২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ইংরেজী
শুক্রবার, 10 এপ্রিল 2015 22:42

মহাচীনের পথে

লিখেছেনঃ নীহারেন্দু বড়ুয়া

মহাচীনের পথে

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এসে ‘গ্রেটওয়াল’ বা চীনের মহাপ্রাচীর না দেখে কী যাওয়া যায়! বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাত্ব সংঘ (WFB) এর ২৭তম এবং (WFBY) ১৮ তম জেনারেল কনফারেন্স বা সম্মেলনে যোগদান করার জন্যে মহামান্য সংঘনায়ক ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বিশ্ববৌদ্ধ সৌভ্রাত্ব সংঘের সহ-সভাপতি শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের সহ বাংলাদেশ থেকে নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি ও পরিদর্শক মিলে বিভিন্ন সংগঠন হতে আমরা ২৮ জন এসেছি চীনের সানজি (Shaanxi) প্রদেশের ‘বাওজি’ (Baoji) সিটিতে; এছাড়া এসেছেন বিশ্বের আরও ৫০টি দেশের প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি পরিদর্শক। আমি এসেছি আমাদের গ্রাম কধুরখীলের “Ideal Borthers Assocation” থেকে Delegate হিসেবে। এ ব্যাপারে আমার নাম সংযুক্ত করার জন্য কধুরখীল জ্ঞানোদয় বিহারের অধ্যক্ষ আমেরিকা প্রবাসী সুমন পাল থেরকে প্রথমেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে হয়।

১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০১৪ ইং, চীনের ৫০০০ হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস বুকে ধারণ করে লালন করে আছে যে প্রদেশ, যেখান থেকে ইতিহাস খ্যাত সিল্ক রোডের (Silk Road) সূচনা, যে সিল্ক রোড ধরে ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধধর্ম প্রথম চীনে প্রবেশ করেছে, যে স্থান ‘Holy Land of the Chinese Revolution’ এবং ‘Chin's Natural Treasure House of Plants ’ নামে খ্যাত চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় (Shaanxi) প্রদেশের অত্যাধুনিক ঈটমনধ সিটিতে অতি জাঁকজমকের সাথে সম্পন্ন হল WFB এবং WFBY এর মহাসম্মেলন। দীর্ঘ আধ মাইলেরও বেশি পথ লাল গালিচা সম্বর্ধনা থেকে শুরু করে রাজকীয় সম্মাননায় বরণ করা হল সকলকে। থাকা; খাওয়া; ভ্রমণ প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল রাজকীয়তার আমেজ। বাংলাদেশের সুনাম সুযশ ছড়িয়ে পড়লো এ সম্মেলনের মাধ্যমে। সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের ইংরেজিতে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে প্রশংসা করলেন এতে মনে হলো বিশ্বসভায় তিনি যেন বাংলাদেশের একজন ধর্মদূত। গর্বে মন আমাদের উদ্বেলিত হলো। ইংরেজিতে ভাষণ দিলেন ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, মি.পি. আর বড়ুয়া, ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া ও ডা. অসীম রঞ্জন বড়ুয়া। সমস্ত সম্মেলন জুড়ে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিনিধির সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্মেলনকে করেছে প্রাণবন্ত ও সার্থক। কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিক লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া, কৃষ্টি প্রচার সংঘের যুগ্ম মহাসচিব দেবপ্রিয় বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক প্রমথ বড়ুয়া, ড. সংঘপ্রিয় থের, শাসনপ্রিয় মহাথের, প্রচার সংঘ যুব এর সভাপতি পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল, সাধারণ সম্পাদক প্রীতিশ রঞ্জন বড়ুয়া, ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া, অনোমার সুজন কুমার বড়ুয়া, তুষার কান্তি বড়ুয়া, আশীষ বড়ুয়া, বৌদ্ধ সমিতির সত্যপ্রিয় বড়ুয়া, নৃপতি রঞ্জন বড়ুয়া, শীলানন্দ থের সম্মেলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া এড. পিযুষ বড়ুয়া, অধ্যাপিকা মনিকা বড়ুয়া ও নন্দিতা বড়ুয়ার ভূমিকাও কম ছিল না। ঢাকা বুড্ডিস্ট ফেডারেশন জগবন্ধু বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া, মনিকা বড়ুয়াও অবদান রাখেন। আমি WFB ' র Publication, Publicity, Education, Culture and Arts 'Standing Committeeর নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হলাম বাংলাদেশ থেকে। অন্য ৪ জন সদস্য হলেন জার্মানী, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা এবং ইন্দোনেশিয়ার। পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল (WFBY) এর Assistant Sceretary Genaral নির্বাচিত হন। Baoji’র WANGFU SEVEN STAR INTERNATIONAL HOTEL এ এবং ইতিহাস খ্যাত FAMEN TEMPLE এ (যেখানে মহামানব গৌতম বুদ্ধের Finger Relicsর রয়েছে) বুদ্ধের আঙ্গুলের অস্থি শুধু মাত্র চীনের এ টেম্পলেই আছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সম্মেলনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং দর্শনীয় স্থান সমূহ পরিভ্রমণ করে ১৯ অক্টোবর বেলা দু’টোয় আমরা কয়েকজন রওনা দিলাম রাজধানী বেইজিং যাবার জন্যে ‘বাওজি নর্থ রেল স্টেশনের উদ্দেশ্যে।

