২৫৬১ বুদ্ধাব্দ ১৪ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭ইংরেজী
সোমবার, 30 মে 2016 02:32

গ্রন্থ পরিচিতি : অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়ার শ্রমনিষ্ঠা ও মেধার ফসল ‘রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম’

লিখেছেনঃ ইলা মুৎসুদ্দী

গ্রন্থ পরিচিতি : অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়ার শ্রমনিষ্ঠা ও মেধার ফসল ‘রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম’

লেখক, গবেষক, শিক্ষা প্রশাসক শিমুল বড়ুয়ার ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” শীর্ষক গবেষণাকর্ম বইটি পড়ে ফ্রান্সিস বেকনের স্মরনীয় উক্তি -‘কিছু বই আছে কেবল চেখে দেখার জন্য, কিছু বই আছে গলাধঃকরনের জন্য আর কিছু বই আছে একেবারে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবার জন্য’ আমাদের কাছে দিনের আলোর মত স্বচ্ছ হয়ে উঠে। স্বনামখ্যাত প্রগতিশীল মুক্তমনা লেখক, সাহিত্যিক অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া বই পিপাসু পাঠকদের জন্য উজার করে নিজের ভাবনার জগৎকে উন্মীলিত করে দিয়েছেন রবীন্দ্র চর্চায়। ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইটি একটি ঐতিহাসিক সংকলন।

রাজনীতি, শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া, যুদ্ধ,স্মৃতিকথা ও জীবনী, মনোজগত, সংস্কৃতি, দর্শন, সমাজ ও পরিবেশ বিষয়ক কিছু গ্রন্থ আছে যেগুলি এযাবৎ কালের মানব সভ্যতার ইতিহাসে কেবল অনন্য নজিরই স্থাপন করেনি, বরং এসব গ্রন্থের কারণে ইতিহাস রচিত হয়েছে নতুনভাবে। এসব অমূল্য গ্রন্থ পাল্টে দিয়েছে প্রকৃতিকে দেখার ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, বৃদ্ধি করেছে জানার পরিধি। নতুন করে রূপায়িত করেছে আমাদের ভাবনার জগত। লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক শিমুল বড়–য়া অনেক আগে থেকে রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে কাজ করছেন, নিরলসভাবে রবীন্দ্রচর্চার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিচ্ছেন । ইতোপূর্বে প্রকাশিত তাঁর ’করুণাঘন ধরণীতল কর কলংকশুণ্য’ গ্রন্থটিও পাঠক নন্দিত হয়েছে। তাঁর ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইতে উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ ব্যক্তিমানুষ, জাতিমানুষ ওবিশ্বমানুষের সমীকৃত প্রতিকৃতি। জাতিসত্তার কবিরূপে বহুলনন্দিত হয়েও রবীন্দ্রনাথ দৈশিক ও বৈশ্বিক মানব-অস্তিত্বের নান্দনিক ভাষ্যকার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে সকাল সন্ধ্যায় এমনভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন সকল কর্মে যেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবু আমরা সেই মহান মনীষীকে কতটুকুই বা জানি। আমাদের জানার পরিধি একে তো খুবই সীমিত তার উপর রবীন্দ্রচর্চা তো খুব কম সাহিত্যিক, গবেষকই করছেন। এতবড় মহান ব্যক্তিত্ব যিনি জন্ম না নিলে আমাদের বাংলাসাহিত্য সমৃদ্ধ হতো না, সেই রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য তাঁর ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। তাঁর গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনসমাজে শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে সার্বিক সমাজকল্যাণের তত্ত্ব প্রচার করতেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ কীর্তি তাঁর গান।

আমাদের জানার পরিধিকে আরো বিস্তৃতাকারে জানাতে শ্রদ্ধেয় লেখক শিমুল বড়–য়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা তাঁর গবেষণাধর্মী বই ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম”। বইটি প্রকাশ না করলে আমাদের জ্ঞানভান্ডার সীমিতই থেকে যেত চট্টগ্রাম ও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। আমি গর্ববোধ করি চট্টগ্রামের মানুষ হিসাবে যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ একসময় এই চট্টগ্রামে এসেছিলেন। যে কারণে চট্টগ্রাম সত্যিই ধন্য। আর বিষয়টি জানার সুযোগ করে দিয়েছেন লেখক মহোদয়। তিনি যদি শ্রমসাধ্য কাজটি যতেœর সাথে না করতেন তাহলে হয়তোবা কোনদিন জানতেই পারতাম না কবিগুরু চট্টগ্রামের আমন্ত্রণ অগ্রাহ্য করতে পারেননি। ১৯০৭ সালের ১৭ জুন রবীন্দ্রনাথ এসেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের একটি শাখা স্থাপিত হয়েছিল।

