২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ইংরেজী
বুধবার, 04 ডিসেম্বর 2013 02:12

বামিয়ানঃ আফগানিস্তানের একটি প্রাচীন বৌদ্ধ কেন্দ্র

লিখেছেনঃ শান্তি কুমার চাক্‌মা

বৌদ্ধ ধমের উত্থানকালে বিশেষত ভারতবর্ষেরবাইরে প্রসারকালে যে বিভিন্ন দেশ বা স্থান বৌদ্ধ সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিকাশেউলেখযোগ্য অবদান রেখেছিল আফগানিস্তান তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। পালি, সংস্কৃত, চীনা ও তিব্বতী বৌদ্ধ গ্রন্থ এবং হিউয়েনসাঙ প্রমূখ পর্যটকগণের বর্ণনা থেকেজানা যায় যে, বুদ্ধের জীবিতকালেই আফগানিস্তানে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার হয়েছিল। আমরা পালি এবং সংস্কৃত বৌদ্ধ গ্রন্থের মাধ্যমে জানি যে, তপস্সু ওভলিক বুদ্ধের প্রথম গৃহী শিষ্য। বুদ্ধত্ব লাভের অষ্টম সপ্তাহে বুদ্ধ যখনরাজায়তন নামক বৃরে নীচে অবস্থান করছিলেন তখন এই দুই বণিক ভ্রাতা উক্কল দেশ (উৎকল, উড়িষ্যা) থেকে তাদের স্বার্থবাহ বা বণিক সংঘ সহ বুদ্ধগয়া অতিক্রমকরে যাচ্ছিলেন। এই দুই বণিক বুদ্ধকে মধুগোলক বা মধু মিশ্রিত নাড়ুদানকরেছিলেন এবং বুদ্ধ ও ধর্মের শরণ গ্রহণ করে বুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।উলেখ্য, তখন ভিক্ষু সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের এই ত্রিশরণতখন প্রচলিত হয়নি। এই দুই বণিক বুদ্ধকে পূজার জন্য বুদ্ধের চুল ও নখ সঙ্গেনিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের নিজ নগর অসিতঞ্চন নগরে সেই চুল ও নখ ধাতুকেপবিত্র জ্ঞানে সংরণ করে চৈত্য নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে, অসিতঞ্চন নগরেরসেই চৈত্য থেকে প্রতি উপোসথ দিবসে নীল বর্ণের আলো বের হতো।

আমাদের আলোচিতএই বণিকগণ আফগানিস্তানের বল্খ বা ব্যাকট্রিয়ার অধিবাসী। কৌশলরাজপ্রসেনজিতের পুত্র বিরুড্ঢভ সিংহাসন আরোহণের পর শাক্যজাতি নিধনে নিয়োজিতহন। এরপর যেসব শাক্য প্রাণে রা পেয়েছিলেন তাদের থেকে এক দল আফগানিস্তানেরদিকে পালিয়ে গিয়ে জালালাবাদে (প্রাচীন উড়িয়ান) তাদের নতুন রাজ্য স্থাপনকরেন। এই শাক্যদের দ্বারা নির্মিত বৌদ্ধ চৈত্য দর্শন করেছিলেন বলেহিউয়েন-সাঙ তার ভ্রমণ বিবরণীতে উলেখ করেন। তপস্সু ও ভলিকের উপখ্যান, শাক্যদের আফগানিস্তানে পলায়ন এই দুটি ঘটনা ছাড়াও তৎকালে মূল ভারতের সাথেগান্ধার, তশিলা প্রভৃতি জায়গার যোগাযোগ ছিল তা আমরা পালি গ্রন্থে যত্রতত্রদেখতে পাই। মহাভারতে ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী গান্ধারীও গান্ধারের রাজা সুবলেরকন্যা। মগধ দেশের জনৈক কুমারভচ্চ জীবক বুদ্ধের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। এইকুমারভচ্চ জীবকের তশিলায় বিদ্যার্জনের কথা আমরা পালি গ্রন্থের মাধ্যমেজানি। এরূপে জানা যায় যে, বুদ্ধের জীবদ্দশায় আফগানিস্তানে বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারিত হয়।