পথঘাট দারুন সুন্দর, পরিপাটি, মার্জিত। রাস্তার দু’পাশে ফুল এবং পাতাবাহারের নন্দিত সমাবেশ। একটা ব্রিজ দেখলাম কিছুদূর পর পর ফুল দিয়ে সাজানো ঘঋঅ নদীর উপর সানলোং ব্রিজ। আরেকটা ব্রিজের উপর ছাউনী এবং কিছুদূর পর পর ফুল দিয়ে সাজানো এক একটা ঘর। আমাদের সঙ্গে রয়েছে আমাদের গাইড ইবলর বাউজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং অন্য দু’জন সিকিউরিটি গার্ড, তারা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করলো। যথাসময়ে মালামাল নিয়ে আমরা রেল স্টেশনে হাজির হলাম। আমাদেরকে বসতে দেওয়া হল VIPকর্ণারে। সেখানে অত্যাধুনিক সোফা ও পাতাবাহার এবং ফুল দিয়ে সাজানো। স্টেশনের সিকিউরিটি অফিসার তিন জন মহিলা এসে আমাদের সাথে কুশল বিনিময়ের পর ফটো তুললো এক সাথে। বিকেল চারটায় আমাদের ট্রেন ছাড়বে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে। আমাদের গাইড Amur এবং সিকিউরিটি গার্ড দু’জন আমাদেরকে ট্রেন পর্যন্ত এগিয়ে দিল। সহায়তা করলো আমাদের বাক্সগুলো উঠাতে। বিদায় বেলা সকলের চোখ জল ছল্‌ ছল্‌। সকলেAmur কে বললো, তুমি আমাদের মা। তোমাদের আতিথেয়তা ভুলবো না আমরা কখনো, বিদায় বাউজি। WFBএর ২৭ তম সম্মেলন সকল বিশ্ববাসীর জন্যে শান্তির বার্তা বহে আনুক।

ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় বিকেল ৪টায় দ্রুতগামী ‘বুলেট ট্রেন’ রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। অত্যাধুনিক ট্রেন। একটুও ঝাঁকুনি নেই। গতি ঘণ্টায় ৩০৬ থেকে ৩২০ কি.মি. মনিটরের পর্দায় কিছুক্ষণ পর পর দেখতে পারছি। সিটগুলো উড়োজাহাজের চেয়েও আরামদায়ক ও প্রশস্ত। ঘুমোতে চাইলে পেছনে হেলানো যায়। সিটের সামনে Sanitary Bag রয়েছে। Waterproofedকাগজ দিয়ে তৈরী। যা কিছু ময়লা, ফলমূলের খোসা ঐখানেই ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর ঝাড় দেয়া হচ্ছে এবং পুরানো ব্যাগগুলো তুলে নিয়ে নতুন ব্যাগ দিচ্ছে এক মহিলা প্যান্ট, শার্ট, জুতা, মোজা পরা খুবই সুন্দর পরিপাটি মার্জিত ট্রেন। খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যাওয়া যায়। রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাচ্ছি। ভীষণ দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে বুলেট ট্রেন। মাঝে মাঝে কোন কোন স্টেশনে থামে। যাত্রীরা উঠে নামে। বিস্তীর্ণ মাঠ ফসলের জন্যে তৈরী হচ্ছে। শিম জাতীয় গাছগুলোর জন্য স্থায়ী মাচা তৈরী করা হয়েছে। চীনের লোকেরা শিমের দানা বেশি খায়। অনেক জায়গায় গ্রীণ হাউজ পদ্ধতিতে শাকসবজী উৎপাদন হচ্ছে। চাষারা শার্ট, প্যান্ট, জুতা, মোজা পরা। ৬টা বাজার পর বাইরের দৃশ্য আর দেখা হলো না। এবার ভিতরের নানা দৃশ্যে চক্ষু ইন্দ্রিয় তৃপ্ত হতে লাগলো। এক জোড়া প্রেমিক যুগল এত আদিরসে মত্ত যে ভুলেই গেলো ট্রেনে আরও লোক আছে। মাঝে মধ্যে নৃপতি বাবু ও প্রীতিশ বাবুর মোবাইল থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর আনমনা করে তুলছে। মন চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিভৃত প্রান্তে যেখানে ফেলে এসেছি তাকে। এভাবে রাত ১১টায় প্রায় ২০০০ কি.মি. পথ অতিক্রম করে আমরা পৌঁছে গেলাম বেইজিং ওয়েস্ট রেল স্টেশনে। WFB এরই PPECA Standing Committee ’র Chairperson প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া এখানে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন বেইজিং বিমান বন্দরের দিকে। ইতিমধ্যে ‘বাওজি’ থেকে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন ঘএঈ এর সহ-সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের, পি,আর বড়ুয়া (Chair Person Finance Committee) (WFB), কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব পি,কে বড়ুয়া (WFB), যুগ্ম মহাসচিব দেবপ্রিয় বড়ুয়া, প্রমথ বড়ুয়া (Hon. Assit. Secretary General) (WFB), রনজিত বড়ুয়া, ডা. অসীম বড়ুয়া, এড. পিযুষ কুমার বড়ুয়া, জগবন্ধু বড়ুয়া, দীপিকা বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া ও নন্দিতা বড়ুয়া মহামণ্ডলের প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু পরে আসবেন।

কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিক দানবীর এবং সমাজ সেবক লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া এম.জে.এফ. বেইজিংয়ে আমরা ১৩ জনের যাবতীয় ভ্রমণের গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন। সম্মেলন শেষ করে তিনি সকালেই ৪ জনকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং পৌঁছে গেছেন। রেলগাড়ি থেকে নামতেই দেখি মি. তুষার কান্তি বড়ুয়া এবং ড্রাইভার আমাদেরকে হোটেলে নিয়ে যাবার জন্যে হাজির রেলষ্টেশনে। বিশাল রেল ষ্টেশন, স্কেলেপটরে নামা-উঠা করতে হয়। নিচের তলায় কিছু ভবঘুরে ঘুমিয়েছিল। পুলিশের গাড়ি এসে সাইরেন বাজাতে বাজাতে তাঁদের তাড়াচ্ছে। রূপম বাবু ইতিপূর্বে হোটেল বুকিংও দিয়ে রেখেছেন। Vienna International Hotel, এখানে যখন পৌঁছলাম তখন রাত ১২.৩০টা। ‘বাওজি’র মতো আমি এবং শাসনপ্রিয় মহাস্থবির একই রুমে উঠলাম। দোকানপাট সবই বন্ধ। থলের মধ্যে ‘বাওজি’ থেকে আনা বড় একটি আপেল ও কয়েকটা বরই ছিল। রাতে ঐগুলো খেয়েই শুয়ে পড়লাম। মনে মনে বললাম, ভান্তেরা না খেয়ে থাকতে পারলে আমরা পারবোনা কেন?

