃীষ্ঠিয় প্রথমশতক) প্রাচীন বৌদ্ধ শিল্পকলায় কোর বুদ্ধ মূর্তির আবিষ্কৃত হয়নি। ভগবানবুদ্ধের ধর্ম মূলতঃ পরমার্থিক। এত ব্যক্তি বা ভক্তিবাদের চেয়ে আধ্যাতিœকতারবেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভবতঃ মহাযান ধর্মমতে ব্যাপক বিকাশের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত বুদ্ধমূর্তি নিদর্শন বেীদ্ধ শিল্প কলায় সৃষ্টি হয়নি।কখনথেকে বুদ্ধ মূর্তি নির্মাণ শুরু হয়েছে বা প্রথম বুদ্ধ মূর্তি কোনটি এই নিয়েঅনেক বিতর্ক আছে। কিংবদন্তি অনুসারে গৌতম বুদ্ধ তিনমাসের জন্য তাবতিংসেতার মা ও ঋদ্ধিমান দেবতাদের অভিধর্ম দেশনা করতে গিয়ে তার অবর্তমানে বুদ্ধভক্ত রাজা প্রসেনজিৎ চন্দন কাঠের একটি বুদ্ধমর্তি তৈরী করে বুদ্ধেরউদ্দেশ্য শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। এটি কতটুকু সত্য তা বিচার সাপেক্ষ। বুদ্ধেরসময় অজাতশত্রু প্রমুখ বহু রাজন্যবর্গ ও শ্রেণীবর্গ বুদ্ধের একনিষ্ট ভক্তছিলেন। তখন যদি বুদ্ধ মর্তি প্রচলন থাকতো নিশ্চয় বুদ্ধমূর্তি তৈরী করতেন।এর পর সম্রাট অশোক ছিলেন বৌদ্ধধর্মের নিবেদিত প্রাণ। তিনি স্বধর্মের প্রচারও স্থায়িত্বের জন্য শত শত স্তুপ, স্তম্ভ, বিহার, চৈত্য, রেলিং, শিলালিপিইত্যাদি প্রতিষ্ঠি করেছিলেন। তখন ও বুদ্ধ মূর্তি প্রচলন কিংবা উদ্ভব হয়নিবলেই মৌর্য শিল্প কলায় বুদ্ধ মূর্তি দেখা যায় না। নচেৎ অশোক যেরুপস্বধর্মপ্রাণ নরপতি ছিলেন অবশ্যই তিনি বুদ্ধ মূর্তি নির্মাণ করাতেন।পরবর্তী শুঙ্গ-কান যুগেও বুদ্ধ মূর্তির নির্দশন দেখা যায়নি। এই যুগ পর্যন্তবৌদ্ধ শিল্পকলায় বুদ্ধ মূর্তির প্রতীক হিসেবে ধর্মচক্র, উষ্ণীশ, বোধিবৃক্ষ, ভিক্ষাপাত্র, স্তুপ ইত্যাদি ব্যবহার করা হত। এ ধরণের রীতিকেশিল্পে ঝুসনড়ষরংস বলে। শুঙ্গ যুগের পর বৌদ্ধ শিল্পকলায় ঝুসনড়ষরংস এরব্যবহার দেখা যায়।