বুদ্ধের পরিনির্বানের (খ্রিঃ পূঃ ৫৪৩)পরবর্তীতে ভিক্ষু সংঘের প্রচেষ্টা এবং রাজন্যবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় বুদ্ধের ধর্মশ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ডসহ সুদূর জাপান পর্যন্ত প্রসার লাভ করে। সেইসময়ে মূল ভারত ভূমির সাথে বহির্দেশে যোগাযোগের জন্য যে কয়টি রাস্তা ছিলতন্মধ্যে ইতিহাস বিখ্যাত শিল্ক রোড প্রধান। এই শিল্ক রোডের একটি শাখাআফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে খায়বার গিরিপথ হয়ে কাশী বেনারসপর্যন্ত এসেছিল। রেশমী বস্ত্রকে পালি গ্রন্থে কাসিকবত্ত বলা হয়।

দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতিতে(বুদ্ধেরপরিনির্বানের ১০০ বৎসর পর বৌদ্ধ ভিুদের সম্মেলন) সম্ভুত শানবাসী নামে একজনপ্রখ্যাত আদি থেরবাদী থেরর নাম জানা যায়। দ্বিতীয় সঙ্গীতির পরে বৈশালীগ্রুপের ভিুরা আদি থেরবাদীদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে আরেকটি সম্মেলনের আয়োজনকরে নিজেদের মহাসংঘ বা মহাসাংঘিক নাম দেন। এর পর পরই আফগানিস্তানেরউড়িয়ান-এ (আধুনিক জালালাবাদ) তাঁদের শক্তিশালী কেন্দ্র গড়ে তোলেন।মহাসাংঘিকদের প্রভাব কাটিয়ে আদি থেরবাদীদের প্রভাব প্রতিষ্ঠাতর জন্য সম্ভুতশানবাসী যবনদেশ কিপিন বা কাপিস-এ গমন করেন এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থানকরেন। আফগানিস্তান ভ্রমণকালে হিউয়েন-সাঙ এই ভিু শানবাসীর সংরতি পাত্র-চীবরদর্শন করেন।

মৌর্য সম্রাট অশোকের সময়ে (খ্রিঃ পূঃ২৬৯-২৩২) বৌদ্ধ দর্শনের কতিপয় বিতর্কিত বিষয় মীমাংসার উদ্দেশ্যে তৃতীয়বৌদ্ধ সঙ্গীতির আহবান করা হয়। সঙ্গীতি পরবর্তী কার্যক্রম হিসাবে বহির্দেশেধর্ম প্রচার এবং আদি থেরবাদী দর্শনের উপর ভুল মতবাদ খন্ডনের জন্য জনৈকমজ্ঝন্তিক থেরকে কাশ্মীর গান্ধার দেশে এবং মহারতি থেরকে যোন দেশ বা যবনদেশে প্রেরণ করা হয়েছিল। সে সময় যবন দেশ বলতে আফগানিস্তানের  অন্তর্গতগান্ধারে বসতি স্থাপনকারী গ্রীকদের বোঝানো হত। উলেখ্য, বিখ্যাত বৌদ্ধগ্রন্থ মিলিন্দ প্রশ্নেরপ্রধান চরিত্র রাজা মিলিন্দও এরূপ একজন গ্রীকরাজা। তৃতীয় সঙ্গীতিতে আরো একজন নামকরা গ্রীক ভিু যোনক ধর্মরতি থেরকেঅপরন্তক দেশে বা পশ্চিমা দেশে প্রেরণ করা হয়। আমাদের আলোচিত আফগানিস্তানতখন অপরন্তক দেশ, যবন দেশ প্রভৃতি নামে অভিহিত ছিল। এই অপরন্তক, গান্ধার, যোনক-যবণ দেশে ধর্মে অত্যুৎসাহী ভিুসংঘের প্রচারণা ও রাজা মিলিন্দ, সম্রাটকনিষ্ক, সম্রাট অশোকের মত রাষ্ট্রনায়কদের বদান্যতায় সর্বোপরি সাধারণজনগণের অংশ গ্রহণের ফলে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার, বৌদ্ধ কেন্দ্র গড়ে উঠে। এসববৌদ্ধ কেন্দ্রগুলির মধ্যে বামিয়ান একটি প্রসিদ্ধ স্থান। আমার এই স্বল্পপরিসর নিবন্ধে বামিয়ানের বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আলোকপাত করারচেষ্টা করব।