২০/১০/২০১৪ ইংরেজি খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রাতক্রিয়াদি সম্পন্ন করে হোটেলের ‘ডাইনিং হলে প্রাতঃরাশের জন্য চলে গেলাম। হোটেল ভাড়ার সাথে ব্রেকফাস্টের টাকাও এক সাথে নিয়ে নেয়া হয়েছে। এখানেও নিজের হাতে নিজে নিয়েই সব খাবার খেতে হয়। যার যা ইচ্ছে সেটা খেতে পারবে। ব্রেকফাস্ট সেরে সকাল ০৮টায় আমরা যাত্রা শুরু করলাম গ্রেটওয়াল বা চীনের মহাপ্রাচীর দেখার জন্য।

লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়ার সৌজন্যে পাঠানো সুন্দর ও অত্যাধুনিক গাড়িতে ড্রাইভার ছাড়াও ভালো ইংরেজি জানা একজন গাইড আমাদের জন্য দেয়া হলো। নাম সিন্‌জো, ছেলেটার উচ্চতা ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চির কম হবে না। দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রং, বাহারী চুল এবং হাসির দ্যুতিতে সে সবার মন কাড়ে। ভদ্র, নম্র ছেলেটাকে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত। সে সবার নাম টুকে নিচ্ছে, শাসনপ্রিয় মহাস্থবির, ড. সংঘপ্রিয় থের, শীলানন্দ থের, নীহারেন্দু বড়ুয়া, পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল, ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া, সুজন কুমার বড়ুয়া, তুষার কান্তি বড়ুয়া, মো. জাহেদ, সত্যপ্রিয় বড়ুয়া, নৃপতি রঞ্জন বড়ুয়া, আশীষ বড়ুয়া সব মিলে ১৩ জন।

