২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১১ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইংরেজী
রবিবার, 09 মার্চ 2014 18:31

রবীন্দ্র মনন ও সাহিত্যে বৌদ্ধ চেতনা (৩)

লিখেছেনঃ বিজন গোলদার

রবীন্দ্র মনন ও সাহিত্যে বৌদ্ধ চেতনা

(পূর্ব প্রকাশের পর)

চার

মস্তকবিক্রয় কবিতাটির উৎসমূলে আছে 'মহাবস্তু অবদান'-এর অন্তর্গত 'অজ্ঞাতকৌডিল্য' উপাখ্যান। অজ্ঞাতকৌডিল্যের কাহিনীতে পূর্বজন্মের স্মৃতিকথায় কোশলরাজ ও কাশিরাজের পরস্পর বিদ্বেষদ্বন্দ্বের বর্ণনা আছে। তারই ফলশ্রুতিতে কোশলরাজের আত্মত্যাগ ও প্রেমধর্মের জয়গান।

রবীন্দ্রনাথ কবিতায় মস্তকবিক্রয় মূল কাহিনী থেকে বিচ্যুত না হয়ে বিশ্বস্ততায় অনুসরণ করেছেন। ঘটনার মূলে পরহিতব্রতের আত্মত্যাগই পবিত্র ও মহান আদর্শ_ যা কবিতায় মুখ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত। বৌদ্ধকাহিনীর আখ্যান কাব্য, নাটক-নাটিকা ও জাতক সাহিত্যে মানবপ্রেমের এ জাতীয় বিষয় সুলভ এবং এ সকলের মধ্যেই রয়েছে মানব প্রেমের সমুজ্জ্বল এক ধ্রুব আদর্শ। এ রসকেই রবীন্দ্রনাথ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও শিল্পের সুষমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মের তাত্তি্বক দিক এখানে অনুপস্থিত। কবিতায় প্রাণ পেয়েছে ভালবাসা, প্রেম, মৈত্রী ও করুণার আদর্শ প্রতিষ্ঠার রূপায়ণে। কোশলারাজ প্রজাবৎসল, হৃদয়বান ও ধার্মিক। সুবিস্তৃত তাঁর যশোগাথা। দানে তিনি সর্বস্বত্যাগী। কাশীরাজ সম্মানে বড়। তবে কোশলরাজের যশোগাথায় তিনি মস্নান। হৃদয়ের ঐশ্বর্যে তিনি নির্ধন। শক্তির মত্ততায় তিনি অন্ধ। হিংসা ও শক্তির কাছে লোকক্ষয়ের ভয়ে পরাজয় স্বীকার করেন কোশলরাজ। যুদ্ধে পরাজিত রাজা মেনে নেন বনবাস। গর্বিত কাশীরাজ বলেন_

ক্ষমতা আছে যার রাখিতে ধন

তারেই দাতা হওয়া সাজে।

লক্ষ্মীহীন রাজ্যে রাহুতে গ্রাস করে চাঁদ। প্রজারা কাঁদে। ক্ষমতার দর্পে অন্ধ কাশীরাজ ঘোষণা করেন_

যে ধরি আনি দিবে কোশলরাজে

কনক শতক দিবে তারে।

এ ঘোষণায় প্রজারা কাঁদে, ভয়ে শিহরন জাগে।

এদিকে জ্ঞান দীনবেশে ঘুরে ফেরে রাজ্যহীন রাজা। ইতোমধ্যে বাণিজ্যতরী ডুবে যাওয়া কোন এক বণিক বনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে বনবাসী কোশলরাজের কাছে কোশলরাজ্যে যাওয়ার পথের সন্ধান চায়। কোশলরাজের দয়া দাক্ষিণ্যের খবর, খ্যাতি তার জানাই ছিল।

অনাথনাথ তিনি দীনের গতি,

চলেছে দীন তাঁরি দ্বারে।

বণিকের দুর্ভাগ্যে নিরাশ্রয়ী কোশলরাজা অশ্রুধারা সংবরণ করেন নিভৃতে। তবুও তিনি তাকে নিয়ে যান কাশীরাজের কাছে।

তখন সভায় আসেন কাশীরাজ। তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন জটাধারী বনবাসী কোশলরাজ। নৃপতি হেসে জানতে চায় তাঁর আগমনের কারণ। বনবাসী নিজেকে ধরা দিতেই উপস্থিত কাশীরাজের সম্মুখে এবং নিবেদন করেন?