বৈচিত্রময় সংষ্কৃতিতে, প্রাকৃতিক অনাবিল সৌন্দয্যে ও ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রাম বরাবরই বিভিন্ন খ্যাতিমান, কৃতী মানুষদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বাংলা সাহিত্যের পুরোধা, এশিয়া মহাদেশের প্রথম নোবেল বিজয়ী, মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুরের সাথে চট্টগ্রামের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। সময়ের বিবর্তনে কালের পরিক্রমায় রবীন্দ্রনাথের সাথে চট্টগ্রামের হৃদ্যতা এবং আগমনের ইতিহাস ক্রমেই মুছে যাচ্ছিল। সেই মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে লেখক মহোদয় এর ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইটি দলিল স্বরূপ পাঠকসমাজে সমাদৃত হয়েছে।

”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইটির মাধ্যমে জানতে পারলাম ঃ পন্ডিত ধর্মরাজ বড়ুয়া প্রণীত ও প্রকাশিত হস্তসার ১ম ভাগ বইটি রবীন্দ্রনাথ প্রায় সময় নিজের কাছে রাখতেন। ’নটীর পূজা’ ও ’চন্ডালিকা’ নাটিকার অধিকাংশ মন্ত্র এই গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, চট্টগ্রাম শাখা রবীন্দ্র্রসাহিত্য নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে, সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের কৃতীসন্তান কবি ভাষ্কর শশাংকমোহন সেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় মুখপত্র সংঘশক্তি পত্রিকাটি তৎকালীন বৌদ্ধধর্ম-দর্শন বিষয়ে স্বনামধন্য লেখক, গবেষক, পন্ডিত বিদগ্ধজনদের লেখায় সমৃদ্ধ হয়ে প্রকাশ পেত। একসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে লেখা চেয়ে পত্র লেখা হয়েছিল। সংঘশক্তিকে তথা প্রজ্ঞালোক মহাস্থবিরকে রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিয়েছিলেন —”আপনি যে কাজে প্রবৃত্ত হইয়াছেন তাহা মহৎ। সিদ্ধিলাভ করিলে বঙ্গভাষা অলংকৃত হইবে। যদি অবকাশ পাই আপনার পত্রিকায় লেখা পাঠাব। কিন্তু অবকাশ অল্প।”

প্রখ্যাত শিল্পসমালোচক যামিনীকান্ত সেন যিনি ছিলেন চট্টগ্রামের সাংষ্কৃতিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ কমলাকান্ত সেনের ২য় পুত্র চট্টগ্রামে স্বদেশী আন্দোলনের অগ্রদূত নলিনীকান্ত সেনের অনুজ, লেখক তিনি স্বদেশী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যামিনীকান্ত যখন বি.এল ডিগ্রী অর্জন করে হাইকোর্টে ওকালতি পেশা শুরু করেন। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে এসে রবীন্দ্রনাথের আহবানে ওকালতি পেশা ছেড়ে দিয়ে বোলপুর ব্রক্ষ্মচর্যাশ্রমে শিক্ষকতা করেছিলেন। ৪০ বছরব্যাপী রবীন্দ্রনাথের সাথে যামিনীকান্ত সেনের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় জন্ম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, দেশপ্রিয় নামে সুপরিচিত যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল খুবই অপরিসীম। তার একটি ছোট্ট উদাহরণ যেমন একবার রবীন্দ্রনাথের স্বরচিত কবিতা পাঠের একটি অনুষ্ঠানে মেয়র যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের আসতে দেরী হয়েছিল। তখন রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ সবে শেষ হয়েছে। ”তবুও তিনি একটি ছোট চিরকুটে কবিকে অনুরোধ করলেন, যদি দয়া করে আর একবার ওঁর কবিতা পাঠ করেন। সহাস্য স্বীকৃতিতে কবি আবার উঠে দাঁড়ালেন। কলকাতার সাংষ্কৃতিক জীবনে সে এক অবিস্মরণীয় অপূর্ব সন্ধ্যা-যখন যতীন্দ্রমোহন আর বিশ্বকবি মিলিত হয়েছিলেন মহিমান্বিত পরিবেশে।”
চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সতীশরঞ্জন খাস্তগীর অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে পত্র যোগাযোগ স্থাপন করেন। যিনি শেষ জীবনে রবীণ্দ্রনাথের অমর কীর্তি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসকারী উপজাতীয় জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে সংখ্যায় চাকমারা হচ্ছে সর্ববৃহৎ। তারা বংশপরম্পরায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। চাকমা সাহিত্য-সংষ্কৃতিচর্চার গোড়াপত্তনে ও নারী শিক্ষার প্রসারে চাকমা রাজা নলিনাক্ষ রায়ে স্ত্রী রাজমাতা মহীয়সী নারী বিনীতা রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সেই রাজমাতা একবার একটি পত্রিকা বের করার পূর্র্বে কবিগুরুর প্রতি নামকরণের প্রত্যাশা করে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রত্যুত্তরে কবিগুরু উত্তরে লিখেছিলেন, ”তুমি তোমার পার্বত্যদেশের যা বর্ণনা দিয়েছ লোভ হয় যেতে। তোমার কাগজের নাম রাখতে পার ’গৈরিকা’।”