গাড়ি আমাদের ছুটে চলেছে হাইওয়ে ধরে প্রচন্ড গতিতে। ড্রাইভারের সিট বাম পাশে। সামনে থেকে দ্রুতগতিতে কোন গাড়ি আসতে দেখলেই আমরা আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী মনে করি এই বুঝি গাড়িটা আমাদের উপর এসে পড়বে। না তাদের নিয়ম মোতাবেক ডান পাশ দিয়ে কেটেই গাড়িগুলো চলে যাচ্ছে। রাস্তায় কোন যানজট নেই। সিগন্যাল পড়লে গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায়। ওভারটেক করার প্রণবতা নেই, জোরে হর্ণ বাজানোর অভ্যাস নেই। সুশৃঙ্খলভাবে গাড়িগুলো ছুটে চলেছে নিজ গন্তব্যে। রাস্তাগুলো প্রশস্ত এবং পরিচ্ছন্ন। আইল্যাণ্ডে এবং রাস্তার দু’পাশে ফুল ও পাতাবাহারের বাহারি সাজ সকলের মন ছুঁয়ে যায়। কোনো কোনো গাছের পাতাগুলো ফুলকেও হার মানায়। রাস্তার দু’ধারের বিল্ডিংগুলো একই উচ্চতার; প্রতিযোগিতা দিয়ে কাকেও ছাড়িয়ে অন্যে আকাশচুম্বি হয়ে গজিয়ে উঠছেনা। প্রতিটি বিল্ডিংয়ে এসি সংযুক্ত। এখানকার ফ্লাইওভারগুলো চমৎকার। রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণস্থানে টোলপোস্ট আছে। গাড়ি ঐখানে থেমে টোল আদায় করে টিকেট নিয়ে যায়। অপারেটর প্রায় জায়গাতেই মহিলা। এক জায়গায় দেখলাম চারটা ওভারব্রীজ পাশাপাশি চলে গেছে। একটা ব্রিজ দেখলাম কলকাতার হাওড়া ব্রীজের মতো শিকল দিয়ে টানা। কোন কোন ওভার ব্রিজ দিয়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে। ক্রমে আমরা চলে গেলাম শহরের বাইরে। এদিকের ঘরগুলো দোতলা/তিনতলা। উপরে এডভেস্টার জাতীয় পদার্থের ছাউনী। এগুলো খুব সম্ভবত কৃষি পল্লী। এখানেও ঘরগুলো একই রকমের। উপরে মাথা উঁচু করার প্রবণতা নেই কারও। গরু, গাধা এবং ভেড়ার ফার্ম রয়েছে এদিকে। আমরা যে রাস্তায় চলছি এখানে গাড়ি খুবই কম। আমাদের ড্রাইভার ভীষণ জোরে চালিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। হাইওয়ে ফেলে আমরা রাস্তা দিয়ে চলছি তাও বহু বড়। এক জায়গায় দেখলাম এক গাড়ি ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফল বিক্রেতা। এদিকে পাহাড়ী অঞ্চল। বিরাট বিরাট পাথরের পাহাড়। আমাদের গাড়ি পাথরের পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে চলে যাচ্ছে। ভয়ের কোন কারণ নেই। পাথরগুলো জমাট বাঁধা। ভীষণ শক্ত। মাঝে মাঝে সমতল জায়গায় কমলা এবং আপেল পেকে ঝুলে ঝুলে আছে। এদিকের ঘরগুলো খাবরা বা শক্ত এডভেস্টারের ছাউনীযুক্ত। বেলা ১০টায় আমরা গ্রেডওয়ালের প্রবেশ দ্বারের কাছে পৌঁছলাম। পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম আশ্চর্য নিদর্শন চীনের মহাপ্রাচীর। উত্তর চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেইজিং। এ শহরের উত্তর পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণি। Yanshan ও Taihang পর্বত। পাহাড়ী উপত্যকা ভেদ করে পার্শ্ববর্তী দেশের দুর্ধর্ষ মঙ্গোলিয়ানেরা প্রাচীনকালে চীনে হানা দিত। চেঙ্গিস খাঁর রাজ্য জয় ও সাথে বংশ বিস্তারের বহু কাহিনী রয়েছে। তাদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য খৃষ্টপূর্ব ৪৭৫ থেকে ২২১ সালের মধ্যে চীনের প্রায় ২০টি রাজবংশের শাসকেরা ক্রমান্বয়ে এ মহাপ্রাচীর দুর্গের মতো করে নির্মাণ করেন। এ প্রাচীর নির্মাণের ফলে চীন বহির্শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

বেইজিংয়ের ছয়টি বিভাগে প্রায় ৬২৯ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকা জুড়ে এ মহাপ্রাচীর বিস্তীর্ণ। এছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলসহ ৭২০০ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে এ মহাপ্রাচীর। পাহাড়-পর্বত, মরুভূমি, বরফ ঢাকা পর্বতমালা অতিক্রম করে চলে গেছে এ প্রাচীর। এ মহাপ্রাচীরের কাজ সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হয়েছে প্রথম সম্রাট Qin রাজবংশ, সম্রাট Wudi হানরাজবংশ এবং সম্রাট Taizu মিন্‌গ রাজবংশের শাসনামলে। ‘গ্রেটওয়াল’ চীনের জাতীয় প্রতীক এবং সৌর্য বীর্যের নমুনা। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে চীনের মহাপ্রাচীর, মহাবিস্ময়। ১৯৮৭ খৃ: UNESCO চীনের মহাপ্রাচীরকে বিশ্ব সংস্কৃতির উত্তরাধিকার (World Cultural Heritage) রূপে স্বীকৃতি দান করেছে। তারও শত শত বছর পূর্ব থেকেই এটা পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যরূপে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আজ সে সপ্ত আশ্চর্যে পা রাখতে যাচ্ছি; খুশিতে মন উদ্বেল।