আমায় ধরা দিলে যা দিবে পণ

দেহো তা মোর সাথিটিরে।

সভায় চমকিত সকলে, নীরব গৃহতল, বর্ম আবরিত দ্বারীদের চোখ অশ্রু ছলছল। মৌন রাজা মৌনতা ভেংগে হেসে ওঠেন হিংসাকে আহুতি দিয়ে, সমর্পিত হন প্রেমে। জটাধারী জীর্ণ বনবাসীকে সিংহাসনে বসিয়েই প্রেম ভালবাসা ও করুণার কাছে সমর্পণ করেন নিজেকে।

রাজ্য ফিরি দিব হে মহারাজ,

হৃদয় দিব তারি সনে।

পাঁচ

অবদানশতকের প্রথম বর্গের অন্তর্গত সপ্তম সংখ্যক অবদানের নাম পদ্ম:। অবদানের বর্ণিত আখ্যানভাগ হতে গৃহীত হয়েছে 'মূল্যপ্রাপ্তি' কবিতার সারবস্তু। মূল কাহিনীতে আছে শ্রাবস্তী নগরের রাজা প্রসেনজিৎ ছিলেন বুদ্ধের উপাসক ও ভক্ত। একদিন এক মালী সদ্যস্ফুট একটি পদ্ম রাজা প্রসেনজিৎকে দেয়ার জন্য শ্রাবস্তী নগরীতে আসে। পথিমধ্যে এক তীর্থিকোপাসক তার পদ্মটি কিনবার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমন সময় গৃহপতি অনাথপি-দ সেখানে উপস্থিত হয়ে ফুলটির মূল্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতঃপর দুজনের বাড়াবাড়িতে ফুলটির দাম বাড়ে। সংশয়গ্রস্ত মালী তীর্থোকোপাসকের কাছে জানতে পারে_ তিনি ফুলটি ভক্তবান নারায়ণের চরণে নিবেদন করতে আগ্রহী। অনাথপি-দ তথাগত বুদ্ধের জন্য। মালী জানতে চায় বুদ্ধ নামীয় ব্যক্তির পরিচয়। অনাথপি-দ বর্ণনা করেন বুদ্ধের গুণমহিমা। অতঃপর মালীকে নিয়ে অনাথপি-দ বুদ্ধের কাছে যায়। দর্শনমাত্রই মালী পদ্মটি বুদ্ধের পায়ে অঞ্জলি দেয়। সাথে সাথে ফুলটি রথচক্রাকার ধারণ করে তথাগতের শিরদেশে অবস্থান নেয়। এই বিষ্ময়কর ঘটনা প্রত্যক্ষ করে মালী সাথে সাথে বুদ্ধের পদতলে পতিত হয় ও তথাগতের কৃপায় আঁতুর, অনাথ ও অন্ধজনের মঙ্গলার্থে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হয় সুদারস। রবীন্দ্রনাথ সুদারস মালীর বুদ্ধচরণে লোভমুক্ত সমর্পণকে কবিতার মূলে রেখেই নির্মাণ করেছেন 'মূল্যপ্রাপ্তি'। মূল কাহিনীর বিষয় বর্ণনা কবির কবিতায় বহুলাংশেই অনুপস্থিত। মূল কাহিনী বুদ্ধের অলৌকিকতা দর্শনে বিস্মিত মালী বুদ্ধের পাদপদ্মে ফুলটি অঞ্জলি দিয়ে পরমজ্ঞানের করুণা প্রার্থনা করেন। বুদ্ধ তাকে পরমজ্ঞান দান করেন ও আশীর্বাদ করেন। ভবিষ্যতে তিনি পদ্মোত্তম বুদ্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করবেন। রবীন্দ্রনাথ এ বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে গেছেন অনাগ্রহের কারণে।

অকালের পদ্ম সুদাস মালীর ঘরে। অসময়ের দুর্লভ তাজা পদ্মে ভাল দামের আশায় ছুটে চলে সুদাস রাজা প্রসেনজিৎ এর প্রাসাদে। পথিমধ্যে কোন এক পথিকের অনুরোধে এক মাষা স্বর্ণমূলে বুদ্ধ চরণে পদ্মঅর্ঘ্য বিক্রয়ে সম্মত হয় সুদাস। রাজা তখন মঙ্গলগীত উচারণে চলেন বুদ্ধদরশনে। অকালের পদ্ম দেখে তিনিও দিতে চান প্রভুর চরণে। দশ মাষা রাজা দেবেন, পথিক বাড়ায় বিশ। এভাবেই দাম বাড়ে ক্রমাগত। দুজনার একই উদ্দেশ্য_ প্রভুর চরণে পদ্ম নিবেদন। সুদাসভাবে যাকে দেবে এ পদ্ম তার দামতো সীমাহীন। তাহলে নিজেই তাকে দিলে, অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা আরো অধিক। তাই ফুল বিক্রিতে অসম্মতি জানিয়ে ছুটে যায় উজলি কাননে বুদ্ধশরনে। বিস্ময়বিমূঢ় নেত্রে সম্মুখে দেখে_ করুণাধন্য বুদ্ধের প্রসন্ন প্রশান্ত নিরঞ্জন ধ্যানস্থ আনন্দমুরতি।