কৃষাণ যুগও গান্ধার শিল্

কুষাণ যুগে (খৃষ্টীয় ৫০ হতে ৩০০বৎসর)গান্ধার শিল্পকলায় সুচনা হয়। কুষাণ রাজা কর্তৃক বিদেশী শিল্পীদেরপৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তাদের পক্ষাবলম্বনের কথাই ছিল কনিষ্ক ওতার অনগামী কুষাণ রাজাদের সরকারী শিল্পকলা। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দী হতেআরম্ভ করে তিন/চার শত বছরের শিল্পের অগ্রগতি এখন থেকে আরম্ভ হয়। এ জন্যভারত শিল্পের ইতিহাসে এই যুগটি সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গান্ধারশিল্পের বিশেষ ধারাটি কুষাণদের দখলকৃত অঞ্চলই প্রধানত বিকাশ লাভ করেছিল।দক্ষিণ অঞ্চলের কুষাণ রাজধানী মাট্রায় ভারতীয় শিল্পের একটা বিরোধ গড়ে উঠে। এসময় কুষাণরা গান্ধার শিল্পীদের সমর্থন করে। তাই সহজে অনুমান করা যায়গান্ধার ভাস্কর্যের বেশীর ভাগ কর্মই বিদেশী শিল্প প্রভাবে প্রত্যক্ষ ফল।যদিও গান্ধার শিল্পে বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক শিল্পের বিষয়বস্তু হিসেবে প্রাধান্যলাভ করেছিল। তবুও তারা অনেক ভাস্কর্যের উপাদান সমূহ পশ্চিম এশিয়া বা গ্রীকসংস্কৃতি জাত বলে দেখতে পাওয়া যায়। সিন্দু নদীর পশ্চিম তীর সংলগ্ন পেশোয়ারউপাত্যকা সোয়াত ও বুনের উত্যাদি অঞ্চল সমূহের প্রাচীন ভৌগোলিক নাম গান্ধারগ্রীক বীর আলেকজান্ডার চতুর্থ শতাব্দীতে গান্ধার জয় করেন। এর ফলশ্রুতিতেএখানে উপনিবেশ গড়ে উঠে। মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম প্রসার লাভ অবশেষে খৃীষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে কুষাণরা শক (সিথিয়ান)পহলব (পাথিসিয়ান) ও গ্রীক রাজাদের পরাজিত করে গান্ধার অধিকার করেন। এ সময়গ্রীক ও ভারতীয় বৌদ্ধ সংস্কৃতির মিশ্রনের ফলে এই অঞ্চলে যেই শিল্পকলা গড়েউঠে তাকে গ্রীক বা গান্ধার শিল্পকলা বলা হয়।

কুষাণ যুগে মহাযান ধর্ম মতের ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। মহাযানীরা বুদ্ধেধর্ম বাণীর চেয়ে তাঁর ব্যক্তি জীবনের উপর বেশী গুরুত্ব আরোপ করতেন। তাইএদেরকে বলা হয় বুদ্ধযান বা বোধিসত্বযান। ফলে মহাযান মতের প্রকৃষ্ঠ বিকাশের ওগান্ধার ভাস্কর্যে উৎপত্তিতে সর্ব প্রথম নির্মিত হয় বুদ্ধ ও বোধিসত্বেরমূর্তি গুলো। গান্ধার ভাস্কর্যের সৃষ্টি হল গ্রীক রোমান ও পারসিকভাস্কর্যের সৃষ্টি হল গ্রীক রোমান ও পারসিক ভাস্কর্যের সঙ্গে ভারতীয়ভাস্কর্যের সংমিশ্রনে। অনেকের মতে হারকিউলিস, এ্যাপোলো, জিউজ ইত্যাদি গ্রীকদেব-দেবী মূর্তির অনুকরনে গান্ধারের শিল্পীগণ বুদ্ধমূর্তি নির্মাণকরেছিলেন। গান্ধার শিল্পীগণ প্রায়ই গ্রীক ও রোমান ছিলেন তাই তারা ভারতীয়আধ্যাতিœক পুরুষ শ্রেষ্ঠ বুদ্ধের লক্ষণ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ছিলেন। ফলেএখানকার উপাদান ভারতীয় হলেও নিমার্ণ কৌশলের দিক দিয়ে এগুলো গ্রীকপ্রভাবান্বিত। তাই তারা বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে কখনো দাঁড়ি বা গোফ ও আরোপকরেছেন। এই সময়কার বুদ্ধের এই মূর্তিগুলো ছিল বিদেশী ভাস্কর্য়েরলেটএন্টিকপদ্ধতিতে সৃষ্টি এক জঠিল পট শিল্প।