বামিয়ানের ভৌগলিক অবস্থানঃ

বামিয়ান উপত্যকা হিন্দুকুশ এবং কো-হি বাবাপর্বতের মাঝখানে আফগানিস্তানের  রাজধানী কাবুল থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের প্রায় ৮,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এই বামিয়ানউপত্যকার সীমানা প্রাচীর স্বরূপ পূর্ব-পশ্চিম প্রলম্বিত কো-হি-বাবা পর্বতগাত্রেই বিশ্ববিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তি দুইটি অবস্থিত (বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত)। আফগানিস্তানের এই জায়গাটি বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি মিলনকেন্দ্র। বিশেষত বৌদ্ধ ধর্ম ভারতের বাইরে প্রচার ও প্রসার কালে (দ্বিতীয়বৌদ্ধ সংগীতি থেকে হিউয়েন-সাঙের ভারত ভ্রমণ পর্যন্ত সময়ে) এটি ভারতীয়, গ্রীক, ইরান দেশীয় এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন জাতি-উপজাতীয় বৌদ্ধধর্মানুগ্রাহীদের সংযোগ স্থল ও প্রচার কেন্দ্র হিসাবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল।বামিয়ান প্রদেশের শুধুমাত্র কো-হি-বাবা পর্বত গাত্রেই বিশ হাজার বৌদ্ধ গুহানির্মিত হয়েছিল। বুদ্ধের সেবক আনন্দের শিষ্য  জনৈক সম্ভুত শানবাসী ভিুদ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতির অব্যবহিত পরে এবং জনৈক যোনক মহারতি থেরকে বামিয়ানপ্রদেশে স্ব-স্ব দলের বৌদ্ধ দর্শন ও মতবাদ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরণকরা হয়েছিল। ইহা বিখ্যাত শিল্ক রোডের উপর অবস্থিত।

বামিয়ান শব্দের তাৎপর্যঃ

বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ চার্লস ম্যাশনঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে আফগানিস্তান ভ্রমণ করেন। তিনি মনে করেন, বামিয়ানশব্দের অর্থ পৃথিবীর ছাদ। আবার কেউ কেউ মনে করেন ফার্সী শব্দ বুটঅর্থবুদ্ধ। বুট শব্দ থেকে বুটিয়ান এবং বুটিয়ান থেকে বামিয়ান শব্দটি এসেছে।বামিয়ান অর্থ দুই বুদ্ধমূর্তির দেশ।

বামিয়ান-এর সংপ্তিত বর্ণনাঃ

বামিয়ান এর প্রাচীন ইতিহাস খুব ষ্পষ্টনহে। ইতিহাস সম্পর্কে সেরকম এমন কোন প্রাচীন গ্রন্থ কিংবা প্রতœতাত্ত্বিকনিদর্শন নেই যার মাধ্যমে এটি প্রসিদ্ধি লাভের ব্যাপারে কোন রকম ইঙ্গিতপাওয়া যায়। পণ্ডিতগণ মনে করেন যে, বিখ্যাত শিল্ক রোড বামিয়ানের মধ্যে দিয়েঅতিক্রম করায় অর্থাৎ বিখ্যাত শিল্ক রোডের একাংশ  বল্খ বা ব্যাকট্রিয়া থেকেবামিয়ান কাপিস, কাবুল হয়ে পূর্বদিকে মূল ভারতের দিকে অগ্রসর হবার রাস্তাতেপড়ার জন্য এটা সার্থবাহ (ঞড়ঁৎরহম সবৎপযধহঃ), পর্যটক, বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীসকলের জন্য  মধ্যপথে আশ্রয়  নেয়ার বা বিশ্রামের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এটাকখনো ঘন বসতিপূর্ণ জায়গা ছিলনা। তবে ধারনা করা হয় যে, যে সকল বৌদ্ধ ভিুরাস্বার্থবাহ নামক ব্যবসায়ীদের সাথে যাতায়াত করতেন তাঁরা বর্ষাবাস (বৌদ্ধভিদের তিনমাসের বর্ষা ব্রত) পালনের জন্য এখানে থেকে যেতেন। বৌদ্ধ বিনয়অনুযায়ী তিন মাস বর্ষাব্রত পালন শেষে এবং শীত আগমনের শুরুতেই তারা এই স্থানত্যাগ করে দুরবর্তী অধিকতর উষ্ণ দেশে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বেড়িয়েপড়তেন। তাঁরা মূলতঃ জালালাবাদ, কাবুল, কাশ্মির ও আরো পূর্বদিকে মূল ভারতভূমি মগধের দিকে অগ্রসর হতেন। ভিুরা সার্থবাহদের সাথে ভ্রমণকালে তাদের নিকটথেকে চতুর্প্রত্যয়ের (অন্ন, বস্ত্র, শয়নাসন ও ওষুধ) আশ্রয় পেতেন। এমনি করেপরবর্তীতে বৌদ্ধ ভিুরা মূলত লোকুত্তরবাদী ভিুরা এটিকে স্থায়ী আবাসস্থলহিসাবে গড়ে তুলতে শুরু করেন। এই লোকুত্তরবাদী ভিুরা পরবর্তীতে পাহাড় কেটেনিজেদের আবাসস্থল হিসাবে গুহা নির্মাণ করেন। পরে পরে গুহার সংখ্যা ছোট বড়কমপে দশ হাজার সংখ্যক সৃষ্টি হলো। বড় বড় গুহার মধ্যে কোন কোনটি উপসোথাগারআবার কোনটি উপট্ঠানসালা বা ডরমেটরি হিসাবে ব্যবহার হত।