সামনে লিখা আছে- Juyong Pass Great Wall Ticket Office। প্রবেশ পথে জনপ্রতি চীনের ৪৫/- অর্থাৎ বাংলাদেশী ৫৮৫/- টাকা হিসেবে টিকেট কেটে আমরা সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করলাম। হেমন্তের মিষ্টি সকাল। রোদে খুব একটা বাড়াবাড়ি নেই। প্রথমে আমরা ওয়াশ রুমে গিয়ে নিজেকে একটু হালকা করার প্রয়াস চালালাম সকলে। খুব সুন্দর পরিপাটি গৃহ। আঙ্গিনায় ছোট লাল টুকটুকে ফলে ভরে আছে গাছ। সে গাছে এবং আশে পাশে সবখানে ঝুলানো ঝালরযুক্ত ফেস্টুন, রঙ্গিন কাগজের পতাকা। এখানে আমরা দুএকটা ফটো তুললাম।

শুরু হলো গ্রেট ওয়ালে ওঠার প্রতিযোগিতা। বিরাট চওড়া দেওয়াল ২৫/৩০ ফুটের কম হবে না। মাঝখানে বিশাল রাস্তার ন্যায়, দুপাশে ভীষণ মজবুত ও চওড়া পাথরের দেয়াল। এক সময় এ পথে আটটি ঘোড়া নাকি একসাথে পাশাপাশি উঠতে পারতো। আমরা দল বেঁধে উঠতে শুরু করলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখি ঘরের মতো বিশাল এবং মজবুত ওয়াচ টাওয়ার ৩/৪শ গজ দূরে দূরে রয়েছে এক একটি টাওয়ার। এখান থেকে শত্র“দের গতিবিধি অবলোকন করা হতো। ভীষণ মজবুত দেয়াল। মাঝে মধ্যে দেয়ালের গাত্রে কিছুদূর পর পর গবাক্ষ রয়েছে। উপরের তলায় মাঝখানে মাঝখানে ছিদ্র রয়েছে। সম্ভবত শত্রুদের ওপর এসমস্ত ছিদ্র পথ দিয়ে তীর বর্শা ইত্যাদি দিয়ে আক্রমণ চালানো হত। আমরা উঠে যাচ্ছি উপরের দিকে। দু’তিনটা ওয়াচ টাওয়ার পার হবার পর ওপরে ওঠার পথ ক্রমান্বয়ে ছোট হতে শুরু করেছে। ঐখানে রয়েছে ধাপ ধাপ সিঁড়ি। দু’পাশে লোহার পাইপ দিয়ে হাতল করে দেয়া হয়েছে। হাতল ধরে ধরে আমরা উঠছি তো উঠছি উপরের দিকে। ০৫/০৬টা ওয়াচ টাওয়ার অতিক্রম করে পেছনের দিকে দেখতেই দেখি আমরা মাত্র আছি ০৩ জন। বাকীগুলো রণে ভঙ্গ দিয়ে নেমে গেছেন নীচের দিকে। আমরা শপথ নিলাম একেবারে চূড়ার টাওয়ারে উঠবই। হেমন্তের মিঠে রোদ। সূর্য খুব প্রখর নয়। হিমেল হাওয়ার আমেজ এদিকের গাছপালা, প্রকৃতির বুকে মৃদু নাড়া দিতে শুরু করেছে। পাখিগুলো বোধ হয় নীড় ছেড়ে কিছুদিন পূর্ব থেকেই পাড়ি জমিয়েছে আমাদের দেশের দিকে। একটাও পাখি চোখে পড়লো না। আর কয়েকদিন পর থেকে শুরু হবে শীতের রুদ্র মূর্তি। বরফে ঢাকা পড়ে যাবে গ্রেট ওয়ালের সিঁড়িগুলো। সাইন বোর্ডে লিখা আছে, বরফ পড়লে অথবা যারা হার্টের রোগী তাদের উপরে না ওঠার জন্যে। পরেরটার প্রবণতা আমার থাকলেও ইচ্ছা শক্তির কাছে সেটা গৌন হয়ে গেল। যত উপরে ওঠছি, ততই মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। তবুও আমাদের ওঠার বিরতি নেই।

নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, ঘরবাড়ি, গাড়ি সবগুলোকে ঝাপসা ঝাপসা খুবই ছোট দেখাচ্ছিল। কিছুই চেনার উপায় নেই। অত্যাধুনিক ট্রেন। একটুও ঝাঁকুনি নেই। গতি ঘন্টায় ৩০৬ থেকে ৩২০ কি.মি. মনিটরের পর্দায় কিছুক্ষণ পর পর দেখতে পারছি। সিটগুলো উড়োজাহাজের চেয়েও আরামদায়ক ও প্রশস্ত। ঘুমোতে চাইলে পেছনে হেলানো যায়। সিটের সামনে Sanitary Bag রয়েছে। Waterproofed কাগজ দিয়ে তৈরী। যা কিছু ময়লা, ফলমূলের খোসা ঐখানেই ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর ঝাড়– দেয়া হচ্ছে এবং পুরানো ব্যাগগুলো তুলে নিয়ে নতুন ব্যাগ দিচ্ছে এক মহিলা প্যান্ট, শার্ট, জুতা, মোজা পড়া খুবই সুন্দর পরিপাটি মার্জিত ট্রেন। খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যাওয়া যায়। রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাচ্ছি। ভীষণ দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে বুলেট ট্রেন। মাঝে মাঝে কোন কোন ষ্টেশনে থামে। যাত্রীরা উঠে নামে। বিস্তীর্ণ মাঠ ফসলের জন্যে তৈরী হচ্ছে। শিম জাতীয় গাছগুলোর জন্য স্থায়ী মাচা তৈরী করা হয়েছে। চীনের লোকেরা শিমের দানা বেশী খায়। অনেক জায়গায় গ্রীন হাউজ পদ্ধতিতে শাকসবজী উৎপাদন হচ্ছে। চাষারা শার্ট, প্যান্ট, জুতা, মোজা পরা। ৬টা বাজার পর বাইরের দৃশ্য আরা দেখা হলো না। এবার ভিতরের নানা দৃশ্যে চক্ষু ইন্দ্রিয় তৃপ্ত হতে লাগলো। এক জোড়া প্রেমিক যুগল এত আদিরসে মত্ত যে ভুলেই গেলো ট্রেনে আরও লোক আছে। মাঝে মধ্যে নৃপতি বাবু ও প্রীতিশ বাবুর মোবাইল থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর আনমনা করে তুলছে। মন চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিভৃত প্রান্তে যেখানে ফেলে এসেছি তাকে। এভাবে রাত ১১টায় প্রায় ২০০০ কি.মি. পথ অতিক্রম করে আমরা পৌঁছে গেলাম বেইজিং ওয়েস্ট রেল ষ্টেশনে। WFB এর PPECA Standing Commitee এর Chairperson প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া এখানে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন বেইজিং বিমান বন্দরের দিকে। ইতিমধ্যে বাওজি থেকে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন ডঋই এর সহ-সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের, পি,আর বড়ুয়া (Chair Person Finance Committee, WFB), কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব পি,কে বড়ুয়া, যুগ্ন মহাসচিব দেবপ্রিয় বড়ুয়া, প্রমথ বড়ুয়া (Hon. Assit. Secretary General, WFB), রনজিত বড়ুয়া, ডাঃ অসীম বড়ুয়া, এড. পিযুষ কুমার বড়ুয়া, জগবন্ধু বড়ুয়া, দীপিকা বড়ুয়া, বিধান বড়ুয়া ও নন্দিতা বড়ুয়া মহামণ্ডলের প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু পরে আসবেন।

কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিক দানবীর এবং সমাজ সেবক লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া এম.জে.এফ. বেইজিংয়ে আমরা ১৩ জনের যাবতীয় ভ্রমণের গাড়ীর ব্যবস্থা করেছেন। সম্মেলন শেষ করে তিনি সকালেই ৪জনকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং পৌঁছে গেছেন। রেলগাড়ী থেকে নামতেই দেখি মি. তুষার কান্তি বড়ুয়া এবং ড্রাইভার আমাদেরকে হোটেলে নিয়ে যাবার জন্যে হাজির রেলষ্টেশনে। বিশাল রেল ষ্টেশন, স্কেলেপটরে নামা-উঠা করতে হয়। নীচের তলায় কিছু ভবঘুরে ঘুমিয়েছিল। পুলিশের গাড়ী এসে সাইরেন বাজাতে বাজাতে তাঁদের তাড়াচ্ছে। রূপম বাবু ইতিপূর্বে হোটেল বুকিংও দিয়ে রেখেছেন। Vienna International Hotel, এখানে যখন পৌঁছলাম তখন রাত ১২.৩০টা। ‘বাওজি’র মতো আমি এবং শাসনপ্রিয় মহাস্থবির একই রুমে উঠলাম। দোকানপাট সবই বন্ধ। থলের মধ্যে বাওজি থেকে আনা বড় একটি আপেল ও কয়েকটা বরই ছিল। রাতে ঐগুলো খেয়েই শুয়ে পড়লাম। মনে মনে বললাম, ভান্তেরা না খেয়ে থাকতে পারলে আমরা পারবোনা কেন?