বুদ্ধমূর্তির ক্রমবিকাশ

কুষাণ যুগে ভারত শিল্পের সুর্বণ যুগ বলা হয়।এই শিলাপ বিকাশের ক্ষেত্র তিনটি। এদর মধ্যে অতি পুরাতন ও বিখ্যাত নগরমুথুরা। এখানকার শিল্পকলায় বিদেশী ভাবধারা দেখা গেলেও শিল্প শিল্প প্রেরনারমূল উৎসটি ছিল ভারতীয়। ভারতীয় শিল্পরীতিতে যে সমস্ত স্থাপত্য ও ভাস্কর্যনির্মিত হয় এগুরো হল মথুরা শিলোপর উদ্ভব। মথুরা শিল্পকলার প্রসার ঘটেতক্ষশীলা, সাঁচী, কোশাম্বী, শ্রাবস্তী, সারানাথসহ অন্যান্য স্থানে। মথুরাশিল্পকলায় বুদ্ধ ও বোধিসত্বের মূর্তিগুলো আতœবিকাশ লাভ করে। কিংবদন্তী আছেযে, প্রথমে ভারতীয় শিল্পীরা বুদ্ধমূর্তি নির্মাণে ব্যাপারে সাহস করেনি।ুকারণ বুদ্ধের এত মহাপুরুষ লক্ষণযুক্ত মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। তাদের এইমূর্তিতে বুদ্ধের মহাপুরুষ লক্ষণ গুলো ফুটিয়ে তোলা ভারতীয় শিল্পদের মনপুতঃহয়নি। তাই মথুরার শিল্পীরা এগিয়ে এলেন বুদ্ধমূর্তি নির্মাণে। মথুরারশিল্পীরা তাঁর ভাব ও আদর্শের রুপ দিয়েছেন বুদ্ধমূর্তিতে। এখানে সাধারণ মানবমূর্তির মতো বুদ্ধ মূর্তিতে রুপদান করা হয়নি। বুদ্ধমূর্তিকে অন্যমূর্তিহতে তফাৎ করা হয়েছে লক্ষণাক্রান্ত করে। তাই অজানুলম্বিত বাহু, মস্তকোপরিউষ্ণীর্য, কপালেউর্না, হাতের অঙ্গলী জোড়া, প্রশস্তবক্ষ, সুক্ষèত্রিচীবর ওমস্তকের পশ্চাতে প্রভাম-ল সুষ্টি করে মথুরা শিল্পকলায় বুদ্ধমূর্তিকে রুপদানকরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মথুরা থেকে পাওয়া সিংহাসনে বসা বুদ্ধ মূর্তিতেভাস্কর্য শিল্পের এক অদ্ভদ অগ্রগতি দেখা যায়। এই মূর্তিই হল পরবর্তীকালেরবসা মুর্তিঘুলোর আর্দশ স্বরুপ, শিল্পী এখানে বুদ্ধের মুখশ্রীতে একটিসমর্জিত আত্মস্থ ভাব ফুটিয়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন। মথুরার শিল্পীরীতি ভারতীয়ভাবধারায় নির্মিত বলে বারতীয় শিল্পের ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশেষভাবেউল্লেখযোগ্য। মথুরা বুদ্ধমূর্তি সমগ্র উত্তর ভারতে জনপ্রিয়তা লাভ করে।মথুরা বৌদ্ধ শিল্পকরার প্রাণ কেন্দ্র হয়ে উঠে। বুদ্ধমূর্তি গুলোকে সাধারণততিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ ১) স্থানক, ২) আসন, ৩) শায়িত। এসব মূর্তিরদ্বারা বুদ্ধে জীবন বহুমূর্তি। যেমন- অভয়মুদ্রা, ভূমিস্পর্শমুদ্রা, ধর্মচক্রমুদ্রা ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়।

ইক্ষাকুবংশ ও অমরাবতী শিল্প

আনুমানিক খৃষ্টীয় দ্বিতীয় শতকেইক্ষাকুবংশের রাজা শ্রী ধীর পুরুষদত্তের রাজত্বকালে তাঁর পৃষ্ঠ পোষকতায়অমরাবতীর বেীদ্ধ শিল্পকলায় গড়ে ওঠে। এই শিল্পকলায় ও গান্ধার ও মথুরাশিল্পকলার সমন্বয় ঘটে। এখানকার শিল্প (বুদ্ধমূর্তি) সজীব ও প্রাণবন্ত এখানেবহু বুদ্ধমূর্তির, বোধিসত্বমূর্তি নির্মিত হয়। কালে এই শিল্প ভারত সীমাঅতিক্রম করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