লোকুত্তরবাদী ভিক্ষু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রঃ

বুদ্ধের পরিনির্বাণের ১০০ বৎসর পরেবৈশালীর বালুকারাম বিহারে জনৈক রেবত স্থবিরের সভাপতিত্বে ৭০০ ভিুর একসম্মেলনে দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দশবস্তু বা দশপ্রকার বিনয়নীতি নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে ভিুদের একটি বৃহৎ অংশ সম্মেলন থেকেওয়াক আউট করে চলে যান। এইভাবে দশটি বিনয়নীতি শিথিল করার পপাতী ভিুরামহাসাংঘিক নাম ধারণ করেন। এই মহাসাংঘিকেরা বৈশালী তথা মগধ থেকে বৃহৎ দুইভাগে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েন। একভাগ দনি ভারতে এবং অন্যভাগ পশ্চিম ওউত্তর-পশ্চিম ভারতের সুদুর কাশ্মীর, গান্ধার ও আফগানিস্তানের দিকে চলেআসেন। পশ্চিম দিকে আসা এই মহাসাংঘিকেরা পরে আবার পাঁচটি শাখায় বিভক্ত হয়েপড়েন। পাঁচটি শাখা হল ঃ- (১) এক ব্যবহারিক (২) কৌকুলিক বা কুরুলক (৩)বহুশ্রতিয় (৪) প্রজ্ঞাবাদী এবং (৫) লোকুত্তরবাদী। পালি গ্রন্থেলোকুত্তরবাদীদের চৈত্যবাদীও বলা হয়। কারণ, লোকুত্তরবাদীরা চৈত্য পূজার উপরপ্রাধান্য দিতেন। মহাসাংঘিকদের এই পাঁচ শাখার মধ্যে লোকুত্তরবাদীরা অধিকতরপ্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হলে তারা বামিয়ান ছাড়াও জালালাবাদ, ফোলাদিউপত্যকার অর্হৎ গ্রাম জনপদ ইত্যাদিতে ছড়িয়ে পড়েন এবং সেখানে বৌদ্ধ ধর্মীয়কেন্দ্র গড়ে তোলেন। মহাবস্তুনামক লোকুত্তরবাদীদের সংস্কৃত ভায়ায় লিখিতবিনয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, লোকুত্তরবাদীরা মহাসাংঘিকদের একটি বিচ্ছিন্নহওয়া শাখা। এই শাখার প্রতিষ্ঠাতা জনৈক মহাদেব থের। খ্রিষ্টীয় ১ম শতাব্দীরসময়ে সম্রাট কনিষ্কের রাজত্বকালে বসুমিত্র থের নামক জনৈক ভিুর পৌরহিত্যেকাশ্মিরের কুন্ডলবন নামক স্থানে চতুর্থ বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয়মহাসঙ্গীতিতে যেমন কথাবস্তুরচিত হয়, তেমনি চতুর্থ মহাসঙ্গীতিতেমহাবিভাষাশাস্ত্র নামে অন্য একটি গ্রন্থ রচিত হয়। সেই গ্রন্থেও মহাসাংঘিকও লোকুত্তরবাদীদের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ননা পাওয়া যায়।