দুটি হাতে শান্তি ঝরে, স্ফুরিছে অধর 'পরে

করুনার সুধাহাস্য জ্যোতি।

ছয়

কাশ্মীরি কবি ক্ষেমেন্দ্র ব্যাসদাস রচিত 'বোধিসত্ত্বাবদানকল্পলতা' গ্রন্থের অংশীভূত দ্বিসপ্ততম আখ্যানের নাম 'উপগুপ্তাবদানাম'। এই অখ্যানকে কেন্দ্র করেই রবীন্দ্রনাথের 'অভিসার' কবিতা।

মূল কাহিনীতে আছে উপগুপ্ত গন্ধবণিক। দাসীর মুখে তার রূপের বর্ণনা শুনে তার প্রতি জাগে তীব্র আসক্তি এবং দাসীর মাধ্যমেই প্রস্তাব পাঠায়_ বাসবদত্তা সঙ্গম প্রার্থনার। সংগমসুখের উপযুক্ত সময় আসেনি বলে দাসীকে ফিরিয়ে দেয় উপগুপ্ত। তবুও তাকে না পাওয়ার তৃষ্ণা তার থেকেই যায়। ইতোমধ্যে তার মায়ের পরামর্শে ধনের মোহে অন্য এক বণিককে সে হত্যা করে। রাজা পাপাসক্তা বাসবদত্তার ঘটনাটি শুনে তার হাত, পা, কান, নাক কর্তনের পর শ্মশানে ছড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বাসবদত্তার বিকর্তিত শরীরের সঙ্গম কামনা তখন মৃত। তখনই উপগুপ্ত এলেন বুদ্ধবাণী শুনিয়ে তার হৃদয়শুদ্ধির জন্য। উপগুপ্তর সে বাণী হৃদয় ও প্রাণে ধারণ করে সম্যক জ্ঞানের অধিকারী হলো বাসবদত্তা ।

রবীন্দ্রনাথের 'অভিসার' মূল কাহিনীকে কেন্দ্র করে আঁকাবাঁকা পথে এগিয়েছে। কবি বাসবদত্তার প্রেমকেই মুখ্য উপজীব্য করে সামনে এগিয়েছেন। এ প্রেম শেষ পর্যায়ে শরীরকে অতিক্রম করে অপার্থিব হয়। কবির কবিতায় বাসবদত্তা গনিকা নয় নগরনটী এবং উপগুপ্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু তথাগতের উপাসক।

শ্রাবণের নিশীথে আকাশ ঘনমেঘে ছাওয়া। তারারা মেঘের নিচে লুকিয়েছে। মথুরাপুরীতে নিদ্রিত সন্ন্যাসী উপগুপ্ত। এদিকে যৌবন উন্মাদনায় অভিসারে চলেছে নগরনটী বাসবদত্তা। অভিসারিকার নূপুরশিঞ্চিত স্খলিতপদ আঘাত করে সন্ন্যাসীর বক্ষ। আকস্মিকতায় বিস্মিত বাসবদত্তা থমকে দাঁড়ায়। প্রদীপের আলোতে দেখে শুভ্র, সৌম্য সহাস্য এক মুখম-ল, চোখে তার করুণা ভাসে, ললাটে চাঁদের হাসির সি্নগ্ধতা, শরীরে তার সি্নগ্ধ কমনীয় লাবণ্যের অপার্থিব দিব্যজ্যোতির প্রতিভাস। এ সবই তো রবীন্দ্র কল্পনা। প্রেমের বেদী বিনির্মাণের জন্য কবির থাকে এক অতুলনীয় প্রয়াস।

কবির কবিতায় দেহপসারিণী বাসবদত্তা শরীরসর্বস্ব কাম অনুভূতি নিয়ে সঙ্গম প্রার্থনা করছে না গন্ধবণিকের কাছে। বাসবদত্তা নগরনটী এবং প্রেমিকা। প্রেমের দেউলে সে দীপ্তিময়ী। শ্রাবণের তারা ঢাকা রাতে বাতাসে নগরের আলোগুলো যখন নিভিয়ে দিয়েছে তখনই নায়িকার অভিসার।