২০/১০/২০১৪ ইংরেজী খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রাতক্রিয়াদি সম্পন্ন করে হোটেলের ডাইনিং হলে প্রাতঃরাশের জন্য চলে গেলাম। হোটেল ভাড়ার সাথে ব্রেকফাস্টের টাকাও এক সাথে নিয়ে নেয়া হয়েছে। এখানেও নিজের হাতে নিজে নিয়েই সব খাবার খেতে হয়। যার যা ইচ্ছে সেটা খেতে পারবে। ব্রেকফাস্ট সেরে সকাল ০৮টায় আমরা যাত্রা শুরু করলাম গ্রেডওয়াল বা চীনের মহাপ্রাচীর দেখার জন্য।

লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়ার সৌজন্যে পাঠানো সুন্দর ও অত্যাধুনিক গাড়ীতে ড্রাইভার ছাড়াও ভালো ইংরেজী জানা একজন গাইড আমাদের জন্য দেয়া হলো। নাম সিন্জো ছেলেটার উচ্চতা ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চির কম হবে না। দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রং, বাহারী চুল এবং হাসির দ্যুতিতে সে সবার মন কাড়ে। ভদ্র, নম্র ছেলেটাকে পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত। সে সবার নাম টুকে নিচ্ছে, শাসনপ্রিয় মহাস্থবির, ড. সংঘপ্রিয় থের, শীলানন্দ থের, নীহারেন্দু বড়ুয়া, পুষ্পেন বড়ুয়া কাজল, প্রীতিশ রঞ্জন বড়ুয়া, ড. সুব্রত বরণ বড়ুয়া, সুজন কুমার বড়ুয়া, তুষার কান্তি বড়ুয়া, মোঃ জাহেদ, সত্যপ্রিয় বড়ুয়া, নৃপতি রঞ্জন বড়ুয়া, আশীষ বড়ুয়া সব মিলে ১৩জন।

গাড়ী আমাদের ছুটে চলেছে হাইওয়ে ধরে প্রচন্ড গতিতে। ড্রাইভারের সিট বাম পাশে। সামনে থেকে দ্রুতগতিতে কোন গাড়ি আসতে দেখলেই আমরা আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী মনে করি এই বুঝি গাড়ীটা আমাদের উপর এসে পড়বে। না তাদের নিয়ম মোতাবেক ডান পাশ দিয়ে কেটেই গাড়ীগুলো চলে যাচ্ছে। রাস্তায় কোন যানজট নেই। সিগন্যাল পড়লে গাড়ীগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায়। ওভারটেক করার প্রবণতা নেই, জোরে হর্ণ বাজানোর অভ্যাস নেই। সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ীগুলো ছুটে চলেছে নিজ গন্তব্যে। রাস্তাগুলো প্রশস্ত এবং পরিচ্ছন্ন। আইল্যাণ্ডে এবং রাস্তার দু’পাশে ফুল ও পাতাবাহারের বাহারি সাজ সকলের মন ছুঁয়ে যায়। কোনো কোনো গাছের পাতাগুলো ফুলকেও হার মানায়। রাস্তার দু’ধারের বিল্ডিংগুলো একই উচ্চতার; প্রতিযোগিতা দিয়ে কাকেও ছাড়িয়ে অন্যে আকাশচুম্বি হয়ে গজিয়ে উঠছেনা।

Additional Info

  • Image: Image