লোকুত্তরবাদীদের দার্শনিক মতঃ

নাম থেকেই বুঝা যায় যে, লোকুত্তরবাদীরাবুদ্ধের কিংবা বিশ্বজগতের সবকিছুতেই অলৌকিকত্বকেই বিশ্বাস করে। তারা লৌকিকজগতকে অর্থহীন মনে করেন এবং লৌকিক জগতের বাইরে এক চিরন্তন সত্য ও শান্তিময়জগতের বিশ্বাস করেন। বুদ্ধের কায়, বাক্য, মন সব কিছুকেই তারা অলৌকিক বলেবিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন বুদ্ধের শরীরে বত্রিশ প্রকার অশুচি পদার্থেরকোন কিছুই নেই। তারা বুদ্ধের তেজ বা শক্তি, করুনা, আয়ু সবকিছুই অনন্ত ওঅপরিমেয় বলে মনে করেন। এই ভাবে লোকুত্তরবাদীরা বুদ্ধকে সব েেত্র লোকুত্তর (লোকোত্তর) বা অলৌকিক মনে করেন। বুদ্ধকে দেবত্ব আরোপ সম্পর্কিত তথ্য বৌদ্ধশাস্ত্রের প্রারম্ভিক সাহিত্য পালি গ্রন্থাবলীতে পাওয়া গেলেও এইলোকুত্তরবাদীরাই বুদ্ধের প্রতি সবচেয়ে বেশী দেবত্ব আরোপ করেন।লোকুত্তরবাদীদের আর একটি অংশ যোগাচারবাদী সম্প্রদায় থেকে পরবর্তীতে পৃথিবীরদ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ ধর্মীয় শাখা মহাযান মতবাদ জন্ম লাভ করে।লোকুত্তরবাদীরা বুদ্ধকে অলৌকিক অপার্থিব হিসাবে বিশ্বাস করতেন। ফলে তাঁদেরবিশ্বাসের প্রতিফলন স্বরূপ বামিয়ানের কো-হি-বাবা পর্বত গাত্রের বিরাটকায়দুটি বুদ্ধমূর্ত্তি খোদাই করেন।

বামিয়ানের দুই বৃহৎ বুদ্ধমূর্তিঃ

কো-হি-বাবা পর্বতের পশ্চিম প্রান্তেপর্বতগাত্রে বামিয়ানের সর্ব বৃহৎ বুদ্ধমূর্তি খোদাই করা হয়। ইহার উচ্চতা৫৫মিটার (বা ১৮৬ ফুট)। এই মূর্তিটি অভয় মুদ্রায় দণ্ডায়মান। বুদ্ধের চীবরপূর্ণ পরিমণ্ডল বা পারুপন করা। অন্যদিকে একই পর্বতের পূর্ব প্রান্তে ৩৫মিটার উচ্চতায় (১৩৫ ফুট) আরেকটি বুদ্ধ মূর্তি আবস্থিত। হিউয়েন-সাঙ (৬৩০খ্রিঃ) তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে পূর্বপ্রান্তের মূর্তিকে শাক্যমুনি বুদ্ধ এবংপশ্চিমপ্রান্তের মূর্তিকে শুধু বুদ্ধ নাম উলেখ করেন। ৩৫ মিটার উচ্চতারমূর্তিকে তিনি ধাতু নির্মিত মনে করেছিলেন। এই মূর্তিটি ডান হাত ভুমি স্পর্শমূদ্রা এবং বাম হাতে পিণ্ড পাত্র। চীবর পূর্ণ পরিমণ্ডল বা পারুপন করা।দুটি মূর্তিই গান্ধার শিল্পের আদলে খোদিত। পণ্ডিতগণ মনে করেন, তুলনামূলকভাবে ছোট মূর্তিটি খ্রিষ্ট্রীয় দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শতকে এবং বড়মূর্তিটি খ্রিষ্ট্রীয় পঞ্চম শতকে নির্মাণ শেষ করা হয়েছিল। মুর্তি দুইটিইপরবর্তীতে খ্রিষ্ট্রীয় ৬ষ্ট অথবা ৭ম শতকে রঙ করা হয় বলে মনে করা হয়।