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জন্মজাত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের কনিষ্ঠজন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক আবুল ফজল কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে পত্র বিনিময় ছাড়াও কবিকে চাক্ষুষ দেখার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেছিলেন যখন রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরআমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। রবীন্দ্রনাথকে প্রথম চাক্ষুষ দেখে মুগ্ধ আবুলফজল তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন স্মৃতিচারণায় —-”এ সৌভাগ্য জীবনে ভুলবার নয়। স্মরণ হলো সঞ্জীবচন্দ্রের স্মরণীয় উক্তি: ”মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।” রবীন্দ্রনাথকে দেখার পর মনে হয়েছে সঞ্জীবচন্দ্র কিছুমাত্র অত্যুক্তি করেননি।
চট্টগ্রামের রাউজান থানার মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথের ¯েœহধন্য ব্যারিষ্টার ড. অরবিন্দ বড়–য়ার সাথে পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক, বিয়েতে ছিল রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী। ব্যারিষ্টার ড. অরবিন্দ বড়–য়া ১৯৩৪ সালে অবিভক্ত বাংলার বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য মনোনীত হন।

আরো আছেন উর্দুভাষী গল্পকার রাহাত আরা বেগম, জ্যোতির্ময়ী চৌধুরী, সাংবাদিক রাজনীতিবিদ লেখক লোকমান খান শেরওয়ানী, বিপ্লবী অগ্নিকন্যা কল্পনা দত্ত, উর্দুভাষী বাঙালি কবি আহসান আহমদ আশক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা প্রশাসক, লেখক মোহাম্মদ ফেরদাউস খান, রবীন্দ্রভক্ত গৃহবধূ ফিরদৌস আরা বেগম, শিক্ষক অনন্ত কুমার বড়ুয়া, ডিআইজি অব পুলিশ মামুন মাহমুদ সহ আরো অনেকের সাথে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ, সখ্যতা, সামাজিক বন্ধন সব মিলিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাথে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল তা ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইটিতে লেখকের পান্ডিত্যপুর্ণ নান্দনিক ছোয়ায়, সৃজনশীল গবেষণায় পাঠকদের সামনে সহজ সরলভাবে পরিষ্ফুট হয়েছে। সত্যিই মনোমুগ্ধকর অসাধারণ শ্রমসাধ্য গবেষণাধর্মী একটি বই পাঠকদের উপহার দেবার জন্য শ্রদ্ধেয় লেখকের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বইয়ে অমূল্য কিছু বিষয় সংযোজিত হয়েছে যা বইটিকে করেছে অনন্য। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের প্রপৌত্র শান্তিনিকেতনের পাঠভবনের সম্মানীত অধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঠাকুরের মুখবন্ধ প্রদান বইটির গুরুত্ব নিঃসন্দেহে বৃদ্ধি করেছে। আরেক মুখবন্ধকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত প্রফেসর (অবঃ) ভূঁইয়া ইকবাল যথার্থই বলেছেন —- ’বইটি তথ্যের বিপুলতায় ও বিন্যাসের অভিনবত্বে এবং বিষয়বস্তুর আকর্ষণীয়তায় সাধারণ পাঠকদের এবং বিশেষভাবে রবীন্দ্র্রানুরাগী পাঠকদের কাছে উপযুক্ত সমাদর লাভ করবে’।

আমার মতো একজন ক্ষুদ্র পাঠক এই বইয়ের বিশদ আলোচনা করার সামর্র্থ্য রাখে না। ক্ষুদ্র পরিসরে যৎসামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। পরিশেষে লেখক, সাহিত্যিক, অধ্যক্ষ শিমুল বড়–য়ার ”রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম” বইটি পাঠকদের রবীন্দ্রচর্চায় তথ্যের বিশালতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি। তাইতো কবির ভাষায় বলিঃ

বাহিরে যাহারে খুঁজেছিনু দ্বারে দ্বারে,
পেয়েছি ভাবিয়া হারায়েছি বারে বারে—
কত রূপে রূপে কত-না অলংকারে
অন্তরে তারে জীবনে লইব মিলায়ে,
ঊাহিরে তখন দিব তার সুধা বিলায়ে।

একটি ভাষা কখনও হয়ে ওঠে প্রশাসনের ভাষা, শিক্ষা ভাষা, সাহিত্যের ভাষা। শিমুল বড়ুয়ার প্রকাশিত সকল বই সবসময় উৎসাহী ও উজ্জীবিত, প্রতি মুহূর্তে নবীন ও ভবিষ্যৎমুখী। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০১২ সম্মাননায় ভূষিত শ্রদ্ধেয় লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়ার সুস্থ, নীরোগ দীর্র্ঘজীবন কামনা করছি এবং প্রত্যাশা করছি ভবিষ্যতে তিনি আরো অনেক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণামূলক বই পাঠক সমাজে উপহার দিবেন।

ইলা মুৎসুদ্দীঃ কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক।

Additional Info

  • Image: Image