কহিল রমণী ললিত কণ্ঠে,

নয়নে জড়িত লজ্জা,

ক্ষমা করো মোরে কুমার কিশোর,

দয়া করো যদি গৃহে চল মোর,

এ ধরণীতল কঠিন কঠোর

এ নহে মোর শয্যা।

আখ্যানমূলের কামবৃত্তি চারিণীর নির্লজ্জ ঘৃণ্য চরিত্র এখানে অনুপস্থিত। ভাষার লালিত্য, সলাজ নয়নদৃষ্টি ও প্রেমের সংশয় জাগানিয়ার মধ্য দিয়েই প্রেমিকা তার আর্তিটুকু পৌঁছে দেয় উপগুপ্তের কাছে। এ প্রেম কামনার তীব্রতা বর্জিত, নির্মল নিষ্কলুষ ভালবাসা আশ্রিত।

সন্ন্যাসী প্রত্যাখ্যান করেন বাসবদত্তাকে। বারংবার প্রত্যাখ্যানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন দুর্দিনেই তারই কুঞ্জে হবে তার দেখা। রূপের গরবে গরবিনী বাসবদত্তা। রূপই তার সম্পদ ও অবলম্বন। তাই এ অস্বীকারে প্রেমিকার যে হৃদয়যন্ত্রণা তা নারীর সর্বজনীনতায় গ্রাহ্যতায় স্বীকৃত।

অতঃপর ঋতুরাজ বসন্তের চৈত্রসন্ধ্যা। মুকুলিত বৃক্ষরাজি, বকুল, পারুল, রজনীগন্ধ্যায় ভরে আছে রাজার কানন, বাতাসে ভাসে বাঁশির সুমিষ্ট সুর, মধুবনে ফুলউৎসবে মাতোয়ারা পূরবাসী, মানবশূন্য নগরীতে জোৎস্নার আলোতে নির্জন পথে একাকী হেঁটে চলেন সন্ন্যাসী । কোকিলেরা কুহরিতুলে জানান দেয়_ আমরা তোমারই সাথী। সন্ন্যাসী অভিসারে চলে। বসন্তের সন্ধ্যার প্রকৃতিকে কবিকল্পনা যেভাবে শল্যচিকিৎসকের মতো ব্যবচ্ছেদ করেছেন, সেটা রবীন্দ্রনাথের পক্ষেই শুধু সম্ভব। বর্ষায় প্রেমের দেউলে প্রেমিকের প্রতি প্রেমিকার আহবানের উত্তরে প্রেমিকের প্রত্যাখ্যান। অবশেষে প্রেমিকার কুঞ্জে প্রেমিকের অভিসার।

অতঃপর নগর ছাড়িয়ে সম্মুখে অগ্রসরমান বিস্ময়ে স্তম্ভিত সন্ন্যাসী দেখেন_

দাঁড়ালেন আসি পরিখার পরে_

আম্রবনের ছায়ার আঁধারে

কে ওই রমনী প'ড়ে আছে ধারে

তাঁহার চরণপ্রান্তে

বাসবদত্তা পরিত্যাক্ত। মারীগুটিকায় তার সর্বাঙ্গ শরীর জীর্ণ ও সৌন্দর্য তিরহিত ও সকলের সঙ্গ পরিত্যাজ্য। করুনা, সেবা ও কল্যাণব্রতের আদর্শে সন্ন্যাসী নিজ শরীরে তাকে ধারণ করলেন। সেবা দিলেন। ইন্দ্রয়ধর্মেব অনুগত প্রেম দিলেন। এ প্রেম মৈত্রী-করুণার আধারে গড়া। তার অভিসার দেহের দেউলে আবদ্ধ নয়; প্রেম মৈত্রী ও করুণার অমৃতপথে। শ্রাবণের অন্ধকার নিশিথে বাসবদত্তার ভরা যৌবনে ছিল তার প্রেম নিবেদন এবং বসন্তের পূর্ণজোৎস্নায় 'আজি দুঃখের রাতে তোমার অভিসার' এ পরিত্রাতা ধারণ করলেন তার নিজস্ব দেবরূপ। তার জ্যোর্তিময় প্রভায় পুণ্যালোকে উদ্ভাসিত ও আলোকিত হলো বাসবদত্তার অন্তরাত্মা। বাসবদত্তা কি প্রেমিকের পবিত্র এ অভিসারের প্রতীক্ষায় ছিল।

ঝরিছে মুকুল কুজিছে কোকিল,

যামিনী জোছনামত্তা।

'কে এসেছো তুমি ওগো দয়াময়'

শুধাইল নারী, সন্যাসী কয়_

'আজি রজনীতে হয়েছে সময়,

এসেছি বাসবদত্তা।

(চলবে)

Additional Info

  • Image: Image