বামিয়ানে থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মঃ

তপস্সু -ভলিকের কাহিনী ব্যতীত আমরা যতদূরজানি মহাসাংঘিকরাই প্রথম বামিয়ানে তাদের জায়গা করে নেন। এই বামিয়ানেরইঅনতিদূরে অহনগরন নামক স্থানে সম্ভুত শানবাসী নামের জনৈক থেরবাদী ভিুথেরবাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আগমন করেন। তৃতীয় সঙ্গীতির পরে যেমনবিভাজ্যবাদ বা মূল থেরবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যোন মহারতি (যবন ভিু), মহারতিএবং ধর্মরতিকে অপরন্তক দেশে বা পশ্চিম দেশে প্রেরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়সঙ্গীতির শেষে যেমন মহাসাংঘিকেরা বামিয়ান এসেছিলেন, ঠিক তেমনি করে হয়তোসম্ভুত শানবাসী থেরও থেরবাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠার বা প্রচারের উদ্দেশ্যেবামিয়ান বা পার্শ্ববর্তী স্থান অহনগরন (বা অর্হৎগ্রামে) এসেছিলেন।হিউয়েন-সাঙ তাঁর ভ্রমণকালে এই অহনগরনে দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতির প্রখ্যাত থেরসম্ভুত শানবাসীর সংরতি পাত্র-চীবর প্রত্য করেন। উলেখ্য, শানবাসী ভিুর সময়েমহাসাংঘিক বা লোকুত্তরবাদীরা মূল থেরবাদ থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়েছিলেন।কিন্তু তখনও পর্যন্ত মহাযান ধর্মমতের সৃষ্টি হয় নাই। সে হিসাবে অনুধাবন করাযায় যে, বামিয়ান শুধুমাত্র মহাসাংঘিকদের প্রচার ত্রে ছিল না, এটা মূলথেরবাদীদেরও কেন্দ্র ছিল। হিউয়েন-সাঙের বর্ণনা মতে বামিয়ান থেকে অহনগরনেরসংঘারাম বা ভিু আবাস মাত্র কয়েক লিদূর ছিল।

বামিয়ানের উপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিফলনঃ

দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতির পর পরই যদিবামিয়ানে মহাসাংঘিক নামক থেরবাদী ভিুরা গিয়ে থাকেন তাহলে আলেকজান্ডার যখনআফগানিস্তানসহ ভারত জয়ের উদ্দেশ্যে বানিয়ান বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগমনকরেন তখন বামিয়ানে বৌদ্ধধর্ম চর্চা ইতিমধ্যেই চলে আসতেছিল। আলেকজান্ডারপারস্য জয়ের পর ৩৩০ খ্রিঃ পূর্বাদ্ধে পূর্ব দিকে হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রমকরেন। বামিয়ান হয়ে হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রমকালে বৌদ্ধ ভিু বা বৌদ্ধপ্রতিষ্ঠানের উপর কোন তি বা আক্রমনের তথ্য আমাদের কাছে জানা নেই। সম্ভবততিনি ধর্ম নিরপেভাবে শুধু দেশ জয়ই করেছিলেন। আলেকজান্ডার নিজ নামে  আফগানিস্তানে তিনটি শহর স্থাপন করেন। সেগুলি হলঃ- (১) হেরাত-আলেকজান্দ্রিয়া (২) আরকোসিয়া-আলেকজান্দ্রিয়া ও (৩) বেগ্রাম-বিহার গ্রাম আলেকজান্দ্রিয়া।জানা যায় যে, আলেকজান্ডার পূর্বদিকে অগ্রসর হতে হতে পরে পাঞ্জাবের রাবি নদীঅতিক্রম না করে তার নিজ ভূমি গ্রীসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং মধ্যপথে৩২৩ খ্রিঃ পূর্বাব্দে বেবিলন শহরে মৃত্যুবরণ করেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুরপরে তার সেনাপতিরা নিজ বিজিত অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করেন। এদিকে মগধেরসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তার পশ্চিমাঞ্চলীয় হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করেআফগানিস্তান পর্যন্ত তাঁর শাসন পাকাপোক্ত করেন। সেখানে ভারতীয় শাসন ওশাসকের প্রভাবে বামিয়ানে নিশ্চয়ই বৌদ্ধ ধর্মের উন্নতির সহায়ক হয়েছিল।