গুপ্তযুগ গুপ্তযুগেও (খৃষ্টীয় চতুর্থ হতে ষষ্ঠ শতকে) বৌদ্ধ শিল্পকলারব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটে। যদিও বাগুপ্তযুগে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রবল প্রতিপত্তিছিল, কিন্তু গুপ্ত সম্রাটগণের পরম সহিষ্ণুতার জন্য তাঁদের সময়ে বৌদ্ধধর্মের সমপ্রসারণ বিন্দুমাত্র ব্রাহত হয়নি। গুপাতযুগে অন্যতম সংস্কৃতিক ওবানিজ্যিক কেন্দ্র ছিল পুন্ড্রবর্দ্ধন  এ সময় বুদ্ধমূর্তি গুলো অধিকতরসুন্দর, প্রাণবন্ত ও অনুপম। বুদ্ধমূর্তি গুলোতে মুখমন্ডলের সমানুপাত গঠন, করুণা বিলাসিত চক্ষুদ্বয়, ওষ্ঠের হাস্য লাবন্য-স্বর্গীয়  পবিত্রতায়পূর্নবিকাশ দেখা যায়।

পালযুগ

পাল যুগেও বহু বুদ্ধমূর্তি ও বৌদ্ধদের দেব-দেবীর মূর্তিনির্মিত হয়। অষ্ঠম শতাব্দীর মধ্যভাগে মাৎস্যন্যায়বা অত্যাচার হতে মুক্তিলাভের জন্য বাংলার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ গোপাল নামক এক ব্যক্তিকে রাজানির্বাচিত করেন। গোপাল  ক্ষমতা লাভের ফলে এ সংকটময় অবস্থার অবসান ঘটে।গোপালের প্রতিষ্ঠিত বংশই পালবংশ নামে পরিচিত। এ পাল বংশই এদেশে খৃষ্টীয়অষ্টমশতক হতে বারশ শতক পর্যন্ত রাজত্ব করেন। পাল রাজারা সবাই বৌদ্ধ ছিলেন।রাজা ধর্মপাল সময়ে বিখ্যাত বিখ্রমশীলা বৌদ্ধ বিগার, পাহারপুরের সোমপুরবিহার, কুমিল্লা জেলার ময়নামতি, পন্ডিত বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতœতাত্বিকখননকার্যের ফলে এখানে বহু প্রত্ন সম্পদ আবিস্কৃত হয়েছে। এদর মধ্যেবুদ্ধমূর্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অনেকের মতে, গুপ্ত যুগের তুলনায় পালযুগেরমূর্তি শিল্প সংখ্যাও বিভিন্নতার ক্ষেত্রে অধিকতর লোকপ্রিয়তা অর্জন করলেওউৎকর্যতার ক্ষেত্রে সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। শুধু পাল যুগে নালান্দারবিশেষ করে কালো পাথরের মূর্তিগুলো অধিকাংশ অভিনব সৃষ্টি। এগুলোর মধ্যেপাওয়া যায় বিভিন্ন নব কল্পনার অভিব্যক্তি ও সম্পূর্ন পরিণত সৃজনি শব্তিরপরিচয়।  এ সময়ে কাঁেচর গড়া মূর্তিগুলো ও পালযুগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন এগুলোরঅনুকরণে কাশ্মীর, তাঞ্জের, নাগপট্টম, বার্মা, থাইল্যান্ড, জাবা ও শ্রীলংকায়প্রাপ্ত ধাতুমূর্তি গুলোতে মূর্তি শির্পের দ্রুত ক্রমোন্নতির সুনিদিষ্টপ্রমাণ পাওয়া যায়।

পরিশেষে বলা যায় যে, থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মে প্রথম বুদ্ধমূর্তি পুজার কোনবিধান ছিল না। কারণ থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মে বুদ্ধের আধ্যাতিœকতার বেশী গুরুত্বদেওয়া হয়। পরবর্তীতে মহাযান ধর্ম প্রকৃষ্ট বিকাশের বুদ্ধমূর্তির উদ্ভব বাপুজার প্রচলন হয়। কারণ মহাযানে বুদ্ধের ধমোপদেশের চেয়ে তাঁর ব্যক্তি জীবনেরউপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সুতরাং মহাযানে ভক্তিবাদের প্রকৃষ্ট প্রচারেবুদ্ধ মূর্তির উদ্ভব বা পুজার প্রচলন হয়।