আমরা জানি, রাজা অশোকের সময় তৃতীয় বৌদ্ধসঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয় এবং অশোক ভারতের অভ্যন্তরে ও বাইরে ধর্ম প্রচারেরউদ্দেশ্যে যোগ্য ও প্রচারক ভিু প্রেরণ করেন। মহাবংশ, দীপবংশ, সমন্তপসাদিকানামক পালি গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায় যে, মূল ভারতের বাইরে শ্রীলংকায়মহেন্দ্র ও সংঘামিত্রা এবং পশ্চিম ভারতের  আফগান্তিানের দিকে প্রেরণ করা হয়তিনজন ভিুকে। তিনজন ভিু হলো ঃ (১) মজ্ঝন্তিক থের (২) যোনক ধর্মরতি থের এবং (৩) মহারতি থের। যদিও এই তিনজন ভিু বামিয়ান এসেছিলেন বা অবস্থান করেছিলেনমর্মে এরূপ কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই, তথাপি আমরা অনুমান করতে পারি এইখ্যাতিমান তিন ভিু তাঁদের মতবাদের অর্থাৎ বিভাজ্যবাদ বা মূল থেরবাদপ্রচারের এক পর্যায়ে অবশ্যই বামিয়ান এসেছিলেন। তাঁরা বামিয়ানের মহাসাংঘিক ওলোকুত্তরবাদীদের মূল থেরবাদে ফিরিয়ে নেবার চেষ্টা করেছিলেন। বামিয়ান থেকেঅনতিদূরে ফোলাদি উপত্যাকায় অহনগরনগ্রামের মূল থেরবাদীদের কেন্দ্রেতোতারা অবশ্যই গিয়ে থাকবেন। বিখ্যাত পালি গ্রন্থ মিলিন্দ প্রশ্নেররাজামিলিন্দ বা মিনান্দার ছিলেন জাতিতে গ্রীক। তিনি খ্যাতিমান ভিু নাগসেন থেরদ্বারা প্রভাবিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ধর্মের উন্নতি সাধনকল্পে প্রচুর অবদান রাখেন। পন্ডিতগণ অনুমান করেন তাঁর অলসন্দ (আলেজান্দ্রিয়া) রাজ্য পশ্চিমের বাল্হিখ (ইধষশয) থেকে পূর্বে মথুরা অথবাএলাহাবাদ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর রাজত্বের সময়কাল ছিল খ্রিঃ পূর্বপ্রথম শতাব্দী। তাঁর সময়ের মুদ্রায় ধর্মচক্র, সিংহ, হাতি ইত্যাদি বৌদ্ধধর্মীয় প্রতীক পাওয়া যায়। সেই হিসাবে তাঁর রাজ্যে অন্তর্গত বৌদ্ধ কেন্দ্রবামিয়ানের উন্নতির জন্য তিনিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন বলে অনুমান করাযেতে পারে।

কুশান সম্রাট কনিষ্ক তাঁর রাজ্য ভারত, আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া এবং চীনের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিলেন।বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তার প্রবল অনুরাগের ফসল হিসাবে তিনি কাশ্মীরেরকুণ্ডলবননামক স্থানে চতুর্থ বৌদ্ধ সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এটা মূলতসর্বাস্তিবাদীদের সম্মেলন এবং এখানে পৌরহিত্য করেন একজন সর্বাস্তিবাদী ভিুজনৈক বসুমিত্র। সর্বাস্তিবাদীদের মূল গ্রন্থ বিভাষা শাস্ত্রএই সময় রচিতহয়। সর্বাস্তিবাদীদের প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি হওয়া সত্ত্বেও বামিয়ানেরলোকুত্তরবাদীরা এবং মহাসাংঘিকরা কনিষ্কের পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বাদ পড়েননি।পণ্ডিতগণ কনিষ্কের রাজত্ব কালকেই মহাযান বা বুদ্ধযান মতবাদের উত্থান কালবলে মনে করেন। মুলত কনিষ্কের সময় হইতেই মহাযান মতবাদ ভারত, মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, চীন ইত্যাদিতে ছড়িয়ে পড়ে। বামিয়ানের অনেক গুহা এই কনিষ্কেরসময় খনন করা হয় বলে পণ্ডিতগণ অনুমান করেন। গান্ধার বা ইন্দো-গ্রীক শিল্পেরধারা বা ঘরানাও এই সময়ে আবির্ভূত হয়।

বামিয়ানে বৌদ্ধ সভ্যতার পতনঃ

মধ্য এশিয়ার হুন জাতি ৪২৫ খ্রিষ্টাব্দেগান্ধার আক্রমণ করে। রাস্তার মধ্যে বিহার, মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানতাদের আক্রমন থেকে রা পায়নি। তবে সে সময় ভাগ্যক্রমে বামিয়ানের বৌদ্ধকেন্দ্রগুলি তাদের হাত থেকে রা পায়। সম্ভবত গান্ধারের পশ্চিম দিক অর্থাৎবামিয়ান তখন পারস্য রাজাদের অধীন ছিল। বানিয়ানকে তুর্কী শাসকদের আক্রমনথেকে রা করার জন্য পারস্য রাজাগণ বানিয়ানের প্রতিরা সুদৃঢ় করেছিলেন, তাইসেই সময়ে হুনরাও বানিয়ান আক্রমণ করতে সাহস করেনি। বিখ্যাত চীনা পর্যটক ৬৩০খ্রিষ্টাব্দে বামিয়ানকে বৌদ্ধ ধর্মে প্রসারমান অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। শুধুবামিয়ান এলাকাতেই তিনি ডজন খানেক বৌদ্ধ বিহার এবং সহস্রাধিক বৌদ্ধ ভিুদেখতে পেয়েছেন। সেই সময় তিনি বামিয়ানের রাজাকে একজন ধার্মিক বৌদ্ধ রাজাহিসাবে বর্ণনা করেছেন। আরবগণ ৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে পারস্য (ঝবংংধহরধহ) রাজাদেরপরাজিত করার পর ৬৯৯-৭০০ খ্রিষ্টাব্দে কান্দাহার এবং একই সময়ে কাবুলের শেষকুশান রাজাকে পরাজিত করেন। সেই সময়ও বামিয়ানের বৌদ্ধ স্থাপনাগুলির কোনআক্রমণ করা হয়নি এবং সেগুলি অত অবস্থায় থেকে যায়। ইহার এক শতাব্দীর পরেওবিখ্যাত কোরিয়ান ভিু পর্যটক হুই চাও (ঐঁর-পযধড়) ৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে বামিয়ানেবর্ধমান বৌদ্ধ ধর্ম দেখতে পান। তিনি বামিয়ান, কাক্রাক ও অহনগারানে হীনযানএবং মহাযানী উভয় মতাবলম্বীদের প্রসারমান বৌদ্ধ ধর্ম দেখতে পান। এতদিনপর্যন্ত বামিয়ানের রাজারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী থাকার পরে আব্বাসীয় রাজবংশেরসময়ে আল-মনসুর (৭৫৫-৭৭৫) অথবা আল মেহেদীর (৭৭৫-৭৮৫ খ্রিঃ) রাজত্বের পর থেকেএখানে বৌদ্ধ ধর্মের পতনের সূচনা হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুসারী এবং বৌদ্ধপ্রতিষ্ঠানগুলি অবহেলিত হয়। তখন থেকে সেখানকার বৌদ্ধরা মৌলবাদী মুসলমানরাজাদের গণহত্যা অথবা ধর্মান্তর করণের স্বীকার হন।

বামিয়ান ৯৭০খ্রিষ্টাব্দে বল্হিখের তুর্কী গভর্ণর আলপ্তগীন ও তাঁর দাস সবুক্তগীন কর্তৃকপুনরায় আক্রমণের শিকার হয়। সবুক্তগীন গজনবী বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং গোঁড়ামুসলিম শাসক। তাঁর আমলেই আফগানিস্তান সম্পূর্ণরূপে মুসলিম শাসনাধীনে চলেআসে। ১২২২ সালে চেঙ্গিশ খানের সৈন্য বাহিনী বামিয়ান আক্রমণ করে এবং ব্যাপকধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে। মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব (১৬৫৮-১৭০৭খ্রিঃ) একজনগোঁড়া মুসলিম ছিলেন। তিনি বামিয়ানের বৃহৎ দুই বুদ্ধ মূর্ত্তিগুলিকেকামানের গুলি মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি তালেবানীদের মিশাইলেধ্বংস না হওয়া পর্যনবৃহৎ মূর্ত্তিগুলিতে আওরঙ্গজেবের আমলের কামানের দাগদেখা যেত। যে বামিয়ানে একদা সুদূর চীন-কোরিয়া থেকে পর্যটক, পণ্ডিত ও জ্ঞানপিয়াসী মানুষের আগমন ঘটেছিল, যেখান থেকে হুন, যবন, শক, পাঠান, আর্য, অনার্যসকলেই বুদ্ধের অমৃতময় মৈত্রী সুধা পান করেছিলেন এবং যেখান থেকে একদাবুদ্ধের অমৃতময় মৈত্রী বাণী পশ্চিমে মিশর, পূর্বে চীন-কোরিয়া-জাপান পর্যন্তপ্রসার হয়েছিল, সেই উজ্জ্বল জ্ঞানময় ও মৈত্রীময় তীর্থ ভূমির গৌরব গাথাঅবশেষে ইতিহাসের কোলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হল এবং বুদ্ধের বহুভাষিত আপ্তবাক্যঅনিত্য-দুঃখ-অনাত্মেরজয় হল।

 

কৃতজ্ঞতাঃ

বনযোগীছড়া কিশোর-কিশোরী কল্যাণ সমিতি    

 

সূত্রঃ http://banajogichara.org/